Posts

Showing posts with the label সমাজদর্শন

মনকলা

হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী হেবা নিয়ে এক আইন করেছে। আইনটা অনেকটা এরকম যে যদু মধুকে একটা ক্যালা গিফট করলো। কিন্তু তার সাথে শর্ত জুড়ে দিলো যে ক্যালা-টা সে খেতে পারবে না। না মানে খেতে পারবে কিন্তু মনে মনে। এটাকে বলে মনকলা। বানগালী হাজার বছর ধরে এরকম মনকলা খেয়ে অভ্যস্ত। সে পাঁচ বছর পরপর চা-পানির বিনিময়ে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের মনকলা খায়। সে ধর্মহীন-বস্তিপট্টির পয়দাদের হাতে দেশ তুলে দিয়ে দেশের উন্নয়নের মনকলা খায়। এই মনকলা খাওয়া-টা বানগালীর সহজাত। ঠিক এ কারনেই সম্পত্তির মালিকানা বিক্রির পরও সেই সম্পত্তির ওপর সে খবরদারী করতে চায়। সে কারও ছারবেন নয়। সে লেনলঠ। সে বিগেডিয়ার হাবিলদার ডাক্তার। পাগলের ডাক্তার। সে নিজেও পাগল। উন্মাদ। অকাট। অপদার্থ। হীনজাত। আমেরিকান মানুষদের একটা উন্নত বৈশিষ্ট্য হলো যে সে তা-ই বলে যা বিশ্বাস করে। যা বলে তা-ই বোঝায়। কিন্তু বানগালী যা বিশ্বাস করে তা বলে না। যা বলে তা বোঝায় না। একজন আমেরিকানের নিকট ইয়েস মানে ইয়েস। কিন্তু একজন বাঙ্গালীর সম্মতি প্রায়শ বলপ্রয়োগ (coercion) কিংবা ছলচাতুরী (manipulation) ইত্যকার পারিপার্শ্বিক চাপের (peer pressure) বহি:প্রকাশ কেবল। একজন আমে...

বাংলা ভাষার দেউলিয়াত্ব

বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করবার পথে সবচেয়ে বড়ো দুটো চ্যালেঞ্জের একটি হলো ভাষাগত আরেকটি হলো বুঝজ্ঞানের তফাৎগত। বাংলা ভাষায় বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ইতিহাস খুব একটা গৌরবজ্জ্বল নয়। আমার মতে অন্তত বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাংলা ভাষা অক্ষম। এই ভাষায় উচ্চমানের কাব্য ও সাহিত্য চর্চা হয়েছে সন্দেহ নেই। তবে তাও একটি নির্দিষ্ট ঘরানার। একটা নির্দিষ্ট ধাঁচের। খুব একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ নয়। আর বর্তমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সভ্যতার চাহিদা মেটানো বাংলা ভাষার পক্ষে সম্ভব নয়। এর একটা প্রধান কারন হলো এই ভাষায় জ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির কোনটিই উৎপাদন হয় না। কাজেই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিদেশী ভাষা সমূহ বিশেষ করে ইংরেজীর ওপরই প্রধানত নির্ভরশীল। আমেরিকান পন্ডিতদের লেখা পড়লে মনে হয় যেনো এই কথাটাই, ঠিক এই চিন্তাটাই আমাদের মাথায় এতোদিন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। যা ভাষার দুর্বলতার কারনে প্রকাশ করতে আমরা ছিলাম অক্ষম। তারওপর বিদেশী পরিভাষা সমূহের বাংলা ভাষান্তর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো কাজ করে। যদিবা আপনি কোনমতে একটা ভাষান্তর করতে সক্ষমও হন তথাপি আপনার ভাষাভাষীরা সেটা বুঝবে না। কারন কেবল ভাষার ট্রান্সলেশনের (transl...

ইসলামের শিক্ষা বনাম শয়তানের শিক্ষা

Image
শয়তানের কর্মপদ্ধতির একটা হলো এই যে সে আদম সন্তানকে খোদাদ্রোহীতায় উস্কে দেয়। অপরাধ সংঘটনে তাকে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য মহান আল্লাহর আযীমাতের বিপরীতে রুখসাতের বিষয়টি মূখ্য করে তোলে। অত:পর আদম সন্তান যখন খোদাদ্রোহীতায় লিপ্ত হয় শয়তান-ই তাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের ব্যাপারে আশাহীন করে তোলে। আল্লাহর আযীমাত-টাই তখন হয়ে ওঠে মূখ্য। এটা একেবারেই ইসলামী শিক্ষার বিপরীত। ইসলামী শিক্ষা বলছে যখন মনে শয়তানের ওয়াসওয়াসা (১) আসে তখন মহান আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর শান-শওকত, কুউওত এর কথা স্মরণ করে ভীত হও। জাহান্নামের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শিহরিত হও। কিন্তু যদি তুমি শয়তানের ফেরেবে পড়েই যাও তবে যতো শীঘ্র সম্ভব মহান আল্লাহর নিকট ফিরে আসো। তওবা করো। এই অপরাধ থেকে বিরত হবার পণবদ্ধ হও। মহান আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করবেন। বাস্তবিক ইসলাম শেখাচ্ছে যে আদম সন্তানের পক্ষে এমন কোন অপরাধ করা সম্ভব নয় যা ক্ষমা করে দেবার সামর্থ মহান আল্লাহ রাখেন না। যদি সে পাহাড় সম অপরাধও করে থাকে তথাপি মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে সক্ষম। এজন্যই শেরেকের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি তওবা করে মহান আল্লাহ তা কবুল করেন। যদি অন্যের হক ন...

আমেরিকার মাহাত্ব্য ও বানলাদের দেউলিয়াত্ব

আমেরিকানরা মহান জাতি এই কারনে নয় যে তারা সেখানকার প্রকৃত অধিবাসীদের হত্যা করে তাদের জায়গায় আবাস গড়েছে। যদিও দেশীয় বামাতি গুলো সেদিকেই সারাক্ষণ আঙ্গুল তাক করে থাকতে পারলে বাঁচে। ভাবখানা এমন যে কমুনিস্ট শাসনে কোন মানুষ মরে নাই। কমুনিষ্ট রাষ্ট্র সবাইকে বিরানি রেন্ধে খাওয়াইতো। আমেরিকানরা এ কারনেও মহান নয় যে তারা নগ্নতা-অশ্লীলতা প্রিয়। বরং তাদের মধ্যে এটা নতুন চল-ই বটে! ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকানরা অত্যন্ত রক্ষণশীল জাতি। অথচ একাংশ দেশীয় বুদ্ধিবেচির দাবী হলো যে বানগালীরা নাকি খুবই রক্ষণশীল জাতি। রক্ষা করবার কিছু থাকলেই না তবে সে রক্ষণশীল হবে। বারোভাতারির পয়দাদের আবার রক্ষণশীলতা কি? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে দেশে বুদ্ধি চর্চার জায়গীর নিয়ে বসা পান্ডাগুলো গোঁড়ামীকে রক্ষণশীলতার সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। বানলারা গোঁড়া, রক্ষণশীল নয়। আমেরিকানরা রক্ষণশীল, গোঁড়া নয়। আমেরিকানরা মহান কারন তারা পরিশ্রমী। আপনি যদি Strategy Game গুলো খেলেন, দেখবেন সেখানে প্রতিটি জাতির কিছু বিশেষ গুণাবলী ও দূর্বলতা আছে। আমেরিকা ও জর্মনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে তারা কঠোর পরিশ্রমী। এর মধ্যে আমেরিকানদের স্বাতন্ত্র হলো তারা উদ্যোগী (entreprene...

পাকিদের জন্য পাকিস্থান, নাপাকিদের জন্য নাপাকিস্থান

Image
তুর্কী অভিবাসী সিরিয়ান অধ্যাপক আবদেল এর একটি পোস্টে খুব-ই আন্দোলিত হলাম। নিজ দেশের কথা, নিজ দেশের দুর্দশার কথা, কি করে স্বাধীনতার নামে ধর্মহীন-হীনজাত-লোভীদের খপ্পরে পড়ে এমন সুন্দর দেশটা ধ্বংস হয়ে গেলো - সেই কথা চিন্তা করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলাম। অধ্যাপক সাহেব পোস্টে তুরস্কের একটি পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো পরিপাটি এলাকার কয়েকটি ছবি দিয়ে বলছেন যে এটি তুরস্কের সীমিত আয়ের দরিদ্র এলাকাগুলোর একটি!     সাথে সাথে আমার দেশের অভিজাত এলাকা গুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। যে এলাকাগুলো গড়ে উঠেছে রেশনের চাল খেয়ে নবাব হয়ে ওঠা লোকদের দ্বারা। সেগুলোও সাজানো-গোছানো-পরিপাটি। একটু বেশী-ই। সেখানেই প্রথম প্রজন্মের নবাব আর বংশপরম্পরায় মনুষ্যত্ব ও উৎকর্ষের চর্চা করা, সভ্যতা-সংস্কৃতির চর্চা করা, ধর্মপ্রাণ মানুষদের পার্থক্য। ঢাকার যেকোন অভিজাত এলাকায় যান। দেখবেন পাশ্চাত্যের মতো কি সুন্দর সব দালান। সামনে বিদেশী ধাঁচেই গড়ে তোলা প্যাশিও-পোর্চ। অপর পাশের মার্কেটের দোতলায় চোখ ধাঁধাঁনো ইন্টেরিয়র করা ফাস্ট ফুডের দোকান। দোকানে বসে ধনীর দুলালীরা তাদের বয় ফ্রেন্ড নিয়ে আয়েশ করে কি খাচ্ছে তা দেখে যেনো রাস্তার ভিখারীরা হা-হুত...

হাঁটাহাঁটি

Image
একসময় ধানমন্ডি লেকে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতাম। দশ চক্কর। গুগল ম্যাপের হিসেবে ৬.৪ কিলোমিটার। হাঁটতাম খুবই দ্রুত গতিতে। হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলিয়ে ফেলতাম। কখনো কখনো রক্তপানিও জমে যেতো। একটা ভালো কেডসের গুরুত্ব সম্পর্কে তখনও হুঁশ হয় নাই। যখন হুঁশ হলো তখন বেশ ভালো দামের একটা কেডস কিনে জয়বাংলা হয়ে গেলাম। মারো মুঝে মারো। আমি জীবনে যতো কেডস কিনেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলো বাটা কোম্পানীর একটা জুতো। মাঝ খানে ক'বছর সেটা বাজার থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিলো। কবে যেনো দেখলাম আবার ফিরে এসেছে। বাটার কেডস কেনার জন্য বেরিয়ে এপেক্সের স্যান্ডেল কিনে নিয়ে আসলাম। কিএক্টাবস্থা! এপেক্স থেকে যে কয়টা জুতো আমি কিনেছি, মারা খেয়েছি। পায়ে ফোস্কা পড়ে। সহজে ছিঁড়ে যায়। একবার হলো কি বৃষ্টির জ্যামে মোটরবাইকে বসে আছি। হঠাৎ পায়ে পানির স্পর্শ অনুভূত হওয়ায় ভালো করে তাকিয়ে দেখি জুতোর তলা ফেঁড়ে হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ঐ যে একটা গান আছেনা, আহা কি বিস্ময়ে দেখছো তু-মি আমায়!  ওরকম অবস্থা। কিন্তু তারপরও এপেক্স কিনলাম কেনো সেটাই প্রশ্ন। শুনেছি বাটা এহুদীদের কোম্পানী। সেটা কি কারন হতে পারে? এপেক্স কাদের কোম্পানী? যদি আওমী কিংবা ভারত...

