Posts

খান সাহেব

Image
        খান সাহেবের জন্য বেশ খারাপ লাগে। বহুদিন পর পাকিস্তান একজন জনগণের নেতা পেয়েছিলো যিনি তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসা। ইমরান খান প্রমাণ করেছিলেন যে রাজনৈতিক পরিবারে না জন্মেও কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করেও রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। খান সাহেবের আরও বিশেষত্ব এই যে তিনি সাধারণ সিভিলিয়ান নন। তিনি খেলোয়াড় থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। তদ্রুপ যে কোন পেশা এমনকি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেও একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো এই যে "রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে হবে"। সারাজীবন সরকারী তনখা টেনে সুযোগ মতো স্বার্থোদ্ধারের নিমিত্তে পেটিকোট খুলে উদ্দাম নৃত্য দিলেই রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্যের যেসক রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেছিলেন তাদের মধ্যে এই রুপান্তর দেখা যায়। এ কারনে তাঁদের বক্তৃতা-বিবৃতি, কর্মপদ্ধতিতে সিভিলিয়ান মানস ফুটে ওঠে। তথাপি তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকে প্রচ্ছন্ন। অর্থাৎ রাজনীতিবিদ এ রুপান্তর ব্যক্তি বিশেষের পেশাগত অতীতের বিস্মৃতিকে আবশ্যক করে না বরং জনমানসের ছাঁচে তাকে করে তোলে পরিশীলিত। এ কারনে একেক জন্য রাজনীতিবিদ একেক ধরনের বৈশ...

ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব

আমার লেখালেখির কয়েটি মৌলিক প্রতিপাদ্য হলো ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব প্রবণ মানস কাঠামোর খন্ডন। তাতে কতোটুকু সক্ষম হয়েছি আল্লামালুম। তবে জাতীয় পরিস্থিতি দেখে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছিনা। বাংলাদেশের সকল প্রকার ষঢ়যন্ত্রতত্ত্বিক মানসের দুইটা মুল উপাদান ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের ব্যাপারটা সর্বজনীন। পাকিস্তানের ব্যাপারটা কেবল ভারতীয় সেবাদাস আওমী মানসেই সীমিত। অর্থাৎ প্রথমটা বাস্তবিক। দ্বিতীয়টা বায়বীয়। প্রথমটা কার্যত। দ্বিতীয়টা সৃষ্ট। কিন্তু সকল প্রকার ষঢ়যন্ত্রতত্ত্বের মূল সমস্যা হলো দায় এড়াবার প্রবণতা। এ কারনেই পিলখানার ঘটনাকে আমি "বিয়োগান্তক" (ট্র্যাজেডি) কিংবা "অন্তর্ঘাতমূলক" (স্যাবোটাজ) হিসেবে দেখবার বদলে অব্যবসায় (unseasoned) কিংবা বিদ্রোহ (mutiny) হিসেবেই দেখি। যেখানে মানুষের দায় থাকেনা তাকেই ট্র্যাজেডি বলে। যেখানে অন্যের দায় থাকে তাকে স্যাবোটাজ বলে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় সব সমস্যা পদ্ধতিগত (systematic)। পিলখানার ঘটনাকে যদি স্যাবোটাজ হিসেবে ধরেও নেয়া হয় তথাপি তাতে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সমূহের দায় মোচন হয় না। এইযে তাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটা অঘটন ঘটানো হলো এটা কি তাদের প...

ডাল মে কুছ কালা হ্যায়

বিগত নির্বাচনের ক্ষণিক পূর্বেই যখন হুজুরপট্টির ধান্ধাবাজগুলো কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধ করবার সমাবেশ আয়োজন করলো তখনই মন বলছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। পিলখানা বিদ্রোহের পর কয়েক বছর পর্যন্ত সারা দেশের রাজনৈতিক ময়দানে একটা গুমোট ভাব বিরাজ করছিলো। জামায়াতের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সময় রাজনৈতিক কার্যক্রমও প্রায় সীমিত হয়ে গিয়েছিলো। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে খুব সম্ভবত খতমে নবুওয়্যতের ব্যানারে কোন একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে সমাবেশের আয়োজন করে। তখনও আমার মনে ডাক দিয়েছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। জুলাই'২৪ পরবর্তীতে স্বঘোষিত ঘেরান মুফতি গাবগাছি পীর নিজেই ঐ কার্যক্রমের কৃতিত্ব দাবী করেছিলো। সুতরাং আমি চাচ্ছিলাম না যে হুজুরপট্টির এইসব বাটপারদের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে জামায়াত যোগদান করুক। কেননা কাদিয়ানী ইস্যুতে নেতৃত্বের প্রধান হকদার জামায়াতে ইসলামী। এই ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে লিখিত কিতাব, 'কাদিয়ানিকি মাসলাহা' রচনা ও তৎপরবর্তী জনবিক্ষোভের সময়ে সৃষ্ট সহিংসতার দায়ে ফাঁসিয়ে আইয়্যুবের সময় আল-উস্তাদ আল-ইমাম সাইয়্যেদ আবুল আ'লা-কে ফাঁসী...

The danger of fringe sectarianism and the trio of Shuyukh that can act as a protection

Growing up, my spiritual struggles were no different than many other Muslims who struggled to reconcile between the world around them vs the world that their religion i.e., Islam, presents to them. Between the person that their religion want them to be vs the person that their world let them to be. One peculiar response to that challenge was trying to separate one's spiritual life from that of one's worldly life. That ended up transfiguring Islam merely into a religion of rituals only practiced at designated places and at particular intervals and otherwise ignored altogether. It is at that crucial moment of my life that I was blessed to come to know of Sayyid Abul 'Ala Mawdudi rh:. Had it not been for Al-Ustadh Al-Imam Abul 'Ala I think I would have turned away from Islam altogether. Because the alternatives were worse than none. It was mostly Deobandi or Barelvi chicanery in one form or the other. Hardly any people with a rational mind could hold onto that. But God ble...

গাযযার খলিল হায়া বনাম বাংলার বেহায়া

গত বছরের শেষের দিকে তথাকথিত যুদ্ধ-বিরতি চুক্তির দেন দরবারের সময় খবর রটেছিলো যে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত দৌত্যক টম বারাক হতবাক হয়েছিলেন যখন তিনি দেখলেন যে দেনদরবারের কোন পর্যায়েই হামাসের প্রতিনিধি দলের নেতা খলিল আল-হাইয়া হামাসের যোদ্ধা হিসেবে রাফাহ-তে আটকে পড়া তাঁর একমাত্র জীবিত সন্তানের জীবন রক্ষার ব্যাপারে কোন দাবী-দাওয়া পেশ করছেন না। আজ সেই সন্তানেরও শাহাদতের খবর বের হলো। এই সে-ই হামাস যাদের সম্পর্কে বিগত তিনটি বৎসর যাবৎ আরব শাসকদের ঘেঁটুপুত্রেরা কুৎস রটনা করে যাচ্ছিলো এই বলে যে গাযযায় যখন গণহত্যা চলছে তখন হামাসের নেতৃবৃন্দগণ নাকি তুরস্কের ফাইভ স্টার হোটেলে মৌজ-ফূর্তি করে বেড়াচ্ছেন! এ যেনো আওমী আমলের শুরুর দিকে তুরস্ক ও এরদোগানের বিরুদ্ধে কুৎস রটানোর অপকৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। মরহুম নিজামী সাহেবের বিচারিক হত্যাযজ্ঞের পর যখন মান্যবর প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাঁর স্বভাবসূলভ অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরুপ বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তখন তিনি ভারতীয় হিন্দুদের সেবাদাস, "মুক্তিযুদ্ধের" নেতৃত্বদানকারী আওমীদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। তুরস্ক ও এরদোগানের প্রতি আওমীরা...

