Posts

Showing posts with the label প্রবন্ধ

মনকলা

হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী হেবা নিয়ে এক আইন করেছে। আইনটা অনেকটা এরকম যে যদু মধুকে একটা ক্যালা গিফট করলো। কিন্তু তার সাথে শর্ত জুড়ে দিলো যে ক্যালা-টা সে খেতে পারবে না। না মানে খেতে পারবে কিন্তু মনে মনে। এটাকে বলে মনকলা। বানগালী হাজার বছর ধরে এরকম মনকলা খেয়ে অভ্যস্ত। সে পাঁচ বছর পরপর চা-পানির বিনিময়ে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের মনকলা খায়। সে ধর্মহীন-বস্তিপট্টির পয়দাদের হাতে দেশ তুলে দিয়ে দেশের উন্নয়নের মনকলা খায়। এই মনকলা খাওয়া-টা বানগালীর সহজাত। ঠিক এ কারনেই সম্পত্তির মালিকানা বিক্রির পরও সেই সম্পত্তির ওপর সে খবরদারী করতে চায়। সে কারও ছারবেন নয়। সে লেনলঠ। সে বিগেডিয়ার হাবিলদার ডাক্তার। পাগলের ডাক্তার। সে নিজেও পাগল। উন্মাদ। অকাট। অপদার্থ। হীনজাত। আমেরিকান মানুষদের একটা উন্নত বৈশিষ্ট্য হলো যে সে তা-ই বলে যা বিশ্বাস করে। যা বলে তা-ই বোঝায়। কিন্তু বানগালী যা বিশ্বাস করে তা বলে না। যা বলে তা বোঝায় না। একজন আমেরিকানের নিকট ইয়েস মানে ইয়েস। কিন্তু একজন বাঙ্গালীর সম্মতি প্রায়শ বলপ্রয়োগ (coercion) কিংবা ছলচাতুরী (manipulation) ইত্যকার পারিপার্শ্বিক চাপের (peer pressure) বহি:প্রকাশ কেবল। একজন আমে...

আবুজর গিফারীর পথ

জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব নাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। কিন্তু আবেগ-অনুভূতির উর্দ্ধে উঠে মিলিটারী সমর্থিত  হুদা-সাখাওয়াত গং পিআলো-দিল্লী স্টারের উসকানীতে জামায়াতে ইসলামী ও মোটা দাগে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আদা-জল খেয়ে নামে। তখন তারা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করতে বাধ্য করে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট বিষয়টাই একটা ইসলাম বিরোধী প্রকল্প। কিন্তু তাদের এই ইসলামী বিরোধী প্রকল্প সেখানেই শেষ হয় নাই। বরং আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমে জামায়াতের যে সাংগঠনিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো তাকেও তারা বদলে দিতে বাধ্য করেছিলো। এর মধ্য দিয়ে শুধু ঐ দুই কুলাঙ্গারই নয় বরং তাদের পেছন থেকে যে মিলিটারী সর্বতোক্রমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারাও নিজেদের তাগুতি শক্তি অর্থাৎ ইসলাম বিরোধী শক্তি হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে উপস্থাপিত করেছিলো। আর আজ দুই যুগেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হবার পর বাংলাদেশে কুফর ও শেরেকের আঁতুড় ঘর আওমী জঠরে লালিত-পালিত সেনাপ্রধানের মুখে শুনতে হচ্ছে যে দেশ নাকি বেদাতে ভরে গিয়েছে। তিনি নামাজ-রোজার মতো আমাদের প্রাত্যহিক ধর্মীয় আচার সমূহেও বেদাত খুঁ...

জুলাই বনাম মুক্তিযুদ্ধের প্রলপন

'২৪ জুলাই আমার জন্য অনেক দিক দিয়ে শিক্ষনীয় ছিলো। আমি তথাকথিত "মুক্তিযুদ্ধ" দেখিনি। কিন্তু আমি '২৪ জুলাই দেখেছি। সেই দেখায় আমার মধ্যে '২৪ ও '৭১ এর একটা সমান্তরাল ইতিহাসের বোধ তৈরী হয়েছে। যেমন ধরুন ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত আমরা সাধারণ নাগরিকেরা যেমন বুঝতে পারিনি যে সত্য সত্যই আওমী মাফিয়া শাসনের বিলুপ্তি হতে যাচ্ছে তেমনি ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্তও কেউ ধারণাই করতে পারেনি যে পূর্ব-পাকিস্তান সত্য সত্যি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই কথা আমি বহু জনের মুখে শুনেছি। কিন্তু তখনও তা উপলব্ধি করতে পারিনি। কেননা জানা আর উপলব্ধি করবার মধ্যে পার্থক্য আছে। হয়তো এই ঘটনা কে (phenomen) এভাবেও প্রকাশ করা যায় যে এই অঞ্চলের রাজনীতি ও মানুষের মন এর আবহাওয়ার মতোই স্বত:পরিবর্তনশীল। জুলাইয়ের আরেকটি শিক্ষা হলো সংগ্রামের ন্যায্যতার সাথে তার বয়ানের সংগতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। যে কারনে জুলাই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যায় রুপান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় নি। এর পক্ষে বৈধতা উৎপদানের জন্য লাশের রাজনীতিও করা লাগেনি। সরকারী হিসেবে শুনলাম ছ-সাতশ জন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে বোধহয় পনেরোশ এর ম...

বাংলা ভাষার দেউলিয়াত্ব

বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করবার পথে সবচেয়ে বড়ো দুটো চ্যালেঞ্জের একটি হলো ভাষাগত আরেকটি হলো বুঝজ্ঞানের তফাৎগত। বাংলা ভাষায় বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ইতিহাস খুব একটা গৌরবজ্জ্বল নয়। আমার মতে অন্তত বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাংলা ভাষা অক্ষম। এই ভাষায় উচ্চমানের কাব্য ও সাহিত্য চর্চা হয়েছে সন্দেহ নেই। তবে তাও একটি নির্দিষ্ট ঘরানার। একটা নির্দিষ্ট ধাঁচের। খুব একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়। আর বর্তমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সভ্যতার চাহিদা মেটানো বাংলা ভাষার পক্ষে সম্ভব নয়। এর একটা প্রধান কারন হলো এই ভাষায় জ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির কোনটিই উৎপাদন হয় না। কাজেই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিদেশী ভাষা সমূহ বিশেষ করে ইংরেজীর ওপরই প্রধানত নির্ভরশীল। আমেরিকান পন্ডিতদের লেখা পড়লে মনে হয় যেনো এই কথাটাই, ঠিক এই চিন্তাটাই আমাদের মাথায় এতোদিন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। যা ভাষার দুর্বলতার কারনে প্রকাশ করতে আমরা ছিলাম অক্ষম। তারওপর বিদেশী পরিভাষা সমূহের বাংলা ভাষান্তর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো কাজ করে। যদিবা আপনি কোনমতে একটা ভাষান্তর করতে সক্ষমও হন তথাপি আপনার ভাষাভাষীরা সেটা বুঝবে না। কারন কেবল ভাষার ট্রান্সলেশনের (transl...

আমার শিক্ষকের মোল্লাগিরি এবং তারেকের মুফতীগিরি

আমার পার্সোনালিটির একটি বৈশিষ্ট্যহলো এই যে আমি বাই ডিফল্ট মানুষকে বিশ্বাস করি, সম্মান করি। যতোক্ষণ না তার বিশ্বাসঘাতকতা, নীচতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। এনরেজীতে বলে Fool me once, shame on you, fool me twice shame on me। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে একজন ঈমানদার কখনোই একই গর্ত দুইবার দংশিত হয়না। যখন কারও বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণিত হয়ে যায় তখন তা মেনে নেয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমি তখন সেই ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। এটা আমার যাপিত জীবনের একটা অত্যন্ত কমন কিন্তু পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা। কেননা এই দেশে হারামীর অভাব নেই। দুটো অভিজ্ঞতার বর্ণনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ইশকুলে আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন ছাত্রদের পেটাতে পেটাতে তাঁর হাঁপানি উঠে যেতো। এরপর দম ফিরে পেলে তিনি আবারও ছাত্র পেটানো শুরু করতেন এক পৈশাচিক উদ্যমে। আমি যেহেতু আল্লাহর রহমতে বাল্যকাল থেকেই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম সেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার একটা বড়ো প্রভাব আমার ওপর কাজ করতো। হাদীস শরীফের বরাতে একটা কথা প্রচলিত ছিলো যে শিক্ষার্থীর শরীরের যে স্থানে শিক্ষকের বেত্রাঘাত পড়ে সে স্থান বেহেশতে যায়। আমিও তা অন্তর দিয়ে ধারণ করতাম। কাজেই আমাদ...

রাজনীতির প্রকারভেদ

আমরা যে রাজনীতি দেখে, শুনে, বা পড়ে বড়ো হয়েছি তাকে মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। কিংগলি পলিটিকস (১)। সংগ্রামের রাজনীতি। বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি। বস্তিপট্টির রাজনীতি। তুরস্কের যুগান্তকারী নেতা এরদোগানের রাজনীতিকে কিংগলি পলিটিকস বলা যায়। একে ইসলামের সুলতানী-বাদশাহী আমলের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা কিংবা উত্তরাধিকারীও বলা যায়। মুসলমানদের কিংগলি পলিটিকস এর মৌল ভিত্তি হলো ইসলামী মানস। কিন্তু এর সাথে ইসলামিস্ট বা ইসলামবাদি রাজনীতির মূল পার্থক্যটা বোধহয় ত্বত্তগত বাঁধাহীনতায়। একজন রাজনৈতিক তাঁর রাজনীতিকে ত্বত্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার মধ্য দিয়ে তাঁর শত্রুদের নিকট তাঁর বিজয়যাত্রার ছক ফাঁস করে দেন। শত্রুরা তখন হিসেব কষে তাঁর যাত্রা পথের দূর্বলতম জায়গা গুলোতে ফাঁদ পেতে তাকে সহজে ধরাশয়ী করতে পারে। একজন কিংগলি পলিটিশিয়ান অবশ্যই নীতিবান কিন্তু কোনভাবেই ইডিওলজিক (২) নন। এই যে চব্বিশ উত্তর মুহতারামে আমীরে জামাত আওয়ামীদের ক্ষমা করে দেবার ঘোষণা দিয়ে তীব্র জনরোষের শিকার হলেন এটাকে আমি ইডিওলজিক রাজনীতির কুফল হিসেবই দেখি। এই নীতি আল-উস্তাদ সাইয়্যেদ আবুল আ'লা রহ: এঁর ঘোষিত নীতি। এখানে বর্তমান আমিরে জামাত এর...

সর্ষের মধ্যে ভূত এবং তার ওঝার খোঁজে

Image
    এবং লন্ডনী মুফতি ও তার দলের পরিণতিও তার চাইতে ভিন্ন কিছু হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই ভোট গনণার প্রাক্কালে যখন চারিদিকে জামায়াতের প্রার্থীদের জয় জয়কার, তখন লন্ডনী মুফতি বলেছিলেন যে, কোন ধরনের কারচুপি তারা মেনে নেবেন না। এর পরপরই কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গণনার ফলাফল সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি জিতে আসে। এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো ভোট কারচুপি করে হলেও এই দেশ শোষনের অধিকার শুধু মোক্তিজুদ্দের জায়গীরদারদেরই আছে। এটাই মোক্তিজুদ্দের চেতনা। ঠিক এই কারনেই মোক্তিজুদ্দ হয়েছিলো। আমরা যেটাকে উদরপন্থা বলে অভিহিত করেছিলাম। মাঝখান দিয়ে বেগম জিয়ার ত্যাগ তিতিক্ষা-কে পুঁজি করে যে মাদার অব ডেমিক্রেসির মতো তুচ্ছ ও সস্তা বয়ান ছাড়া হয়েছিলো তা স্রেফ ছিলো দেশের জনগণকে ঘোল খাওয়ানোর ধান্দা। আওয়ামীলিগের মতো বিএনপির রাজনীতি-ও যে জনপ্রতারণা নির্ভর তার সাক্ষ্য বিএনপির সাংসদেরা ইতিমধ্যে দিয়েছে খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে। এর চাইতে বড়ো দেশদ্রোহীতা আর হয় না। কিন্তু এটা সম্ভব হতো না যদি না মিলিটারী ও সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্র্যযন্ত্রের একটি অংশ এই জনদ্রোহী, দেশদ্রোহী অপকর্মে শামিল হ...

ইসলামের শিক্ষা বনাম শয়তানের শিক্ষা

Image
শয়তানের কর্মপদ্ধতির একটা হলো এই যে সে আদম সন্তানকে খোদাদ্রোহীতায় উস্কে দেয়। অপরাধ সংঘটনে তাকে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য মহান আল্লাহর আযীমাতের বিপরীতে রুখসাতের বিষয়টি মূখ্য করে তোলে। অত:পর আদম সন্তান যখন খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয় শয়তান-ই তাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের ব্যাপারে আশাহীন করে তোলে। আল্লাহর আযীমাত-টাই তখন হয়ে ওঠে মূখ্য। এটা একেবারেই ইসলামী শিক্ষার বিপরীত। ইসলামী শিক্ষা বলছে যখন মনে শয়তানের ওয়াসওয়াসা (১) আসে তখন মহান আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর শান-শওকত, কুউওত এর কথা স্মরণ করে ভীত হও। জাহান্নামের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শিহরিত হও। কিন্তু যদি তুমি শয়তানের ফেরেবে পড়েই যাও তবে যতো শীঘ্র সম্ভব মহান আল্লাহর নিকট ফিরে আসো। তওবা করো। এই অপরাধ থেকে বিরত হবার পণবদ্ধ হও। মহান আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করবেন। বাস্তবিক ইসলাম শেখাচ্ছে যে আদম সন্তানের পক্ষে এমন কোন অপরাধ করা সম্ভব নয় যা ক্ষমা করে দেবার সামর্থ মহান আল্লাহ রাখেন না। যদি সে পাহাড় সম অপরাধও করে থাকে তথাপি মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে সক্ষম। এজন্যই শেরেকের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি তওবা করে মহান আল্লাহ তা কবুল করেন। যদি অন্যের হক ন...

সংবিধানতন্ত্রের বুজরুকি

ফরাসী বিপ্লবের মাধ্যমে যে খোদাদ্রোহীতার সূচনা হয়েছিলো বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে তা এক রকমের চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন "পুরানা বন্দোবস্তের" বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলা "বিপ্লবীরা" নতুন বন্দোবস্তের খোদা বনে যাবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়। কেননা এটাই ধর্মীয় বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। কেউ একজন নবী হিসেবে আবির্ভূত হন। মানুষ তাঁর প্রদত্ত বিধানবলীকে ঐশ্বরিক জ্ঞান করে তা অনুযায়ী আমল করে। কিন্তু খোদায়ী বন্দোবস্তের কবর রচনার পর দেখা গেলো একেবারে মৌলিক সিদ্ধ-নিষিদ্ধ অর্থাৎ হালাল-হারামের বিষয়ে খোদ বিপ্লবীরাই এক হতে পারছেনা। তাছাড়া যে মনুষ্যকুল নবী-রসুলগণকে শরীয়ত প্রণেতা হিসেবে মান্যগন্য করে এসেছে তারা কেনো এমন সব ব্যক্তিদের প্রদত্ত আইন মান্য করবে যারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্ট জীবন-দর্শন, কালা-কানুনের ব্যাপারে সংশয়যুক্ত ও অনৈক্য? সুতরাং আদম সন্তান পয়দা হওয়ার মতো সংবিধানও পয়দা হয়ে গেলো। শুধু তাই নয় অনিবার্য যৌক্তিক কারনেই সংবিধান ও তথা-কথিত জাতি-রাষ্ট্র্যের ওপর খোদায়ী বৈশিষ্ট্য সমূহ আরোপ করা হলো। কিন্তু কথায় বলে না, ট্যাঁএঁএঁ করে জন্ম নিয়েও মানুষ হতে পারলাম না। তদ্রুপ সংবিধান ...

আকলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি

কথায় বলে যার নয় বছরে আক্কেল হয়না তার নব্বুই বছরেও আক্কেল হয়না। ইউএস-ইরান যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে তাদের শাসক শ্রেনীর একটা পুরো স্তর উড়ে গিয়েছে। তথাপি কিছু আরবদের ধারণা এগুলো সবই মঞ্চস্থ নাটক মাত্র। যে আরব শাসককুল কদিন আগেও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের নিমিত্তে প্রকাশ্য দহরম-মহরমে লিপ্ত ছিলো, এব্রাহাম একর্ড সহ রিয়াদে মাগী পার্টির আয়োজন করেছিলো তাদের ঘেঁটুপুত্রেরাই এখন ইরানের সাথে জায়নবাদীদের গুপ্ত ছলাকলার রগরগে গল্প ফাঁদায় ব্যস্ত। সন্দেহ নেই ইরানের সাথে ইউএসের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। অর্থাৎ প্রকাশ্য ঘটনাবলীর আলোকে পর্দার আড়ালে কৃত দেনদরবারের ধারণা করা অত্যন্ত দুরুহ। কিন্তু তাই বলে সবকিছুতে ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব আবিষ্কার করে বসাটা ব্যক্তি বিশেষের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈণতা বৈ তো কিছু নয়। সিরিয়ায় ডিসেম্বর'২৪ এর বিপ্লবের পর ইরানের প্যান-ইসলামিক মুখোশ খসে পড়ে তার সাম্প্রদায়িক কুৎসিত চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে। আমরা দেখেছি বিপ্লবের পরও বিগত দু দুটো বৎসর হেজবুল্লাহ কিভাবে সিরিয়ার ভেতর অপতৎপরতা জারী রেখেছে। আমরা দেখেছি ইরান কিভাবে সিরিয়ায় অনবরত ফিৎনা-ফাসাদ উস্কে দিয়ে এ...

আমেরিকার মাহাত্ব্য ও বানলাদের দেউলিয়াত্ব

আমেরিকানরা মহান জাতি এই কারনে নয় যে তারা সেখানকার প্রকৃত অধিবাসীদের হত্যা করে তাদের জায়গায় আবাস গড়েছে। যদিও দেশীয় বামাতি গুলো সেদিকেই সারাক্ষণ আঙ্গুল তাক করে থাকতে পারলে বাঁচে। ভাবখানা এমন যে কমুনিস্ট শাসনে কোন মানুষ মরে নাই। কমুনিষ্ট রাষ্ট্র সবাইকে বিরানি রেন্ধে খাওয়াইতো। আমেরিকানরা এ কারনেও মহান নয় যে তারা নগ্নতা-অশ্লীলতা প্রিয়। বরং তাদের মধ্যে এটা নতুন চল-ই বটে! ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকানরা অত্যন্ত রক্ষণশীল জাতি। অথচ একাংশ দেশীয় বুদ্ধিবেচির দাবী হলো যে বানগালীরা নাকি খুবই রক্ষণশীল জাতি। রক্ষা করবার কিছু থাকলেই না তবে সে রক্ষণশীল হবে। বারোভাতারির পয়দাদের আবার রক্ষণশীলতা কি? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে দেশে বুদ্ধি চর্চার জায়গীর নিয়ে বসা পান্ডাগুলো গোঁড়ামীকে রক্ষণশীলতার সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। বানলারা গোঁড়া, রক্ষণশীল নয়। আমেরিকানরা রক্ষণশীল, গোঁড়া নয়। আমেরিকানরা মহান কারন তারা পরিশ্রমী। আপনি যদি Strategy Game গুলো খেলেন, দেখবেন সেখানে প্রতিটি জাতির কিছু বিশেষ গুণাবলী ও দূর্বলতা আছে। আমেরিকা ও জর্মনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে তারা কঠোর পরিশ্রমী। এর মধ্যে আমেরিকানদের স্বাতন্ত্র হলো তারা উদ্যোগী (entreprene...

