সবার জীবনে প্রেম আসে

ছাত্র শিবিরের জীবনেও প্রেম এসেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অন্তত আমি আশ্চর্য হই নাই। বরং আমাকে আশ্চর্য করেছে গণসচেতনতা। পাবলিক ডিসকোর্স। গেলো জুলাই'২৪ পর্যন্ত-ও এহেন ক্ষুরধার আলাপ চোখে পড়তো না। এটা আশা জাগানিয়া বটে! বিএনপির স্থানীয় একটি চক্রের বিরাগভাজন হয়ে শিবিরের "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" বিভাগের সদস্য জিসানের গুম হওয়া, ফোনে মুক্তিপণ দাবী, সেই ফোন নম্বর ট্র্যাক করে মুক্তিপণ দাবীকারীদের না ধরে উল্টো জিসানের বিরুদ্ধ মামলা দেয়া, গুম করে গিলতে না পেরে জনতার চাপে পড়ে জিসান কে ফেরতের নাটক, তার পরপরই অভিযোগ ও অভিযোগকারীর নাটকীয় আবির্ভাব, অভিযোগকারীকে খোদ তার পরিবার থেকেই বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্য দ্বারাই রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যাবার অভিযোগ, সর্বপোরি জিসান ও অভিযোগকারী-কে আইনজীবী ও সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা - এ সকল অসংগতি তুলে ধরতে পারাটা জনগণের একটা বড়ো সফলতা। মূলত এরকম কিছু যে হবে এটা ছিলো প্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যারা দিগবাজি করেছে তারাতো জানে ঘটনা সিরিয়াস! সুতরাং জামায়াতের এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে না ধ্বসাতে পারলে, জামাত-কে জনগণ থেকে পূর্বের মতো বিচ্ছিন্ন করতে না পারলে যে তারা বাংলাদেশ কে গিলতে পারবেনা এই বুঝজ্ঞান তাদের আছে। সুতরাং এমন আরও নাটক ও অপচেষ্টা হবে। এটা আমরা নির্বাচন পূর্ব সময়টাতেও দেখেছি। জামাতের নেতার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ-কে জানিয়েই একটা বড়ো অংকের অর্থ পরিবহণের ঘটনা-কে পুঁজি করে কিভাবে নাটক করা হলো তা তো দেশবাসী দেখেছে। তাই বলি জনগণ যদি সচেতন থাকে তাহলে দেশবিরোধী অংশ-টা সফল হতে পারবে না। ঠিক যেমন গাযযাতে সফল হতে পারেনি। এমনকি গণহত্যা চালাবার পরও হামাস থেকে গাযযাবাসীকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। কারন গাযযাবাসী জানে যে হামাসের পরাজয় মানে তাদের পরাজয়। তদ্রুপ জামাতের পরাজয় মানেই যে জনগণের পরাজয় - সেই সচেতনতা পাবলিকের মধ্যে থাকতে হবে। এই সচেতনতার প্রথম ভিত্তি হলো এই বুঝজ্ঞান যে ইসলামের শত্রুরা জামাতকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই বাংলাদেশ দাদাবাবুদের ভোগে চলে যাবে। তখন শুধু জামাতের বিনাশন ই হবেনা, এমনকি শুধু বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় জনগোষ্ঠীকেই বধ করা হবেনা বরং সেকুলার ও অন্যান্য ধর্মালম্বী নাগরিকদের মধ্যেও যারা সৎ জীবন দর্শনে বিশ্বাসী, সৎ জীবন যাপনে বিশ্বাসী তাদেরকেও নিগ্রহ-শোষণের স্বীকার হতে হবে যার আলামত আমরা বিগত আওমী আমলের ১৭ বছর প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা দেখেছি যে কিভাবে সেকুলার ঘরানার সজ্জন হিসেবে পরিচিত নাগরিকেরাও একে একে আওমীদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এর মূল কারণ হলো একটি জনগোষ্ঠীর ওপর অবৈধ কর্তৃত্ব জারী করবার মতো লাভজনক প্রজেক্ট আর নাই। এটাই উপনিবেশবাদ। আর উপনিবেশোত্তর প্রেক্ষাপটে এটাই রাজনীতি কিংবা জীবন দর্শন হিসেবে চর্চা করছে জনগণের মধ্যকার একটি ধর্মহীন-হীনজাত-স্বার্থান্ধ অংশ। আর ইসলাম এই জাতীয় লোকদের চক্ষুশূল ঠিক এই কারনেই যে ইসলাম দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করে যে মানুষের ওপর মহান আল্লাহ ছাড়া আর আরও কর্তৃত্ব চলতে পারে না। চলতে দেয়া হবেনা। এই চলতে না পারা-টা হলো কলেমার স্বীকৃতি। আর চলতে না দেয়াটাই জিহাদ।‌ জনসচেতনতার দ্বিতীয় মৌলিক ভিত্তি হলো ন্যায়বিচারের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন। অপরাধী সে যেই হোক সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ায় তা প্রমাণ সাপেক্ষে তার উপযুক্ত শাস্তির বিধান করা। তবে তা যেমন নির্ভর করে মানুষের নৈতিকতা বোধ ও ন্যায়বিচার বোধের ওপর, তেমনি নির্ভর করে সেই বোধ বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। এক্ষেত্রে জাতিগত ভাবে আমাদের ঘাটতি প্রবল। আমরা মুখে বলি যে পাপী-কে নয় পাপ-কে ঘৃণা করো। কিন্তু সেই পাপী-টা যদি জামায়াত হয় তখন পাপী বধে উন্মত্ত হয়ে যাই। যারা জামায়াত-কে নিজেদের অস্বিত্বের জন্য হুমকি স্বরুপ বলে বিবেচনা করে তারা এইটা করতে পারে। কিন্তু পাবলিকের উচিত হবেনা এই ফাঁদে পড়া। না হলে ক্ষতি-টা পাবলিকেরই হবে বেশী। এই দুইয়ের যদি মিল করতে পারেন তাহলে শত্রুপক্ষ সফল হবে না ইনশাল্লাহ।

মনে রাখবেন,

জামাত-শিবির শেষ, তো ইসলাম শেষ।
জামাত-শিবির শেষ, তো মুসলমান শেষ।
জামাত-শিবির শেষ, তো বাংলাদেশ শেষ।

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন