Posts

Showing posts with the label রাজনীতি

আবুজর গিফারীর পথ

জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব নাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। কিন্তু আবেগ-অনুভূতির উর্দ্ধে উঠে মিলিটারী সমর্থিত  হুদা-সাখাওয়াত গং পিআলো-দিল্লী স্টারের উসকানীতে জামায়াতে ইসলামী ও মোটা দাগে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আদা-জল খেয়ে নামে। তখন তারা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করতে বাধ্য করে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট বিষয়টাই একটা ইসলাম বিরোধী প্রকল্প। কিন্তু তাদের এই ইসলামী বিরোধী প্রকল্প সেখানেই শেষ হয় নাই। বরং আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমে জামায়াতের যে সাংগঠনিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো তাকেও তারা বদলে দিতে বাধ্য করেছিলো। এর মধ্য দিয়ে শুধু ঐ দুই কুলাঙ্গারই নয় বরং তাদের পেছন থেকে যে মিলিটারী সর্বতোক্রমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারাও নিজেদের তাগুতি শক্তি অর্থাৎ ইসলাম বিরোধী শক্তি হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে উপস্থাপিত করেছিলো। আর আজ দুই যুগেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হবার পর বাংলাদেশে কুফর ও শেরেকের আঁতুড় ঘর আওমী জঠরে লালিত-পালিত সেনাপ্রধানের মুখে শুনতে হচ্ছে যে দেশ নাকি বেদাতে ভরে গিয়েছে। তিনি নামাজ-রোজার মতো আমাদের প্রাত্যহিক ধর্মীয় আচার সমূহেও বেদাত খুঁ...

জুলাই বনাম মুক্তিযুদ্ধের প্রলপন

'২৪ জুলাই আমার জন্য অনেক দিক দিয়ে শিক্ষনীয় ছিলো। আমি তথাকথিত "মুক্তিযুদ্ধ" দেখিনি। কিন্তু আমি '২৪ জুলাই দেখেছি। সেই দেখায় আমার মধ্যে '২৪ ও '৭১ এর একটা সমান্তরাল ইতিহাসের বোধ তৈরী হয়েছে। যেমন ধরুন ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত আমরা সাধারণ নাগরিকেরা যেমন বুঝতে পারিনি যে সত্য সত্যই আওমী মাফিয়া শাসনের বিলুপ্তি হতে যাচ্ছে তেমনি ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্তও কেউ ধারণাই করতে পারেনি যে পূর্ব-পাকিস্তান সত্য সত্যি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই কথা আমি বহু জনের মুখে শুনেছি। কিন্তু তখনও তা উপলব্ধি করতে পারিনি। কেননা জানা আর উপলব্ধি করবার মধ্যে পার্থক্য আছে। হয়তো এই ঘটনা কে (phenomen) এভাবেও প্রকাশ করা যায় যে এই অঞ্চলের রাজনীতি ও মানুষের মন এর আবহাওয়ার মতোই স্বত:পরিবর্তনশীল। জুলাইয়ের আরেকটি শিক্ষা হলো সংগ্রামের ন্যায্যতার সাথে তার বয়ানের সংগতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। যে কারনে জুলাই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যায় রুপান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় নি। এর পক্ষে বৈধতা উৎপদানের জন্য লাশের রাজনীতিও করা লাগেনি। সরকারী হিসেবে শুনলাম ছ-সাতশ জন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে বোধহয় পনেরোশ এর ম...

আমার শিক্ষকের মোল্লাগিরি এবং তারেকের মুফতীগিরি

আমার পার্সোনালিটির একটি বৈশিষ্ট্যহলো এই যে আমি বাই ডিফল্ট মানুষকে বিশ্বাস করি, সম্মান করি। যতোক্ষণ না তার বিশ্বাসঘাতকতা, নীচতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। এনরেজীতে বলে Fool me once, shame on you, fool me twice shame on me। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে একজন ঈমানদার কখনোই একই গর্ত দুইবার দংশিত হয়না। যখন কারও বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণিত হয়ে যায় তখন তা মেনে নেয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমি তখন সেই ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। এটা আমার যাপিত জীবনের একটা অত্যন্ত কমন কিন্তু পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা। কেননা এই দেশে হারামীর অভাব নেই। দুটো অভিজ্ঞতার বর্ণনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ইশকুলে আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন ছাত্রদের পেটাতে পেটাতে তাঁর হাঁপানি উঠে যেতো। এরপর দম ফিরে পেলে তিনি আবারও ছাত্র পেটানো শুরু করতেন এক পৈশাচিক উদ্যমে। আমি যেহেতু আল্লাহর রহমতে বাল্যকাল থেকেই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম সেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার একটা বড়ো প্রভাব আমার ওপর কাজ করতো। হাদীস শরীফের বরাতে একটা কথা প্রচলিত ছিলো যে শিক্ষার্থীর শরীরের যে স্থানে শিক্ষকের বেত্রাঘাত পড়ে সে স্থান বেহেশতে যায়। আমিও তা অন্তর দিয়ে ধারণ করতাম। কাজেই আমাদ...

রাজনীতির প্রকারভেদ

আমরা যে রাজনীতি দেখে, শুনে, বা পড়ে বড়ো হয়েছি তাকে মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। কিংগলি পলিটিকস (১)। সংগ্রামের রাজনীতি। বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি। বস্তিপট্টির রাজনীতি। তুরস্কের যুগান্তকারী নেতা এরদোগানের রাজনীতিকে কিংগলি পলিটিকস বলা যায়। একে ইসলামের সুলতানী-বাদশাহী আমলের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা কিংবা উত্তরাধিকারীও বলা যায়। মুসলমানদের কিংগলি পলিটিকস এর মৌল ভিত্তি হলো ইসলামী মানস। কিন্তু এর সাথে ইসলামিস্ট বা ইসলামবাদি রাজনীতির মূল পার্থক্যটা বোধহয় ত্বত্তগত বাঁধাহীনতায়। একজন রাজনৈতিক তাঁর রাজনীতিকে ত্বত্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার মধ্য দিয়ে তাঁর শত্রুদের নিকট তাঁর বিজয়যাত্রার ছক ফাঁস করে দেন। শত্রুরা তখন হিসেব কষে তাঁর যাত্রা পথের দূর্বলতম জায়গা গুলোতে ফাঁদ পেতে তাকে সহজে ধরাশয়ী করতে পারে। একজন কিংগলি পলিটিশিয়ান অবশ্যই নীতিবান কিন্তু কোনভাবেই ইডিওলজিক (২) নন। এই যে চব্বিশ উত্তর মুহতারামে আমীরে জামাত আওয়ামীদের ক্ষমা করে দেবার ঘোষণা দিয়ে তীব্র জনরোষের শিকার হলেন এটাকে আমি ইডিওলজিক রাজনীতির কুফল হিসেবই দেখি। এই নীতি আল-উস্তাদ সাইয়্যেদ আবুল আ'লা রহ: এঁর ঘোষিত নীতি। এখানে বর্তমান আমিরে জামাত এর...

সর্ষের মধ্যে ভূত এবং তার ওঝার খোঁজে

Image
    এবং লন্ডনী মুফতি ও তার দলের পরিণতিও তার চাইতে ভিন্ন কিছু হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই ভোট গনণার প্রাক্কালে যখন চারিদিকে জামায়াতের প্রার্থীদের জয় জয়কার, তখন লন্ডনী মুফতি বলেছিলেন যে, কোন ধরনের কারচুপি তারা মেনে নেবেন না। এর পরপরই কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গণনার ফলাফল সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি জিতে আসে। এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো ভোট কারচুপি করে হলেও এই দেশ শোষনের অধিকার শুধু মোক্তিজুদ্দের জায়গীরদারদেরই আছে। এটাই মোক্তিজুদ্দের চেতনা। ঠিক এই কারনেই মোক্তিজুদ্দ হয়েছিলো। আমরা যেটাকে উদরপন্থা বলে অভিহিত করেছিলাম। মাঝখান দিয়ে বেগম জিয়ার ত্যাগ তিতিক্ষা-কে পুঁজি করে যে মাদার অব ডেমিক্রেসির মতো তুচ্ছ ও সস্তা বয়ান ছাড়া হয়েছিলো তা স্রেফ ছিলো দেশের জনগণকে ঘোল খাওয়ানোর ধান্দা। আওয়ামীলিগের মতো বিএনপির রাজনীতি-ও যে জনপ্রতারণা নির্ভর তার সাক্ষ্য বিএনপির সাংসদেরা ইতিমধ্যে দিয়েছে খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে। এর চাইতে বড়ো দেশদ্রোহীতা আর হয় না। কিন্তু এটা সম্ভব হতো না যদি না মিলিটারী ও সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্র্যযন্ত্রের একটি অংশ এই জনদ্রোহী, দেশদ্রোহী অপকর্মে শামিল হ...

আকলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি

কথায় বলে যার নয় বছরে আক্কেল হয়না তার নব্বুই বছরেও আক্কেল হয়না। ইউএস-ইরান যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে তাদের শাসক শ্রেনীর একটা পুরো স্তর উড়ে গিয়েছে। তথাপি কিছু আরবদের ধারণা এগুলো সবই মঞ্চস্থ নাটক মাত্র। যে আরব শাসককুল কদিন আগেও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের নিমিত্তে প্রকাশ্য দহরম-মহরমে লিপ্ত ছিলো, এব্রাহাম একর্ড সহ রিয়াদে মাগী পার্টির আয়োজন করেছিলো তাদের ঘেঁটুপুত্রেরাই এখন ইরানের সাথে জায়নবাদীদের গুপ্ত ছলাকলার রগরগে গল্প ফাঁদায় ব্যস্ত। সন্দেহ নেই ইরানের সাথে ইউএসের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। অর্থাৎ প্রকাশ্য ঘটনাবলীর আলোকে পর্দার আড়ালে কৃত দেনদরবারের ধারণা করা অত্যন্ত দুরুহ। কিন্তু তাই বলে সবকিছুতে ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব আবিষ্কার করে বসাটা ব্যক্তি বিশেষের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈণতা বৈ তো কিছু নয়। সিরিয়ায় ডিসেম্বর'২৪ এর বিপ্লবের পর ইরানের প্যান-ইসলামিক মুখোশ খসে পড়ে তার সাম্প্রদায়িক কুৎসিত চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে। আমরা দেখেছি বিপ্লবের পরও বিগত দু দুটো বৎসর হেজবুল্লাহ কিভাবে সিরিয়ার ভেতর অপতৎপরতা জারী রেখেছে। আমরা দেখেছি ইরান কিভাবে সিরিয়ায় অনবরত ফিৎনা-ফাসাদ উস্কে দিয়ে এ...

বাংলাদেশের আসন্ন সংকট ও তার সমাধানের সূত্র

বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীকার অর্জনের পথে ভবিষ্যতে কতোটুকু রক্তপাত ও ফিৎনা হবে, সময় ক্ষেপন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে দেশের মানুষের ওপরই। দেশের মানুষ যতো দৃঢ় ভাবে জামাতের নেতৃত্বে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে তাগুতি শক্তির পক্ষে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ততো মুশকিল হয়ে পড়বে। মুসলমানদের ঐক্য যতো সুদৃঢ় হবে তাগুতি শক্তির আক্রোশ ততো গুপ্ত থেকে প্রকাশ্য হতে থাকবে। এমনকি এক পর্যায়ে দেশেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশ্যে খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয়ে যাবে এবং কাফিরদের সহযোগিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠবে। এটাই গাযযাতে হয়েছে। অর্থাৎ আমার হিসেবে আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে তাগুতি শক্তি বিশৃঙ্খলা করে, গুজব সৃষ্টি করে সুবিধা করে উঠতে পারবেনা। কিন্তু ভারতের সহযোগীতায় এদেশীয় মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ ঠেকানোর তেমন কোন প্রস্তুতি আমাদের হাতে নাই। ২০০৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে হামাস যতোটুকু-ও বা সুযোগ পেয়েছিলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবার একাত্তুরের পর বাংলাদেশ সেটাও পায়নি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা সিরিয়ার মতো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। সিরিয়াতে তো তাও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর...

সবার জীবনে প্রেম আসে

ছাত্র শিবিরের জীবনেও প্রেম এসেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অন্তত আমি আশ্চর্য হই নাই। বরং আমাকে আশ্চর্য করেছে গণসচেতনতা। পাবলিক ডিসকোর্স। গেলো জুলাই'২৪ পর্যন্ত-ও এহেন ক্ষুরধার আলাপ চোখে পড়তো না। এটা আশা জাগানিয়া বটে! বিএনপির স্থানীয় একটি চক্রের বিরাগভাজন হয়ে শিবিরের "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" বিভাগের সদস্য জিসানের গুম হওয়া, ফোনে মুক্তিপণ দাবী, সেই ফোন নম্বর ট্র্যাক করে মুক্তিপণ দাবীকারীদের না ধরে উল্টো জিসানের বিরুদ্ধ মামলা দেয়া, গুম করে গিলতে না পেরে জনতার চাপে পড়ে জিসান কে ফেরতের নাটক, তার পরপরই অভিযোগ ও অভিযোগকারীর নাটকীয় আবির্ভাব, অভিযোগকারীকে খোদ তার পরিবার থেকেই বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্য দ্বারাই রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যাবার অভিযোগ, সর্বপোরি জিসান ও অভিযোগকারী-কে আইনজীবী ও সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা - এ সকল অসংগতি তুলে ধরতে পারাটা জনগণের একটা বড়ো সফলতা। মূলত এরকম কিছু যে হবে এটা ছিলো প্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যারা দিগবাজি করেছে তারাতো জানে ঘটনা সিরিয়াস! সুতরাং জামায়াতের এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে না ধ্বসাতে পার...

উদরপন্থা: যে কথা হয়নি বলা

একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধানের জবানবন্দী অনুযায়ী খোদ তাঁর পক্ষ থেকে মিলিটারীর খুনী অফিসার জিয়ার প্রমোশনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিরুদ্ধাচারণ স্বত্তেও মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড আওমী পান্ডাদের হুমকির মুখে নিজেদের চাকুরী বাঁচাতে কিংবা প্রমোশন নিশ্চিত করতে জিয়ার প্রমোশনের অনুমোদন দিয়েছিলো। এটা যদি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা না হয় তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা কোনটা? যাদেরকে দেশের মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রশিক্ষিত করলো, অস্ত্রশস্ত্র কিনে দিলো, এমনকি সেই অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের নীতি পর্যন্ত তাদের জন্য শিথিল করে দিলো এই উদ্দেশ্যে যে তারা যেনো দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু ভারতকে পরাস্ত করে দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পারে, তারা ভারত দুর থাক ভারতের এদেশীয় কিছু চ্যালাচামুন্ডার হুমকিতেই কাইত হয়ে গেলো। তাও একজন নয়, দুজন নয়। পুরো একটা মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড! অথচ এখনও পর্যন্ত বলা হচ্ছে যে এদের পেছনে আরও বেশী খরচ করলে নাকি এরা ভারতকে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। অনেক ঢিশুম ঢিশুম করবে। কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর আমরা পাইনি তা হলো এই যে ভারত যদি এতোই খারাপ হয়ে থাকে তাহলে একাত্তুরে তাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র...

উদরপন্থা

যারা বলছেন হাদীকে ভারত হত্যা করেছে তাদের হিসাব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। ভারতই যদি হাদিকে হত্যা করতো তাহলে তার প্রধানতম কারন হতো হাদিকে ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করা। হাদি অন্তত সেই পর্যায়ের নেতা ছিলোনা। সেই হিসেব করলে হাদির আগে জামাত-শিবিরের কমসেকম হাজার খানেক নেতার নাম চলে আসে বলে আমার ধারণা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে হাদিকে সেই কারনেই ভারত হত্যা করেছে তাহলে তার জন্য দুইটা পথ ছিলো। এক হত্যার পরপরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তার দায় নিয়ে দেশের মানুষের ভেতর ভীতিরসঞ্চার করা। দুই হত্যার মধ্য দিয়ে নীরবে তাদের পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়া। কিংবা বড়জোর সেই হত্যার সূত্রে দেশের অভ্যন্তরেই তাদের শত্রুদের অর্থাৎ জামাতের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। এখন আমাকে বলেন ভারত হাদীকে "মেটিকিউলাস ডিজাইন" করে হত্যা করবার পরও হত্যাকারী বিজেপির প্রতিপক্ষ মমতার প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়ে গেলো এবং এরপর বিজেপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হলো - এটা কি হিসেবে মেলে? একমাত্র তখনই এটা গ্রহণ করা যায় যদি ধরে নেই যে এটি খাশোগজি হত্যার মতো একটি আনাড়ি পরিকল্পনা। আমার দৃঢ় ধারণা হাদীর প্রধান হত্য...

বামাতি নিরাজ্যবাদের ইউটোপিয়া

Image
প্রাক্তন শাহবাগী ফ্রান্স পলাতক চীনপন্থি-বামাতি পিনাকীর একটি সাম্প্রতিক ভিডিও দেখলাম। তার শিরোনাম 'বাংলাদেশে আরেক বিপ্লব আসন্ন'। শিরোনামের সাথে কোন দ্বিমত নাই। তবে এতে যা বলা হয়েছে তা দুশ্চিন্তার বৈকি! প্রথমত আমাদের এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করা দরকার যে, কোন ব্যক্তির কর্মের ফয়সালা ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ ব্যতিরেকে অসম্ভব। প্রশ্ন হলো পিনাকীর পরিচয় কি? এই প্রশ্ন আমরা আগেও করেছিলাম। আমরা এটাও দেশের মানুষকে স্মরণ করে দিয়েছিলাম যে পিনাকীর আত্ম-স্বীকৃতি অনুযায়ী তার পপুলিস্ট বাগাড়ম্বর তার বামাতি রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বিশেষ। যা বাস্তবায়নের প্রশ্নে তার পূর্বের বামাতি কমরেডদের সাথে তার বনিবনা না হওয়ায় তিনি তার দল থেকে বেরিয়ে যান। সেই হিসেবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইসলামী মানসের ধারণ তার বামাতি প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ। গোলটা বেঁধেছে এই খানে যে আবেগি ও সরল প্রকৃতির বাঙ্গালি মুসলমান পিনাকীর এই ধর্মীয় বাগাড়ম্বর-কে ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে বসে আছে। কিন্তু তার বক্তব্য ও মানসে বামাতি চিন্তাধারার বিষ সুস্পষ্ট। এর মধ্যে সব চাইতে ভয়ংকর নিদর্শন হলো নিরাজ্যবাদী ধ্যানধারণার উপস্থিতি। নিরাজ্...

'২৬ এর নির্বাচনের অন্য হিসেব

জামায়েতে ইসলামীর তরুন নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন বিএনপির সাথ জোট করে তাদের অপকর্মের দায়ভার নিতে জামায়াত আর ইচ্ছুক নয়। অতীতের দিনগুলোতে জামায়াত বিএনপি-কে বিজয়ী করে আসলেও এখন আর সেই পুরনো বন্দোবস্তে তাদের কোন আগ্রহ নাই। মাসুদ ভাইয়ের এই আলাপে আমার উপলব্ধি হলো যে, '২৬ এর নির্বাচন-কে এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেও পুনর্মূল্যায়ন করবার যথেষ্ঠ সুযোগ আছে। বিগত দশকের শুরুতে আওয়ামী প্রতাপ-প্রতিপত্তির সময়টাতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের নির্বাচনে কার্চুপির পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ মানুষ ইসলামপন্থী বা জামায়াতে ইসলামের সমর্থক। সেই হিসেবে একথা বলবার সুযোগ আছে যে বাংলাদেশে দুইটা প্রধান রাজনৈতিক ধারা। একটা মুক্তিযুদ্ধ পন্থী, আরেকটা ইসলামপন্থী। একটা সংকীর্ণ বাঙ্গালী নৃতাত্তিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আরেকটা বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভাতৃত্ববোধের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথম ধারার রাজনীতির আতুড়ঘর হলো হিন্দুত্ববাদী বামপন্থা। তার বিকাশ ও সফল পরিণতি হয়েছে আওয়ামীলিগের দ্বারা। দ্বিতীয় ধারার রাজনীতির প্রস্তাবক ও সংগঠক উভয়ই জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এখা...

খান সাহেব

Image
        খান সাহেবের জন্য বেশ খারাপ লাগে। বহুদিন পর পাকিস্তান একজন জনগণের নেতা পেয়েছিলো যিনি তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসা। ইমরান খান প্রমাণ করেছিলেন যে রাজনৈতিক পরিবারে না জন্মেও কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করেও রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। খান সাহেবের আরও বিশেষত্ব এই যে তিনি সাধারণ সিভিলিয়ান নন। তিনি খেলোয়াড় থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। তদ্রুপ যে কোন পেশা এমনকি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেও একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো এই যে "রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে হবে"। সারাজীবন সরকারী তনখা টেনে সুযোগ মতো স্বার্থোদ্ধারের নিমিত্তে পেটিকোট খুলে উদ্দাম নৃত্য দিলেই রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্যের যেসক রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেছিলেন তাদের মধ্যে এই রুপান্তর দেখা যায়। এ কারনে তাঁদের বক্তৃতা-বিবৃতি, কর্মপদ্ধতিতে সিভিলিয়ান মানস ফুটে ওঠে। তথাপি তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকে প্রচ্ছন্ন। অর্থাৎ রাজনীতিবিদ এ রুপান্তর ব্যক্তি বিশেষের পেশাগত অতীতের বিস্মৃতিকে আবশ্যক করে না বরং জনমানসের ছাঁচে তাকে করে তোলে পরিশীলিত। এ কারনে একেক জন্য রাজনীতিবিদ একেক ধরনের বৈশ...