ইসলামের শিক্ষা বনাম শয়তানের শিক্ষা
শয়তানের কর্মপদ্ধতির একটা হলো এই যে সে আদম সন্তানকে খোদাদ্রোহীতায় উস্কে দেয়। অপরাধ সংঘটনে তাকে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য মহান আল্লাহর আযীমাতের বিপরীতে রুখসাতের বিষয়টি মূখ্য করে তোলে। অত:পর আদম সন্তান যখন খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয় শয়তান-ই তাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের ব্যাপারে আশাহীন করে তোলে। আল্লাহর আযীমাত-টাই তখন হয়ে ওঠে মূখ্য। এটা একেবারেই ইসলামী শিক্ষার বিপরীত। ইসলামী শিক্ষা বলছে যখন মনে শয়তানের ওয়াসওয়াসা (১) আসে তখন মহান আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর শান-শওকত, কুউওত এর কথা স্মরণ করে ভীত হও। জাহান্নামের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শিহরিত হও। কিন্তু যদি তুমি শয়তানের ফেরেবে পড়েই যাও তবে যতো শীঘ্র সম্ভব মহান আল্লাহর নিকট ফিরে আসো। তওবা করো। এই অপরাধ থেকে বিরত হবার পণবদ্ধ হও। মহান আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করবেন। বাস্তবিক ইসলাম শেখাচ্ছে যে আদম সন্তানের পক্ষে এমন কোন অপরাধ করা সম্ভব নয় যা ক্ষমা করে দেবার সামর্থ মহান আল্লাহ রাখেন না। যদি সে পাহাড় সম অপরাধও করে থাকে তথাপি মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে সক্ষম। এজন্যই শেরেকের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি তওবা করে মহান আল্লাহ তা কবুল করেন। যদি অন্যের হক নষ্টকারী ব্যক্তি হকদারের পাওনা শোধ করে দেয় তখনও মহান আল্লাহ তার অবাধ্যতার ইতিহাস অগ্রাহ্য করেন। এমনকি অনেক আলিম একথাও বলেছেন যদি বান্দার পক্ষ থেকে প্রকৃত অনুশোচনা-তওবার লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন তার অক্ষমতাকে মহান আল্লাহ আপন কুদরতে পুষিয়ে দিতে সক্ষম। যেমন ধরুন কেউ অন্যের হক নষ্ট করলো। অত:পর তার মধ্যে এ নিয়ে প্রকৃত অনুশোচনা তৈরী হলো। সে চাইলো হকদার ব্যক্তির পাওনা ফেরত দেবার। কিন্তু দেখা গেলো হকদার ব্যক্তির খোঁজ না পাওয়ায় সেই সম-পরিমাণ অর্থ সে কল্যাণকর কোন খাতে ছেড়ে দিলেও প্রকৃত হকদারের হক আদায় করতে ব্যর্থ হলো। কিংবা দেখা গেলো সকলের পাওনা পরিশোধ করতে করতে সে নিঃশেষ হয়ে গেলো তথাপি সকলের হক সে ফেরত দিতে সমর্থ হলো না। তখনও মহান আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুবহা-নাল্লাহ! সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো এই যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহদের পরস্পরের অধিকার লঙ্ঘনে হস্তক্ষেপ না করবার যে অঙ্গিকার তার ব্যত্যয় না ঘটিয়ে কি করে এর প্রতিবিধান করা সম্ভব? যদিও প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট, তিনি কি করবেন তা তিনিই ভালো জানেন, তথাপি আলিমরা আলোচনা করছেন যে হতে পারে মহান আল্লাহ তওবাকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার পাওনাদারদের এতো ঐশ্বর্য দান করবেন যে তা পেয়ে খুশী হয়ে তারা নিজ থেকে তাদের অধিকারের দাবী তুলে নেবে। এক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো প্রকৃত অনুশোচনার উপস্থিতি। সেক্ষেত্রে এমন কথাও বলা হয়েছে যে মহান আল্লাহ এমন কি বান্দার অতীত কৃত পাপ সমূহকে পূন্যে পর্যন্ত পরিবর্তন করে দিতে পারেন। ওয়াহুয়া আ'লা- কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর! এখানেই শয়তান ও তার অনুসারীদের কাজ আর ইসলাম ও তার অনুসারীদের কাজের পার্থক্য। জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা কোটার এমপির যে "স্খলন" এর বিষয়-টি সামনে এসেছে তার প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলামে যে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে তার যথার্থতা-ই যে পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই সত্য-টা কিন্তু জামাত বিরোধী পক্ষের অধিকাংশ-ই মানবে না। এটাই শয়তানী কর্মপন্থা। আদম সন্তানকে অপরাধমুখী করে তুলবার সমস্ত বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করার পর হীনস্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে সেই অপরাধের জন্যই তাকে দায়ী করা। এই শয়তানী প্রবণতা বিশ্বজনীন। ট্রাম্প এর যৌন কেলেঙ্কারীকে কেন্দ্র করে মার্কিন ডেমোক্র্যাট-লিবারেরল মিডিয়ার যেই আস্ফালন তাতে মনে হয় যেনোবা যুক্তরাষ্ট্র্যের নাগরিকদের ছোটবেলা থেকেই ইসলাম শেখানো হয়। অনেক পর্দা-পুশিদা শেখানো হয়। বীরব্রত-শৌর্য্য (chivarly) শেখানো হয়। ট্রাম্প এর কর্মকান্ডে বুঝিবা সেই শিক্ষা-সংস্কৃতির ই অবমাননা হয়েছে! যেদেশে অবাধ ও বিকৃত যৌনাচারের চর্চা রাষ্ট্র্য শুধু অনুমোদন নয় বরং উৎসাহিত করে সেই দেশের মিডিয়া কি করে এমন ব্রাক্ষণ সূলভ করতে পারে? তদ্রুপ ডাকসুর নির্বাচিত শিবির নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্দাঘেরা ক্যাফেটারিয়ার বন্দোবস্ত করা নিয়েও তারাই বেশী ক্ষুব্ধ যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটার জামাতি এমপির কথিত স্খলণের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী উচ্চকিত। অথচ প্রকাশিত আলামত অনুযায়ী যদি তার সম্পর্ক-টি বিবাহ বহির্ভূত-ও হয়ে থাকে তথাপি এটি জেনা নয় বরং সাধারণভাবে ফাহাশার অন্তর্ভূক্ত যার জন্য হদ্দ কার্যকর নয়। উল্টো যদি এটা স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর চরিত্রহনন মূলক অপরাজনীতির অংশ হয়ে থাকে, যদি উক্ত নারী সত্যিই সেই ব্যক্তির বিবাহিত স্ত্রী হয়ে থাকেন তবে ইসলামী আইন শাস্ত্র মতে অভিযোগকারী কাযাফের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধে দুষ্ট। যার জন্য হদ্দ প্রযোজ্য। পাঠক আমরা যে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রযুক্তিগত ডিস্টোপিয়ার আসন্ন ভয়াবহতা নিয়ে লিখে এসেছি, ধর্মহীন-বস্তিজাতদের ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে বলে এসেছি, বাংলাদেশীদের মাঝে হিন্দুয়ানি মানসের সংকট নিয়ে বলে এসেছি, মুক্তিযোদ্ধা কোটার জামাতি এমপি কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনায় তার প্রতিটি-ই, এবং আবারও বলি, তার প্রত্যেকটি-ই পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তিগত ডিসটোপিয়ার বিষয়টি একারনেই প্রাসঙ্গিক যে ধীরে ধীরে যে কোন কারও যে কোন অডিও-ভিডিও ছেড়ে দিয়ে তার সাথে মনমতো একটা গালগপ্পো জুড়ে দিয়ে লোক ক্ষেপিয়ে যেকোন স্বার্থান্ধ গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ সিদ্ধির করে নিতে সচেষ্ট হবে। যে প্রচেষ্টা আমার একাত্তুর পরবর্তী সময়েও দেখেছি। টিক্কা খানের সাথে মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের ছবি দিয়ে এমন একটা পরিবেশ তৈরী করা হয়েছিলো যেনো মনে হয় একাত্তুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশ চালাতো। অধ্যাপক সাহেব একাই তিন লাখ মানুষ মারা ও আড়াই লাখ "বীরাঙ্গণা" উৎপাদন সহ সব যুদ্ধঅপরাধ করেছিলেন। অথচ পরবর্তীতে দেখা গেলো যুদ্ধোত্তর পাকিস্তান গমন পূর্বক টিক্কা খানের সাথে মজিবরের করমর্দনরত হাস্যোজ্জ্বল ছবি!
ধর্মহীন-বস্তিজাতদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারটি প্রাসঙ্গিক হয়েছে রাষ্ট্র্য শাসনে অক্ষমতা ও রাজনৈতিকজ্ঞানের অনুপস্থিতির অভাবে। যদি জুলাই'২৪ এর পরও সেই বস্তিপট্টির ইতরদের হাতেই ক্ষমতা থেকে না যেতো তাহলে একই ঘটনায় রাষ্ট্র্য তার প্রতিষ্ঠান সমূহের আপন শক্তিতে অন্যায়ের প্রতিবিধানে সচেষ্ট হতো। যার মূল লক্ষ্য থাকতো সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠা। অডিও-ভিডিও ফাঁসের মতো বস্তিসূলভ চোগলখুরি কর্মকান্ডে লিপ্ত হতোনা। অথবা বাঙ্গালীর যৌন হতাশা কিংবা যৌন সুড়সুড়ি প্রবণ মানসিকতাকে পুঁজি করে ধর্মহীনদের মতো অপরাজনীতির দ্বারস্থ হতে হতো না। হিন্দুয়ানি মানসের সংকটের বিষয়টি এসেছে কেননা এতে প্রমাণ হয়েছে যে এই ছাব্বিশ সালে এসেও বাঙ্গালী "মুসলমানের" মধ্যে যৌনতার বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর-ট্যাবু হিসেবেই বিদ্যমান রয়ে গেছে। যে দেশে পুত্রের জন্য কন্যা দেখতে গিয়ে পিতা-চাচা-ভাতিজা-বন্ধুবরেরা কন্যা ভাগিয়ে নিয়ে যাবার অহরহ ঘটনা সমাজে চাউর আছে সেই দেশেই অন্যের "যৌন কেলেংকারীর" বিষয় সামনে আসলে পুরো সমাজ এমন একটা ভাব ধরে মনে হয় যেনো সে জানে না বাবুরা কোথা থেকে আসে? মানে পুরো আইবুড়ো জাতির বয়স এসব ঘটনায় এসে বায়ো-তেয়ো হয়ে যায়। তবে একথা সত্য যে বিশ্বাসভঙ্গ (breach of trust) একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ। বিশেষত ধর্মীয়-রাজনৈতিক-রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী-পরিচয় গুলোর একটা প্রচ্ছন্ন বিশ্বাসমূলক ভিত্তি থাকে। যার লঙ্ঘন একটা গুরুতর অপরাধ। কেননা তার ফলে সমাজের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকট তৈরী হয়। যার অনিবার্য পরিণতি সমাজ-রাষ্ট্র্যের বিলুপ্তি। কাজেই সেই প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠবার ন্যায্যতা অনস্বীকার্য। কিন্তু নাগরিকদের সেই স্বাভাবিক ক্ষোভ-কে পুঁজি করে দু:শাসন ও অপরাজনীতির প্রচেষ্টা যে আরও অধিকতর বিপদজনক, আরও ভয়াবহ রাষ্ট্র্য-সমাজ বিধ্বংসী কাজ সেটাও আমাদের উপলব্ধি করা উচিত। কেননা তাতে সমস্যার পুঁজিকরণ (capitalization) করা হয়। আর সমস্যাই যখন পুঁজি হয়ে ওঠে তখন তার সমাধান কি করে প্রত্যাশা করা যেতে পারে?
১ ধর্মহীন-খোদাহীন সেকুলার পন্ডিতগণ আবার এর নাম দিয়েছেন Impulsive Thought! কারন ওয়াসওয়াসা মেনে নিলে যে গায়েবের অস্তিত্ব মেনে নিতে হয়।