হীন জাতের উত্থান

হীন জাতদের উত্থানের প্রসঙ্গ আসলেই দেশের অভিজাত এলাকা সমূহে প্রকম্পন শুরু হয়ে যায়। কারন বাংলাদেশে এই শ্রেনীটির নির্মাণ ও সংজ্ঞায়ন হয়েছে হীনজাতদের দ্বারা। যার ফলে এই জাতীয় সংলাপ এদের জন্য এক প্রকারের অস্তিত্বের হুমকি স্বরুপ। যদি তা নাও হয় তবে নিদেনপক্ষে অস্বস্তিকর তো বটেই। এক্ষেত্রে একটা নৈতিক প্রশ্ন-ও সামনে চলে আসে। আর তা হলো, হীন জাতদের কি উত্থান ঘটতে পারেনা? তাদের কি উন্নয়নের অধিকার নেই? এটা একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারন উন্নয়ন বা তথাকথিত upward-mobility বলতে কেবলই জাগতিক উন্নয়নকে নির্দেশ করা হয়। মননের উন্নয়ন এখানে অনুপস্থিত। বরঞ্চ মানসিক উন্নয়ন যখন জাগতিক উন্নয়নের সাথে তাল দিয়ে ঘটতে পারে না তখনই সৃষ্টি হয় যাবতীয় বিপত্তির। তবে এই বিষয়ক আলাপের পূর্বে জাতের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রেও জাগতিক মাপকাঠির বিচারের পাশাপাশি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিচারের মানদন্ডকেও স্থাপন করা জরুরী। সেই হিসাবে হীনজাত মূলত ধর্মীয় শিক্ষার অনুপস্থিতিকেই নির্দেশ করে। ধর্মীয় শিক্ষার উপস্থিতিতে তার আত্মস্থকরণের অভাবকে নির্দেশ করে। ধর্মীয় শিক্ষার পরও তার আত্মস্থকরণের অভাব ঘটবার মূলত কয়েকটি কারন। এক: দ...

শেখ মাখতুম সূত্রে

শেখ মাখতুমের ওপর বিবিসি কর্তৃক প্রকাশিত "তথ্যচিত্র"-টি আমি দেখিনি। গু-ঘাঁটাবার অভ্যাস নাই বলে আমি ঠিক প্রকৃত অর্থে একজন বাংলা হয়ে উঠতে পারিনি। তাছাড়া গাযযার গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বিবিসির মিথাচ্যার ও অপসাংবাদিকতা চর্চার বিষয়টি দিবোলোকের মতোই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলত: তাদের নির্মিত এসব "তথ্যচিত্র" প্রকাশ পেলে আমরা তখন এর পেছনে বিবিসির ধান্ধা নিয়ে চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়ি। তবে এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেলো বহু বছর আগে শেখ মাখতুমের একটি সাক্ষাৎকার। তাও খুব সম্ভবত বিবিসি এরই। সেখানে তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। পিতার সাথে যখন লন্ডনে যেতেন তখন বিলাতীদের নির্মিত সভ্যতা তাঁকে মুগ্ধ করতো। তাদের সাজানো গোছানো রাস্তাঘাট, সুউচ্চ দালান, উন্নত মানের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ব্যবহার তাঁর শৈশব মনে এতো গভীর ছাপ ফেলেছিলো যদ্দরুন আধুনিক আরব আমিরাতের সভ্যতা নির্মাণেও এর ছাপ সুস্পষ্ট। যতোদুর মনে পড়ে তিনি আরব আমিরাত-কে মানব সভ্যতার সর্বাগ্রে দেখবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। এ কারনেই মহাশূন্যে অভিযান থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে আরব আমিরাতের সভ্যতা ও আত্ম-পরিচয় বিনির্মাণ...