বাংলাদেশের ভবিষ্যত, ইসলামপন্থার ভবিষ্যত: প্রেক্ষাপট '২৬ এর এলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং

Image
অনেকেই জিজ্ঞেস করেন ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠা পরবর্তী জামায়াতে ইসলামীর অর্জন কি? আমার মনে হয় '২৬ এর নির্বাচনের পূর্বাপর পরিস্থিতির বিশ্লেষণে এর একটা জুতসই উত্তর বিদ্যমান। এই নির্বাচনে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ কিভাবে জামাতের প্রতি তাদের সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। আজ থেকে দশ বছর আগেও ক'জন ভাবতো যে মিডিয়ার রঙ্গিণ জগতের নায়িকারা প্রকাশ্যে জামাতকে সমর্থন করবে? দেশ-বিদেশে সেকুলার জীবনে অভ্যস্ত স্বল্প-বসনা নারীরা জামাতের সংগ্রামের সাথে অকুন্ঠ চিত্তে সমর্থন জ্ঞাপন করবে? অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসাররা প্রকাশ্যে জামাতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে? বাম ঘরানার রথী-মহারথীরা জামাতের বিজয়ের জন্য প্রাণাতিপাত করবে? বিএনপির মতো এতো বড়ো দলের প্রবীণ নেতাদেরও জামাত তো বটেই এমনকি জুলাই'২৪ এর নাবালক নেতাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্যও কারচুপির আশ্রয় নিতে হবে? ইতিপূর্বে বাংলাদেশে ইসলাম ও শরীয়তের আলাপ আর কোন নির্বাচনে এতো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পেরেছিলো? কি মনে হয়? এসব একদিনে এমনিতেই হয়ে গেছে? না। এটাই ঐ '৪১ সাল থেকে শুরু করে ৮৪ বৎসরের সংগ্রামের ফসল। এবং আমার মনে হচ্ছে এই নির্বাচন বলে দিচ্ছে যে এই সংগ...

হাঁটাহাঁটি

Image
একসময় ধানমন্ডি লেকে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতাম। দশ চক্কর। গুগল ম্যাপের হিসেবে ৬.৪ কিলোমিটার। হাঁটতাম খুবই দ্রুত গতিতে। হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলিয়ে ফেলতাম। কখনো কখনো রক্তপানিও জমে যেতো। একটা ভালো কেডসের গুরুত্ব সম্পর্কে তখনও হুঁশ হয় নাই। যখন হুঁশ হলো তখন বেশ ভালো দামের একটা কেডস কিনে জয়বাংলা হয়ে গেলাম। মারো মুঝে মারো। আমি জীবনে যতো কেডস কিনেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলো বাটা কোম্পানীর একটা জুতো। মাঝ খানে ক'বছর সেটা বাজার থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিলো। কবে যেনো দেখলাম আবার ফিরে এসেছে। বাটার কেডস কেনার জন্য বেরিয়ে এপেক্সের স্যান্ডেল কিনে নিয়ে আসলাম। কিএক্টাবস্থা! এপেক্স থেকে যে কয়টা জুতো আমি কিনেছি, মারা খেয়েছি। পায়ে ফোস্কা পড়ে। সহজে ছিঁড়ে যায়। একবার হলো কি বৃষ্টির জ্যামে মোটরবাইকে বসে আছি। হঠাৎ পায়ে পানির স্পর্শ অনুভূত হওয়ায় ভালো করে তাকিয়ে দেখি জুতোর তলা ফেঁড়ে হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ঐ যে একটা গান আছেনা, আহা কি বিস্ময়ে দেখছো তু-মি আমায়!  ওরকম অবস্থা। কিন্তু তারপরও এপেক্স কিনলাম কেনো সেটাই প্রশ্ন। শুনেছি বাটা এহুদীদের কোম্পানী। সেটা কি কারন হতে পারে? এপেক্স কাদের কোম্পানী? যদি আওমী কিংবা ভারত...