বাংলাদেশের আসন্ন সংকট ও তার সমাধানের সূত্র

বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীকার অর্জনের পথে ভবিষ্যতে কতোটুকু রক্তপাত ও ফিৎনা হবে, সময় ক্ষেপন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে দেশের মানুষের ওপরই। দেশের মানুষ যতো দৃঢ় ভাবে জামাতের নেতৃত্বে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে তাগুতি শক্তির পক্ষে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ততো মুশকিল হয়ে পড়বে। মুসলমানদের ঐক্য যতো সুদৃঢ় হবে তাগুতি শক্তির আক্রোশ ততো গুপ্ত থেকে প্রকাশ্য হতে থাকবে। এমনকি এক পর্যায়ে দেশেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশ্যে খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয়ে যাবে এবং কাফিরদের সহযোগিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠবে। এটাই গাযযাতে হয়েছে। অর্থাৎ আমার হিসেবে আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে তাগুতি শক্তি বিশৃঙ্খলা করে, গুজব সৃষ্টি করে সুবিধা করে উঠতে পারবেনা। কিন্তু ভারতের সহযোগীতায় এদেশীয় মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ ঠেকানোর তেমন কোন প্রস্তুতি আমাদের হাতে নাই। ২০০৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে হামাস যতোটুকু-ও বা সুযোগ পেয়েছিলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবার একাত্তুরের পর বাংলাদেশ সেটাও পায়নি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা সিরিয়ার মতো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। সিরিয়াতে তো তাও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় তারা সিরিয়ান বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করেছিলো। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র পাকিস্তান আর তুরস্ক ছাড়া আর কোন মুসলমান দেশের তেমন কোন ঠেকা নাই। পাকিস্তানের ঠেকা ভারতের বিরুদ্ধে। তুরস্কের ঠেকা পূর্ব-তুর্কিস্থান কেন্দ্রিক চীনা দমন নীতির বিরুদ্ধে। সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যরেরই দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে একটি বিচ্ছিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র্য। কাজেই অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র্যসমূহ চাইলেই সাহায্য পাঠাতে পারবে এমনও নয়। সেক্ষেত্রে অবধারিতভাবে বাংলাদেশ পড়ে যাবে চীনের খপ্পরে। চীনের খপ্পরে পড়লে কি হয় তা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পরিণতি দেখে আমরা অনুমাণ করতে পারি। দুনিয়া বিচ্ছিন্ন যে জান্তা সরকারের লাইফ লাইন ছিলো চীন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জান্তা সরকারকে সেই চীন এমন কোন সহযোগিতা করে নাই যাতে তার নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে পারে। বরং যুদ্ধরত প্রতিটি গোষ্ঠীর থেকেই চীন তার নিজের স্বার্থ আদায় করে নিচ্ছে। চীনা নেতৃত্বের দূরদর্শীতার প্রশংসা করতেই হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিনের গুণগ্রাহী। তাঁর মার্কসবাদী ধর্মহীন জীবন দর্শনের অবশ্যই বিরোধী কিন্তু স্ব-জাতির সংগ্রামকে ধারণ করবার আত্মপ্রত্যয় ও সফলভাবে সেই সংগ্রাম নেতৃত্ব দেয়ায় তাঁর যোগ্যতা প্রশ্নাতীত। অপরদিকে দেশীয় উল্লকুগুলোকে দেখুন। একবার ভারতের হয়ে পাকিস্তানকে মারে আবার ভারতকে মারার জন্য চীন-পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করে। কিন্তু মুখে বলে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চায়না। তারা শাদিন-সংগম করতে চায়। তারা অনেক সংগমী জাতি! এসব উল্লুকদের পেছনে বাংলাদেশের মুসলমানেরা ঘুরে অনেক সময় ও শ্রম নষ্ট করেছে। এখন তাদের উচিত জামায়াতে ইসলামের পেছনে দ্বিধাহীন চিত্তে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এতে রক্তপাত কম হবে। সময়ও বাঁচবে। প্রতিপক্ষের (ভারত) সাথে একটা নিয়ন্ত্রিত সংগ্রামে (managed conflict) লিপ্ত হওয়া যাবে। এবং ইনশাল্লাহ এই পথে মুসলমানদের বিজয় সুনিশ্চিত।

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন