Posts

পাকিদের জন্য পাকিস্থান, নাপাকিদের জন্য নাপাকিস্থান

Image
তুর্কী অভিবাসী সিরিয়ান অধ্যাপক আবদেল এর একটি পোস্টে খুব-ই আন্দোলিত হলাম। নিজ দেশের কথা, নিজ দেশের দুর্দশার কথা, কি করে স্বাধীনতার নামে ধর্মহীন-হীনজাত-লোভীদের খপ্পরে পড়ে এমন সুন্দর দেশটা ধ্বংস হয়ে গেলো - সেই কথা চিন্তা করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলাম। অধ্যাপক সাহেব পোস্টে তুরস্কের একটি পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো পরিপাটি এলাকার কয়েকটি ছবি দিয়ে বলছেন যে এটি তুরস্কের সীমিত আয়ের দরিদ্র এলাকাগুলোর একটি!     সাথে সাথে আমার দেশের অভিজাত এলাকা গুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। যে এলাকাগুলো গড়ে উঠেছে রেশনের চাল খেয়ে নবাব হয়ে ওঠা লোকদের দ্বারা। সেগুলোও সাজানো-গোছানো-পরিপাটি। একটু বেশী-ই। সেখানেই প্রথম প্রজন্মের নবাব আর বংশপরম্পরায় মনুষ্যত্ব ও উৎকর্ষের চর্চা করা, সভ্যতা-সংস্কৃতির চর্চা করা, ধর্মপ্রাণ মানুষদের পার্থক্য। ঢাকার যেকোন অভিজাত এলাকায় যান। দেখবেন পাশ্চাত্যের মতো কি সুন্দর সব দালান। সামনে বিদেশী ধাঁচেই গড়ে তোলা প্যাশিও-পোর্চ। অপর পাশের মার্কেটের দোতলায় চোখ ধাঁধাঁনো ইন্টেরিয়র করা ফাস্ট ফুডের দোকান। দোকানে বসে ধনীর দুলালীরা তাদের বয় ফ্রেন্ড নিয়ে আয়েশ করে কি খাচ্ছে তা দেখে যেনো রাস্তার ভিখারীরা হা-হুত...

উদরপন্থা

যারা বলছেন হাদীকে ভারত হত্যা করেছে তাদের হিসাব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। ভারতই যদি হাদিকে হত্যা করতো তাহলে তার প্রধানতম কারন হতো হাদিকে ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করা। হাদি অন্তত সেই পর্যায়ের নেতা ছিলোনা। সেই হিসেব করলে হাদির আগে জামাত-শিবিরের কমসেকম হাজার খানেক নেতার নাম চলে আসে বলে আমার ধারণা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে হাদিকে সেই কারনেই ভারত হত্যা করেছে তাহলে তার জন্য দুইটা পথ ছিলো। এক হত্যার পরপরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তার দায় নিয়ে দেশের মানুষের ভেতর ভীতিরসঞ্চার করা। দুই হত্যার মধ্য দিয়ে নীরবে তাদের পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়া। কিংবা বড়জোর সেই হত্যার সূত্রে দেশের অভ্যন্তরেই তাদের শত্রুদের অর্থাৎ জামাতের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। এখন আমাকে বলেন ভারত হাদীকে "মেটিকিউলাস ডিজাইন" করে হত্যা করবার পরও হত্যাকারী বিজেপির প্রতিপক্ষ মমতার প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়ে গেলো এবং এরপর বিজেপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হলো - এটা কি হিসেবে মেলে? একমাত্র তখনই এটা গ্রহণ করা যায় যদি ধরে নেই যে এটি খাশোগজি হত্যার মতো একটি আনাড়ি পরিকল্পনা। আমার দৃঢ় ধারণা হাদীর প্রধান হত্য...

বামাতি নিরাজ্যবাদের ইউটোপিয়া

Image
প্রাক্তন শাহবাগী ফ্রান্স পলাতক চীনপন্থি-বামাতি পিনাকীর একটি সাম্প্রতিক ভিডিও দেখলাম। তার শিরোনাম 'বাংলাদেশে আরেক বিপ্লব আসন্ন'। শিরোনামের সাথে কোন দ্বিমত নাই। তবে এতে যা বলা হয়েছে তা দুশ্চিন্তার বৈকি! প্রথমত আমাদের এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করা দরকার যে, কোন ব্যক্তির কর্মের ফয়সালা ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ ব্যতিরেকে অসম্ভব। প্রশ্ন হলো পিনাকীর পরিচয় কি? এই প্রশ্ন আমরা আগেও করেছিলাম। আমরা এটাও দেশের মানুষকে স্মরণ করে দিয়েছিলাম যে পিনাকীর আত্ম-স্বীকৃতি অনুযায়ী তার পপুলিস্ট বাগাড়ম্বর তার বামাতি রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বিশেষ। যা বাস্তবায়নের প্রশ্নে তার পূর্বের বামাতি কমরেডদের সাথে তার বনিবনা না হওয়ায় তিনি তার দল থেকে বেরিয়ে যান। সেই হিসেবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইসলামী মানসের ধারণ তার বামাতি প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ। গোলটা বেঁধেছে এই খানে যে আবেগি ও সরল প্রকৃতির বাঙ্গালি মুসলমান পিনাকীর এই ধর্মীয় বাগাড়ম্বর-কে ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে বসে আছে। কিন্তু তার বক্তব্য ও মানসে বামাতি চিন্তাধারার বিষ সুস্পষ্ট। এর মধ্যে সব চাইতে ভয়ংকর নিদর্শন হলো নিরাজ্যবাদী ধ্যানধারণার উপস্থিতি। নিরাজ্...

'২৬ এর নির্বাচনের অন্য হিসেব

জামায়েতে ইসলামীর তরুন নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন বিএনপির সাথ জোট করে তাদের অপকর্মের দায়ভার নিতে জামায়াত আর ইচ্ছুক নয়। অতীতের দিনগুলোতে জামায়াত বিএনপি-কে বিজয়ী করে আসলেও এখন আর সেই পুরনো বন্দোবস্তে তাদের কোন আগ্রহ নাই। মাসুদ ভাইয়ের এই আলাপে আমার উপলব্ধি হলো যে, '২৬ এর নির্বাচন-কে এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেও পুনর্মূল্যায়ন করবার যথেষ্ঠ সুযোগ আছে। বিগত দশকের শুরুতে আওয়ামী প্রতাপ-প্রতিপত্তির সময়টাতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের নির্বাচনে কার্চুপির পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ মানুষ ইসলামপন্থী বা জামায়াতে ইসলামের সমর্থক। সেই হিসেবে একথা বলবার সুযোগ আছে যে বাংলাদেশে দুইটা প্রধান রাজনৈতিক ধারা। একটা মুক্তিযুদ্ধ পন্থী, আরেকটা ইসলামপন্থী। একটা সংকীর্ণ বাঙ্গালী নৃতাত্তিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আরেকটা বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভাতৃত্ববোধের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথম ধারার রাজনীতির আতুড়ঘর হলো হিন্দুত্ববাদী বামপন্থা। তার বিকাশ ও সফল পরিণতি হয়েছে আওয়ামীলিগের দ্বারা। দ্বিতীয় ধারার রাজনীতির প্রস্তাবক ও সংগঠক উভয়ই জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এখা...

খান সাহেব

Image
        খান সাহেবের জন্য বেশ খারাপ লাগে। বহুদিন পর পাকিস্তান একজন জনগণের নেতা পেয়েছিলো যিনি তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসা। ইমরান খান প্রমাণ করেছিলেন যে রাজনৈতিক পরিবারে না জন্মেও কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করেও রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। খান সাহেবের আরও বিশেষত্ব এই যে তিনি সাধারণ সিভিলিয়ান নন। তিনি খেলোয়াড় থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। তদ্রুপ যে কোন পেশা এমনকি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেও একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা যায়। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো এই যে "রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে হবে"। সারাজীবন সরকারী তনখা টেনে সুযোগ মতো স্বার্থোদ্ধারের নিমিত্তে পেটিকোট খুলে উদ্দাম নৃত্য দিলেই রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্যের যেসক রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসেছিলেন তাদের মধ্যে এই রুপান্তর দেখা যায়। এ কারনে তাঁদের বক্তৃতা-বিবৃতি, কর্মপদ্ধতিতে সিভিলিয়ান মানস ফুটে ওঠে। তথাপি তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকে প্রচ্ছন্ন। অর্থাৎ রাজনীতিবিদ এ রুপান্তর ব্যক্তি বিশেষের পেশাগত অতীতের বিস্মৃতিকে আবশ্যক করে না বরং জনমানসের ছাঁচে তাকে করে তোলে পরিশীলিত। এ কারনে একেক জন্য রাজনীতিবিদ একেক ধরনের বৈশ...

ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব

আমার লেখালেখির কয়েটি মৌলিক প্রতিপাদ্য হলো ষঢ়যন্ত্রতত্ত্ব প্রবণ মানস কাঠামোর খন্ডন। তাতে কতোটুকু সক্ষম হয়েছি আল্লামালুম। তবে জাতীয় পরিস্থিতি দেখে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছিনা। বাংলাদেশের সকল প্রকার ষঢ়যন্ত্রতত্ত্বিক মানসের দুইটা মুল উপাদান ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের ব্যাপারটা সর্বজনীন। পাকিস্তানের ব্যাপারটা কেবল ভারতীয় সেবাদাস আওমী মানসেই সীমিত। অর্থাৎ প্রথমটা বাস্তবিক। দ্বিতীয়টা বায়বীয়। প্রথমটা কার্যত। দ্বিতীয়টা সৃষ্ট। কিন্তু সকল প্রকার ষঢ়যন্ত্রতত্ত্বের মূল সমস্যা হলো দায় এড়াবার প্রবণতা। এ কারনেই পিলখানার ঘটনাকে আমি "বিয়োগান্তক" (ট্র্যাজেডি) কিংবা "অন্তর্ঘাতমূলক" (স্যাবোটাজ) হিসেবে দেখবার বদলে অব্যবসায় (unseasoned) কিংবা বিদ্রোহ (mutiny) হিসেবেই দেখি। যেখানে মানুষের দায় থাকেনা তাকেই ট্র্যাজেডি বলে। যেখানে অন্যের দায় থাকে তাকে স্যাবোটাজ বলে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় সব সমস্যা পদ্ধতিগত (systematic)। পিলখানার ঘটনাকে যদি স্যাবোটাজ হিসেবে ধরেও নেয়া হয় তথাপি তাতে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সমূহের দায় মোচন হয় না। এইযে তাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটা অঘটন ঘটানো হলো এটা কি তাদের প...

ডাল মে কুছ কালা হ্যায়

বিগত নির্বাচনের ক্ষণিক পূর্বেই যখন হুজুরপট্টির ধান্ধাবাজগুলো কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধ করবার সমাবেশ আয়োজন করলো তখনই মন বলছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। পিলখানা বিদ্রোহের পর কয়েক বছর পর্যন্ত সারা দেশের রাজনৈতিক ময়দানে একটা গুমোট ভাব বিরাজ করছিলো। জামায়াতের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সময় রাজনৈতিক কার্যক্রমও প্রায় সীমিত হয়ে গিয়েছিলো। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে খুব সম্ভবত খতমে নবুওয়্যতের ব্যানারে কোন একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে সমাবেশের আয়োজন করে। তখনও আমার মনে ডাক দিয়েছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। জুলাই'২৪ পরবর্তীতে স্বঘোষিত ঘেরান মুফতি গাবগাছি পীর নিজেই ঐ কার্যক্রমের কৃতিত্ব দাবী করেছিলো। সুতরাং আমি চাচ্ছিলাম না যে হুজুরপট্টির এইসব বাটপারদের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে জামায়াত যোগদান করুক। কেননা কাদিয়ানী ইস্যুতে নেতৃত্বের প্রধান হকদার জামায়াতে ইসলামী। এই ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে লিখিত কিতাব, 'কাদিয়ানিকি মাসলাহা' রচনা ও তৎপরবর্তী জনবিক্ষোভের সময়ে সৃষ্ট সহিংসতার দায়ে ফাঁসিয়ে আইয়্যুবের সময় আল-উস্তাদ আল-ইমাম সাইয়্যেদ আবুল আ'লা-কে ফাঁসী...