Posts

আবুজর গিফারীর পথ

জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব নাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। কিন্তু আবেগ-অনুভূতির উর্দ্ধে উঠে মিলিটারী সমর্থিত  হুদা-সাখাওয়াত গং পিআলো-দিল্লী স্টারের উসকানীতে জামায়াতে ইসলামী ও মোটা দাগে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আদা-জল খেয়ে নামে। তখন তারা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করতে বাধ্য করে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট বিষয়টাই একটা ইসলাম বিরোধী প্রকল্প। কিন্তু তাদের এই ইসলামী বিরোধী প্রকল্প সেখানেই শেষ হয় নাই। বরং আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমে জামায়াতের যে সাংগঠনিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো তাকেও তারা বদলে দিতে বাধ্য করেছিলো। এর মধ্য দিয়ে শুধু ঐ দুই কুলাঙ্গারই নয় বরং তাদের পেছন থেকে যে মিলিটারী সর্বতোক্রমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারাও নিজেদের তাগুতি শক্তি অর্থাৎ ইসলাম বিরোধী শক্তি হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে উপস্থাপিত করেছিলো। আর আজ দুই যুগেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হবার পর বাংলাদেশে কুফর ও শেরেকের আঁতুড় ঘর আওমী জঠরে লালিত-পালিত সেনাপ্রধানের মুখে শুনতে হচ্ছে যে দেশ নাকি বেদাতে ভরে গিয়েছে। তিনি নামাজ-রোজার মতো আমাদের প্রাত্যহিক ধর্মীয় আচার সমূহেও বেদাত খুঁ...

জুলাই বনাম মুক্তিযুদ্ধের প্রলপন

'২৪ জুলাই আমার জন্য অনেক দিক দিয়ে শিক্ষনীয় ছিলো। আমি তথাকথিত "মুক্তিযুদ্ধ" দেখিনি। কিন্তু আমি '২৪ জুলাই দেখেছি। সেই দেখায় আমার মধ্যে '২৪ ও '৭১ এর একটা সমান্তরাল ইতিহাসের বোধ তৈরী হয়েছে। যেমন ধরুন ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত আমরা সাধারণ নাগরিকেরা যেমন বুঝতে পারিনি যে সত্য সত্যই আওমী মাফিয়া শাসনের বিলুপ্তি হতে যাচ্ছে তেমনি ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্তও কেউ ধারণাই করতে পারেনি যে পূর্ব-পাকিস্তান সত্য সত্যি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই কথা আমি বহু জনের মুখে শুনেছি। কিন্তু তখনও তা উপলব্ধি করতে পারিনি। কেননা জানা আর উপলব্ধি করবার মধ্যে পার্থক্য আছে। হয়তো এই ঘটনা কে (phenomen) এভাবেও প্রকাশ করা যায় যে এই অঞ্চলের রাজনীতি ও মানুষের মন এর আবহাওয়ার মতোই স্বত:পরিবর্তনশীল। জুলাইয়ের আরেকটি শিক্ষা হলো সংগ্রামের ন্যায্যতার সাথে তার বয়ানের সংগতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। যে কারনে জুলাই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যায় রুপান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় নি। এর পক্ষে বৈধতা উৎপদানের জন্য লাশের রাজনীতিও করা লাগেনি। সরকারী হিসেবে শুনলাম ছ-সাতশ জন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে বোধহয় পনেরোশ এর ম...

বাংলা ভাষার দেউলিয়াত্ব

বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করবার পথে সবচেয়ে বড়ো দুটো চ্যালেঞ্জের একটি হলো ভাষাগত আরেকটি হলো বুঝজ্ঞানের তফাৎগত। বাংলা ভাষায় বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ইতিহাস খুব একটা গৌরবজ্জ্বল নয়। আমার মতে অন্তত বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাংলা ভাষা অক্ষম। এই ভাষায় উচ্চমানের কাব্য ও সাহিত্য চর্চা হয়েছে সন্দেহ নেই। তবে তাও একটি নির্দিষ্ট ঘরানার। একটা নির্দিষ্ট ধাঁচের। খুব একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়। আর বর্তমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সভ্যতার চাহিদা মেটানো বাংলা ভাষার পক্ষে সম্ভব নয়। এর একটা প্রধান কারন হলো এই ভাষায় জ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির কোনটিই উৎপাদন হয় না। কাজেই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিদেশী ভাষা সমূহ বিশেষ করে ইংরেজীর ওপরই প্রধানত নির্ভরশীল। আমেরিকান পন্ডিতদের লেখা পড়লে মনে হয় যেনো এই কথাটাই, ঠিক এই চিন্তাটাই আমাদের মাথায় এতোদিন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। যা ভাষার দুর্বলতার কারনে প্রকাশ করতে আমরা ছিলাম অক্ষম। তারওপর বিদেশী পরিভাষা সমূহের বাংলা ভাষান্তর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো কাজ করে। যদিবা আপনি কোনমতে একটা ভাষান্তর করতে সক্ষমও হন তথাপি আপনার ভাষাভাষীরা সেটা বুঝবে না। কারন কেবল ভাষার ট্রান্সলেশনের (transl...

আমার শিক্ষকের মোল্লাগিরি এবং তারেকের মুফতীগিরি

আমার পার্সোনালিটির একটি বৈশিষ্ট্যহলো এই যে আমি বাই ডিফল্ট মানুষকে বিশ্বাস করি, সম্মান করি। যতোক্ষণ না তার বিশ্বাসঘাতকতা, নীচতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। এনরেজীতে বলে Fool me once, shame on you, fool me twice shame on me। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে একজন ঈমানদার কখনোই একই গর্ত দুইবার দংশিত হয়না। যখন কারও বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণিত হয়ে যায় তখন তা মেনে নেয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমি তখন সেই ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। এটা আমার যাপিত জীবনের একটা অত্যন্ত কমন কিন্তু পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা। কেননা এই দেশে হারামীর অভাব নেই। দুটো অভিজ্ঞতার বর্ণনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ইশকুলে আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন ছাত্রদের পেটাতে পেটাতে তাঁর হাঁপানি উঠে যেতো। এরপর দম ফিরে পেলে তিনি আবারও ছাত্র পেটানো শুরু করতেন এক পৈশাচিক উদ্যমে। আমি যেহেতু আল্লাহর রহমতে বাল্যকাল থেকেই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম সেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার একটা বড়ো প্রভাব আমার ওপর কাজ করতো। হাদীস শরীফের বরাতে একটা কথা প্রচলিত ছিলো যে শিক্ষার্থীর শরীরের যে স্থানে শিক্ষকের বেত্রাঘাত পড়ে সে স্থান বেহেশতে যায়। আমিও তা অন্তর দিয়ে ধারণ করতাম। কাজেই আমাদ...

রাজনীতির প্রকারভেদ

আমরা যে রাজনীতি দেখে, শুনে, বা পড়ে বড়ো হয়েছি তাকে মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। কিংগলি পলিটিকস (১)। সংগ্রামের রাজনীতি। বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি। বস্তিপট্টির রাজনীতি। তুরস্কের যুগান্তকারী নেতা এরদোগানের রাজনীতিকে কিংগলি পলিটিকস বলা যায়। একে ইসলামের সুলতানী-বাদশাহী আমলের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা কিংবা উত্তরাধিকারীও বলা যায়। মুসলমানদের কিংগলি পলিটিকস এর মৌল ভিত্তি হলো ইসলামী মানস। কিন্তু এর সাথে ইসলামিস্ট বা ইসলামবাদি রাজনীতির মূল পার্থক্যটা বোধহয় ত্বত্তগত বাঁধাহীনতায়। একজন রাজনৈতিক তাঁর রাজনীতিকে ত্বত্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার মধ্য দিয়ে তাঁর শত্রুদের নিকট তাঁর বিজয়যাত্রার ছক ফাঁস করে দেন। শত্রুরা তখন হিসেব কষে তাঁর যাত্রা পথের দূর্বলতম জায়গা গুলোতে ফাঁদ পেতে তাকে সহজে ধরাশয়ী করতে পারে। একজন কিংগলি পলিটিশিয়ান অবশ্যই নীতিবান কিন্তু কোনভাবেই ইডিওলজিক (২) নন। এই যে চব্বিশ উত্তর মুহতারামে আমীরে জামাত আওয়ামীদের ক্ষমা করে দেবার ঘোষণা দিয়ে তীব্র জনরোষের শিকার হলেন এটাকে আমি ইডিওলজিক রাজনীতির কুফল হিসেবই দেখি। এই নীতি আল-উস্তাদ সাইয়্যেদ আবুল আ'লা রহ: এঁর ঘোষিত নীতি। এখানে বর্তমান আমিরে জামাত এর...

সর্ষের মধ্যে ভূত এবং তার ওঝার খোঁজে

Image
    এবং লন্ডনী মুফতি ও তার দলের পরিণতিও তার চাইতে ভিন্ন কিছু হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই ভোট গনণার প্রাক্কালে যখন চারিদিকে জামায়াতের প্রার্থীদের জয় জয়কার, তখন লন্ডনী মুফতি বলেছিলেন যে, কোন ধরনের কারচুপি তারা মেনে নেবেন না। এর পরপরই কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গণনার ফলাফল সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি জিতে আসে। এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো ভোট কারচুপি করে হলেও এই দেশ শোষনের অধিকার শুধু মোক্তিজুদ্দের জায়গীরদারদেরই আছে। এটাই মোক্তিজুদ্দের চেতনা। ঠিক এই কারনেই মোক্তিজুদ্দ হয়েছিলো। আমরা যেটাকে উদরপন্থা বলে অভিহিত করেছিলাম। মাঝখান দিয়ে বেগম জিয়ার ত্যাগ তিতিক্ষা-কে পুঁজি করে যে মাদার অব ডেমিক্রেসির মতো তুচ্ছ ও সস্তা বয়ান ছাড়া হয়েছিলো তা স্রেফ ছিলো দেশের জনগণকে ঘোল খাওয়ানোর ধান্দা। আওয়ামীলিগের মতো বিএনপির রাজনীতি-ও যে জনপ্রতারণা নির্ভর তার সাক্ষ্য বিএনপির সাংসদেরা ইতিমধ্যে দিয়েছে খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে। এর চাইতে বড়ো দেশদ্রোহীতা আর হয় না। কিন্তু এটা সম্ভব হতো না যদি না মিলিটারী ও সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্র্যযন্ত্রের একটি অংশ এই জনদ্রোহী, দেশদ্রোহী অপকর্মে শামিল হ...

ইসলামের শিক্ষা বনাম শয়তানের শিক্ষা

Image
শয়তানের কর্মপদ্ধতির একটা হলো এই যে সে আদম সন্তানকে খোদাদ্রোহীতায় উস্কে দেয়। অপরাধ সংঘটনে তাকে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য মহান আল্লাহর আযীমাতের বিপরীতে রুখসাতের বিষয়টি মূখ্য করে তোলে। অত:পর আদম সন্তান যখন খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয় শয়তান-ই তাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের ব্যাপারে আশাহীন করে তোলে। আল্লাহর আযীমাত-টাই তখন হয়ে ওঠে মূখ্য। এটা একেবারেই ইসলামী শিক্ষার বিপরীত। ইসলামী শিক্ষা বলছে যখন মনে শয়তানের ওয়াসওয়াসা (১) আসে তখন মহান আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর শান-শওকত, কুউওত এর কথা স্মরণ করে ভীত হও। জাহান্নামের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শিহরিত হও। কিন্তু যদি তুমি শয়তানের ফেরেবে পড়েই যাও তবে যতো শীঘ্র সম্ভব মহান আল্লাহর নিকট ফিরে আসো। তওবা করো। এই অপরাধ থেকে বিরত হবার পণবদ্ধ হও। মহান আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করবেন। বাস্তবিক ইসলাম শেখাচ্ছে যে আদম সন্তানের পক্ষে এমন কোন অপরাধ করা সম্ভব নয় যা ক্ষমা করে দেবার সামর্থ মহান আল্লাহ রাখেন না। যদি সে পাহাড় সম অপরাধও করে থাকে তথাপি মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে সক্ষম। এজন্যই শেরেকের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি তওবা করে মহান আল্লাহ তা কবুল করেন। যদি অন্যের হক ন...