আমেরিকার মাহাত্ব্য ও বানলাদের দেউলিয়াত্ব

আমেরিকানরা মহান জাতি এই কারনে নয় যে তারা সেখানকার প্রকৃত অধিবাসীদের হত্যা করে তাদের জায়গায় আবাস গড়েছে। যদিও দেশীয় বামাতি গুলো সেদিকেই সারাক্ষণ আঙ্গুল তাক করে থাকতে পারলে বাঁচে। ভাবখানা এমন যে কমুনিস্ট শাসনে কোন মানুষ মরে নাই। কমুনিষ্ট রাষ্ট্র সবাইকে বিরানি রেন্ধে খাওয়াইতো। আমেরিকানরা এ কারনেও মহান নয় যে তারা নগ্নতা-অশ্লীলতা প্রিয়। বরং তাদের মধ্যে এটা নতুন চল-ই বটে!

ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকানরা অত্যন্ত রক্ষণশীল জাতি। অথচ একাংশ দেশীয় বুদ্ধিবেচির দাবী হলো যে বানগালীরা নাকি খুবই রক্ষণশীল জাতি। রক্ষা করবার কিছু থাকলেই না তবে সে রক্ষণশীল হবে। বারোভাতারির পয়দাদের আবার রক্ষণশীলতা কি? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে দেশে বুদ্ধি চর্চার জায়গীর নিয়ে বসা পান্ডাগুলো গোঁড়ামীকে রক্ষণশীলতার সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। বানলারা গোঁড়া, রক্ষণশীল নয়। আমেরিকানরা রক্ষণশীল, গোঁড়া নয়।

আমেরিকানরা মহান কারন তারা পরিশ্রমী। আপনি যদি Strategy Game গুলো খেলেন, দেখবেন সেখানে প্রতিটি জাতির কিছু বিশেষ গুণাবলী ও দূর্বলতা আছে। আমেরিকা ও জর্মনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে তারা কঠোর পরিশ্রমী। এর মধ্যে আমেরিকানদের স্বাতন্ত্র হলো তারা উদ্যোগী (entrepreneurial)। আর জর্মনদের স্বাতন্ত্র হলো তারা উদ্ভাবক (inventive)। আমেরিকার মাহাত্ম হলো যে বিশ্বযুদ্ধের পর তারা জর্মন বিজ্ঞানীদের তাদের দেশে একীভূত (integrate) করেছে। এ কারনেই এতো বছর পর এসেও আমেরিকার মিসাইল প্রযুক্তিতে ভেয়ারনের ফন ব্রাউনের অবদানের কথা জর্মনরা বারবার স্মরণ করিয়ে খোঁটা দিচ্ছে।

অর্থাৎ আমেরিকার মাহাত্ম হলো তাবৎ বিশ্বের সেরা সম্পদ (resource) গুলোকে নিজ দেশে একত্র করে কাজে লাগানো। আমেরিকার উদ্ভাবন তাড়িত যে ব্যবসা খাত তার শক্তিটাও সেখানে। আমি জীবনে যতোগুলো প্রডাক্টের কল্পনা করেছিলাম তার প্রায় সবগুলো নিয়েই কোন না কোন আমেরিকান কোম্পানীকে কাজ করতে দেখেছি। দুইটা উদাহরণ দেই।

পদার্থবিজ্ঞান পড়বার সময় যখন বুঝলাম যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল সূত্র হলো টারবাইন ঘোরানো। যে টারবাইন বিদ্যুৎ উৎপদান করে ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশনের সাহায্যে। সহজ কথায় তারের কাছে চুম্বক নিয়ে নড়াচড়া করলে বিদ্যুৎ তৈরী হয়। কেননা চুম্বক তারের ভেতর থাকা ইলেক্ট্রনকে প্রভাবিত করে। আর বিদ্যুৎ হলো ইলেকট্রনের প্রবাহ বা চলাচল। তো মূল কথা হলো টারবাইন ঘোরানো। এটা আপনি স্রোতস্বিনী নদীর সাহায্যে করেন, বাতাসের ঝাপটা দিয়ে ঘোরান কিংবা নিজ হাতে ঘোরান বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়াটাই আল্লাহর নিয়ম।

কিন্তু নিজের হাতে ঘুরিয়ে কতোটুকুই বা আর বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়? তবে প্রাত্যহিক জীবনে মানুষ অনেক কায়িকশ্রম করে যার সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এর একটা সহজ উদাহরণ হলো খেলাধুলা কিংবা জিম ওয়ার্কআউট। জিমে ট্রেডমিলে হাঁটা কিংবা সাইক্লিং এ কিন্তু আপনি একটা শক্তি ব্যয় করছেন যার দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব। কল্লনা করুন ঘড়ির গিয়ার হুইলের মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে এমন যান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরী করা সম্ভব কিনা যার এক প্রান্তে ব্যায়াম করবার চাকা (sprocket) অন্য প্রান্তে টারবাইন ঘুরাবার চাকা।

আমি যখন এই পরিকল্পনার কথা আমার এক অধ্যাপককে বললাম তিনি হেসেই উড়িয়ে দিলেন। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকায় তখন তা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখা গেলো ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানী ঠিক এই ধারনা নিয়েই কাজ করছে তখন স্বজাতীয়দের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা, আস্থাহীনতা তৈরী হলো।

এপার্টমেন্ট বিল্ডিং এ বসবাসের অভিজ্ঞতায় আমার মনে বাতাসের গতি ও সূর্যালোকের দিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ঘূর্ণায়মান বিল্ডিং এর ধারণা তৈরী হয়। পরবর্তীতে দেখলাম এ নিয়েও আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের কাজ আছে বহু দিন যাবৎ।

মূল যে কথা-টা বলতে চাই তা হলো, যে ঘেঁটুর বানগালী একটা বুলু পাসপোর্টের জন্য আম্রিকায় যেয়ে আবাল পয়দা দেয় তার পক্ষে আমেরিকান সভ্যতার উচ্চতা সম্পর্কে ধারণা করা অসম্ভব। বড়ো জোর সেখানকার কিছু নামকরা কোম্পানীর চাকুরী সে বাগাতে পারবে কেবল। আর ঠিক এ কারনেই এই দেশের জনমানস অন্ধ মার্কিন প্রেম কিংবা বিতৃষ্ণার পেন্ডুলামে আটকে পড়েছে।

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন