Posts

বাংলাদেশের আসন্ন সংকট ও তার সমাধানের সূত্র

বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীকার অর্জনের পথে ভবিষ্যতে কতোটুকু রক্তপাত ও ফিৎনা হবে, সময় ক্ষেপন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে দেশের মানুষের ওপরই। দেশের মানুষ যতো দৃঢ় ভাবে জামাতের নেতৃত্বে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে তাগুতি শক্তির পক্ষে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ততো মুশকিল হয়ে পড়বে। মুসলমানদের ঐক্য যতো সুদৃঢ় হবে তাগুতি শক্তির আক্রোশ ততো গুপ্ত থেকে প্রকাশ্য হতে থাকবে। এমনকি এক পর্যায়ে দেশেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশ্যে খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয়ে যাবে এবং কাফিরদের সহযোগিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠবে। এটাই গাযযাতে হয়েছে। অর্থাৎ আমার হিসেবে আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে তাগুতি শক্তি বিশৃঙ্খলা করে, গুজব সৃষ্টি করে সুবিধা করে উঠতে পারবেনা। কিন্তু ভারতের সহযোগীতায় এদেশীয় মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ ঠেকানোর তেমন কোন প্রস্তুতি আমাদের হাতে নাই। ২০০৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে হামাস যতোটুকু-ও বা সুযোগ পেয়েছিলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবার একাত্তুরের পর বাংলাদেশ সেটাও পায়নি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা সিরিয়ার মতো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। সিরিয়াতে তো তাও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর...

সবার জীবনে প্রেম আসে

ছাত্র শিবিরের জীবনেও প্রেম এসেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অন্তত আমি আশ্চর্য হই নাই। বরং আমাকে আশ্চর্য করেছে গণসচেতনতা। পাবলিক ডিসকোর্স। গেলো জুলাই'২৪ পর্যন্ত-ও এহেন ক্ষুরধার আলাপ চোখে পড়তো না। এটা আশা জাগানিয়া বটে! বিএনপির স্থানীয় একটি চক্রের বিরাগভাজন হয়ে শিবিরের "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" বিভাগের সদস্য জিসানের গুম হওয়া, ফোনে মুক্তিপণ দাবী, সেই ফোন নম্বর ট্র্যাক করে মুক্তিপণ দাবীকারীদের না ধরে উল্টো জিসানের বিরুদ্ধ মামলা দেয়া, গুম করে গিলতে না পেরে জনতার চাপে পড়ে জিসান কে ফেরতের নাটক, তার পরপরই অভিযোগ ও অভিযোগকারীর নাটকীয় আবির্ভাব, অভিযোগকারীকে খোদ তার পরিবার থেকেই বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্য দ্বারাই রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যাবার অভিযোগ, সর্বপোরি জিসান ও অভিযোগকারী-কে আইনজীবী ও সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা - এ সকল অসংগতি তুলে ধরতে পারাটা জনগণের একটা বড়ো সফলতা। মূলত এরকম কিছু যে হবে এটা ছিলো প্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যারা দিগবাজি করেছে তারাতো জানে ঘটনা সিরিয়াস! সুতরাং জামায়াতের এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে না ধ্বসাতে পার...