পরমতসহিষ্ণুতা

পরমত অসহিষ্ণুতার ব্যাপারে আমার সহোদর-সহপাঠীদের অভিযোগ বেশ পুরোনো। প্রথমে আমলে নিতাম না। কারন অন্যকে, অন্যের মতকে আমি যে আসলেই তুচ্ছজ্ঞান করিনা সে ব্যাপারে আমার ভেতর একধরনের প্রতীতি ছিলো। কিন্তু বেশকয়েকবার এমন অভিযোগ পাওয়ার পর আমার উপলব্ধি হলো যে এরা সবাই ভুল আর কেবল আমি সঠিক এমন হবার সম্ভাবনা কমই। তখন এ নিয়ে আমি চিন্তা-ভাবনা শুরু করলাম। আমার উপলব্ধি হলো যে জোশ-জজবার সাথে আমি নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং অন্যের মতকে খন্ডন করতে চাই নিশ্চই সেখান থেকেই এই ভুল ধারণার প্রতিষ্ঠা। আমি বিতার্কিক নই। তর্ক করা পছন্দ-ও করিনা। বাংলাদেশে ইশকুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাচাল-বেয়াদব বানাবার অনেক প্রক্রিয়া আছে। তার একটার নাম অন্ত: কিংবা আন্ত: ইশকুল বিতর্ক প্রতিযোগীতা। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেশের অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া দরকার। আসলে ভারতের সাথে সংগম করে পাওয়া দেশটার পুরো বন্দোবস্ত-ই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সে যাক। তর্ক আর আলোচনা এক নয়। কথায় বলে বিদ্বজ্জনের সভা হলে করে আলোচনা, মূর্খজনের পঞ্চায়েতে লাগে ঠনাঠনা। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেশের সংসদ। এ কারনেই জামায়াতে ইসলামীর লোক না হলে এখন আর কারোর-ই "বক্তিমার...

বাংলাদেশের আসন্ন সংকট ও তার সমাধানের সূত্র

বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীকার অর্জনের পথে ভবিষ্যতে কতোটুকু রক্তপাত ও ফিৎনা হবে, সময় ক্ষেপন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে দেশের মানুষের ওপরই। দেশের মানুষ যতো দৃঢ় ভাবে জামাতের নেতৃত্বে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে তাগুতি শক্তির পক্ষে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ততো মুশকিল হয়ে পড়বে। মুসলমানদের ঐক্য যতো সুদৃঢ় হবে তাগুতি শক্তির আক্রোশ ততো গুপ্ত থেকে প্রকাশ্য হতে থাকবে। এমনকি এক পর্যায়ে দেশেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশ্যে খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয়ে যাবে এবং কাফিরদের সহযোগিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠবে। এটাই গাযযাতে হয়েছে। অর্থাৎ আমার হিসেবে আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে তাগুতি শক্তি বিশৃঙ্খলা করে, গুজব সৃষ্টি করে সুবিধা করে উঠতে পারবেনা। কিন্তু ভারতের সহযোগীতায় এদেশীয় মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ ঠেকানোর তেমন কোন প্রস্তুতি আমাদের হাতে নাই। ২০০৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে হামাস যতোটুকু-ও বা সুযোগ পেয়েছিলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবার একাত্তুরের পর বাংলাদেশ সেটাও পায়নি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা সিরিয়ার মতো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। সিরিয়াতে তো তাও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর...

সবার জীবনে প্রেম আসে

ছাত্র শিবিরের জীবনেও প্রেম এসেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অন্তত আমি আশ্চর্য হই নাই। বরং আমাকে আশ্চর্য করেছে গণসচেতনতা। পাবলিক ডিসকোর্স। গেলো জুলাই'২৪ পর্যন্ত-ও এহেন ক্ষুরধার আলাপ চোখে পড়তো না। এটা আশা জাগানিয়া বটে! বিএনপির স্থানীয় একটি চক্রের বিরাগভাজন হয়ে শিবিরের "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" বিভাগের সদস্য জিসানের গুম হওয়া, ফোনে মুক্তিপণ দাবী, সেই ফোন নম্বর ট্র্যাক করে মুক্তিপণ দাবীকারীদের না ধরে উল্টো জিসানের বিরুদ্ধ মামলা দেয়া, গুম করে গিলতে না পেরে জনতার চাপে পড়ে জিসান কে ফেরতের নাটক, তার পরপরই অভিযোগ ও অভিযোগকারীর নাটকীয় আবির্ভাব, অভিযোগকারীকে খোদ তার পরিবার থেকেই বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্য দ্বারাই রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যাবার অভিযোগ, সর্বপোরি জিসান ও অভিযোগকারী-কে আইনজীবী ও সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা - এ সকল অসংগতি তুলে ধরতে পারাটা জনগণের একটা বড়ো সফলতা। মূলত এরকম কিছু যে হবে এটা ছিলো প্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যারা দিগবাজি করেছে তারাতো জানে ঘটনা সিরিয়াস! সুতরাং জামায়াতের এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে না ধ্বসাতে পার...