আমেরিকান ট্যাক্স পেয়ার

Image
  ঠিক যেমন আমেরিকার শেয়ার মার্কেট ব্যবস্থা বাংলাদেশে কাজ করে নাই, তেমনি আমেরিকার ট্যাক্স ব্যবস্থাও শুধু এই দেশেই নয় বরং কোন মুসলিম দেশেই কাজ করবে না। বিশেষ করে যখন আজকে আমেরিকার জনগণ-ই এ ব্যাপারে সচেতন হচ্ছে, আওয়াজ তুলছে। তথাপি আমেরিকা সব সময় এমন ছিলোনা। এখন তাদের পড়তি কাল। ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র্যের সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে ট্যাক্সের একটা বড়ো অংশ ব্যয়িত হয়ে আসছে। আর এর সুফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র্য নয় বরং পুরো বিশ্বই ভোগ করেছে। এই যে ইন্টারনেট এটা ডার্পার প্রজেক্ট। প্রযুক্তির এমন জিনিস আপনি কম-ই পাবেন যেখানে ডার্পার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নাই। সুতরাং ট্যাক্সের সূত্রে মার্কিন বিরোধী আবজাব কথা বলার সুযোগ অন্তত বানলাদের নাই। বানলারা আগামী পাঁচশ বৎসর পর যেই আলাপ দিবে আমেরিকানরা তিনশ বছর আগেই সেই আলাপ তুলে তার একটা দফারফা করে ফেলেছে। তাদের জীবন দর্শন, রাষ্ট্র্য কাঠামোর সাথে এসব শেয়ার মার্কেট, ট্যাক্সিং ব্যবস্থা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যেহেতু তারা ওয়াকিবহাল যে তারা কি করছে তাই এগুলো তাদের ক্ষেত্রে কাজে দেয়। ঠিক একই জিনিস যখন দেশে আমদানী করা হয় তখন তা হয়ে যায় গরীবের সালমান খান। একদিকে সরকারী চাকুরেরা ন...

উদরপন্থা: যে কথা হয়নি বলা

একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধানের জবানবন্দী অনুযায়ী খোদ তাঁর পক্ষ থেকে মিলিটারীর খুনী অফিসার জিয়ার প্রমোশনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিরুদ্ধাচারণ স্বত্তেও মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড আওমী পান্ডাদের হুমকির মুখে নিজেদের চাকুরী বাঁচাতে কিংবা প্রমোশন নিশ্চিত করতে জিয়ার প্রমোশনের অনুমোদন দিয়েছিলো। এটা যদি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা না হয় তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা কোনটা? যাদেরকে দেশের মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রশিক্ষিত করলো, অস্ত্রশস্ত্র কিনে দিলো, এমনকি সেই অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের নীতি পর্যন্ত তাদের জন্য শিথিল করে দিলো এই উদ্দেশ্যে যে তারা যেনো দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু ভারতকে পরাস্ত করে দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পারে, তারা ভারত দুর থাক ভারতের এদেশীয় কিছু চ্যালাচামুন্ডার হুমকিতেই কাইত হয়ে গেলো। তাও একজন নয়, দুজন নয়। পুরো একটা মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড! অথচ এখনও পর্যন্ত বলা হচ্ছে যে এদের পেছনে আরও বেশী খরচ করলে নাকি এরা ভারতকে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। অনেক ঢিশুম ঢিশুম করবে। কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর আমরা পাইনি তা হলো এই যে ভারত যদি এতোই খারাপ হয়ে থাকে তাহলে একাত্তুরে তাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র...

পাকিদের জন্য পাকিস্থান, নাপাকিদের জন্য নাপাকিস্থান

Image
তুর্কী অভিবাসী সিরিয়ান অধ্যাপক আবদেল এর একটি পোস্টে খুব-ই আন্দোলিত হলাম। নিজ দেশের কথা, নিজ দেশের দুর্দশার কথা, কি করে স্বাধীনতার নামে ধর্মহীন-হীনজাত-লোভীদের খপ্পরে পড়ে এমন সুন্দর দেশটা ধ্বংস হয়ে গেলো - সেই কথা চিন্তা করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলাম। অধ্যাপক সাহেব পোস্টে তুরস্কের একটি পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো পরিপাটি এলাকার কয়েকটি ছবি দিয়ে বলছেন যে এটি তুরস্কের সীমিত আয়ের দরিদ্র এলাকাগুলোর একটি!     সাথে সাথে আমার দেশের অভিজাত এলাকা গুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। যে এলাকাগুলো গড়ে উঠেছে রেশনের চাল খেয়ে নবাব হয়ে ওঠা লোকদের দ্বারা। সেগুলোও সাজানো-গোছানো-পরিপাটি। একটু বেশী-ই। সেখানেই প্রথম প্রজন্মের নবাব আর বংশপরম্পরায় মনুষ্যত্ব ও উৎকর্ষের চর্চা করা, সভ্যতা-সংস্কৃতির চর্চা করা, ধর্মপ্রাণ মানুষদের পার্থক্য। ঢাকার যেকোন অভিজাত এলাকায় যান। দেখবেন পাশ্চাত্যের মতো কি সুন্দর সব দালান। সামনে বিদেশী ধাঁচেই গড়ে তোলা প্যাশিও-পোর্চ। অপর পাশের মার্কেটের দোতলায় চোখ ধাঁধাঁনো ইন্টেরিয়র করা ফাস্ট ফুডের দোকান। দোকানে বসে ধনীর দুলালীরা তাদের বয় ফ্রেন্ড নিয়ে আয়েশ করে কি খাচ্ছে তা দেখে যেনো রাস্তার ভিখারীরা হা-হুত...

উদরপন্থা

যারা বলছেন হাদীকে ভারত হত্যা করেছে তাদের হিসাব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। ভারতই যদি হাদিকে হত্যা করতো তাহলে তার প্রধানতম কারন হতো হাদিকে ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করা। হাদি অন্তত সেই পর্যায়ের নেতা ছিলোনা। সেই হিসেব করলে হাদির আগে জামাত-শিবিরের কমসেকম হাজার খানেক নেতার নাম চলে আসে বলে আমার ধারণা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে হাদিকে সেই কারনেই ভারত হত্যা করেছে তাহলে তার জন্য দুইটা পথ ছিলো। এক হত্যার পরপরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তার দায় নিয়ে দেশের মানুষের ভেতর ভীতিরসঞ্চার করা। দুই হত্যার মধ্য দিয়ে নীরবে তাদের পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়া। কিংবা বড়জোর সেই হত্যার সূত্রে দেশের অভ্যন্তরেই তাদের শত্রুদের অর্থাৎ জামাতের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। এখন আমাকে বলেন ভারত হাদীকে "মেটিকিউলাস ডিজাইন" করে হত্যা করবার পরও হত্যাকারী বিজেপির প্রতিপক্ষ মমতার প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়ে গেলো এবং এরপর বিজেপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হলো - এটা কি হিসেবে মেলে? একমাত্র তখনই এটা গ্রহণ করা যায় যদি ধরে নেই যে এটি খাশোগজি হত্যার মতো একটি আনাড়ি পরিকল্পনা। আমার দৃঢ় ধারণা হাদীর প্রধান হত্য...

বামাতি নিরাজ্যবাদের ইউটোপিয়া

Image
প্রাক্তন শাহবাগী ফ্রান্স পলাতক চীনপন্থি-বামাতি পিনাকীর একটি সাম্প্রতিক ভিডিও দেখলাম। তার শিরোনাম 'বাংলাদেশে আরেক বিপ্লব আসন্ন'। শিরোনামের সাথে কোন দ্বিমত নাই। তবে এতে যা বলা হয়েছে তা দুশ্চিন্তার বৈকি! প্রথমত আমাদের এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করা দরকার যে, কোন ব্যক্তির কর্মের ফয়সালা ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ ব্যতিরেকে অসম্ভব। প্রশ্ন হলো পিনাকীর পরিচয় কি? এই প্রশ্ন আমরা আগেও করেছিলাম। আমরা এটাও দেশের মানুষকে স্মরণ করে দিয়েছিলাম যে পিনাকীর আত্ম-স্বীকৃতি অনুযায়ী তার পপুলিস্ট বাগাড়ম্বর তার বামাতি রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বিশেষ। যা বাস্তবায়নের প্রশ্নে তার পূর্বের বামাতি কমরেডদের সাথে তার বনিবনা না হওয়ায় তিনি তার দল থেকে বেরিয়ে যান। সেই হিসেবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইসলামী মানসের ধারণ তার বামাতি প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ। গোলটা বেঁধেছে এই খানে যে আবেগি ও সরল প্রকৃতির বাঙ্গালি মুসলমান পিনাকীর এই ধর্মীয় বাগাড়ম্বর-কে ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে বসে আছে। কিন্তু তার বক্তব্য ও মানসে বামাতি চিন্তাধারার বিষ সুস্পষ্ট। এর মধ্যে সব চাইতে ভয়ংকর নিদর্শন হলো নিরাজ্যবাদী ধ্যানধারণার উপস্থিতি। নিরাজ্...