সর্ষের মধ্যে ভূত এবং তার ওঝার খোঁজে
এবং লন্ডনী মুফতি ও তার দলের পরিণতিও তার চাইতে ভিন্ন কিছু হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই ভোট গনণার প্রাক্কালে যখন চারিদিকে জামায়াতের প্রার্থীদের জয় জয়কার, তখন লন্ডনী মুফতি বলেছিলেন যে, কোন ধরনের কারচুপি তারা মেনে নেবেন না। এর পরপরই কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গণনার ফলাফল সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি জিতে আসে। এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো এই দেশে ভোট কারচুপির অধিকার শুধু মোক্তিজুদ্দের জায়গীরদারদেরই আছে। এটাই মোক্তিজুদ্দের চেতনা। ঠিক এই কারনেই মোক্তিজুদ্দ হয়েছিলো। আমরা যেটাকে উদরপন্থা বলে অভিহিত করেছিলাম। মাঝখান দিয়ে বেগম জিয়ার ত্যাগ তিতিক্ষা-কে পুঁজি করে যে মাদার অব ডেমিক্রেসির মতো তুচ্ছ ও সস্তা বয়ান ছাড়া হয়েছিলো তা স্রেফ ছিলো দেশের জনগণকে ঘোল খাওয়ানোর ধান্দা। আওয়ামীলিগের মতো বিএনপির রাজনীতি-ও যে জনপ্রতারণা নির্ভর তার সাক্ষ্য বিএনপির সাংসদেরা ইতিমধ্যে দিয়েছে খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে। এর চাইতে বড়ো দেশদ্রোহীতা আর হয় না। কিন্তু এটা সম্ভব হতো না যদি না মিলিটারী ও সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্র্যযন্ত্রের একটি অংশ এই জনদ্রোহী, দেশদ্রোহী অপকর্মে শামিল হতো। নির্বাচনের রাতে যা আমরা উপলব্ধি করেছিলাম শহীদ ওসমান হাদির আসন সহ বিভিন্ন আসনের ভোট কেন্দ্রগুলোকে রাতের দিকে ভোট গনণার সময় জনবিচ্ছিন্ন করে মিলিটারী ও পুলিশ প্রশাসন দিয়ে ঘিরে রাখার অপকৌশলে। এমনকি একজন প্রার্থীর স্ত্রী পর্যন্ত সশরীরে উপস্থিত থেকে ভোট গণনা প্রভাবিত করবার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিলো। অথচ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমরা দেখলাম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের স্বনামধন্য মিলিটারী অফিসার সন্তানটি পর্যন্ত মিলিটারী ও সেনাপ্রধান কে তোয়াজ করে এক বিরাট কাসিদা ফেঁদে বসলেন। দেশের মানুষকে বুঝতে হবে যে বাংলাদেশের মুল সমস্যা হলো এখানে সর্ষের ভেতরেই ভূত। এই ভূত প্রধানত মিলিটারী। কেননা তাদের হাতেই হার্ড পাওয়ার। তারা নিজেদের স্বার্থের কারনে যতোবার ক্যূ করেছে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে তা কয়বার করেছে? '৯১ এ গণতন্ত্রের অভিযাত্রার প্রাক্কালেও আমরা দেখেছি মিলিটারী ক্যূ করতে সচেষ্ট হয়েছিলো। এর পূর্বে এরশাদের মতো একটা ছ্যাবলা-লুচ্চার অধীনে তারা প্রায় দুই যুগ অনায়াসে কাটিয়ে দিয়েছিলো। ২৮ অক্টোবরে আওমীলীগের লগি-বৈঠাকে কেন্দ্র করে যে এক-এগারোর সরকার এসেছিলো তারা মিলিটারীর পদ-পদবী, বেতনাদি, সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিলেও, ঐ সব হত্যাযজ্ঞের বিচার কিন্তু তারা করেনি। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে যে তৎকালনী সেনাপ্রধান লগি-বৈঠার ঐ তান্ডবের অমানবিকতা ও তার সূত্রেই যে এক-এগারোর সংঘটন তা স্পষ্ট করেছিলেন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারী বিডিআর-মিলিটারী পোনাপুনি হলো। একাত্তুর ও মুক্তিযুদ্ধ যে কতোটা অরাজনৈতিক একটা ঘটনা একাত্তর উত্তর মিলিটারীর সংগঠন ও কাঠামো তার সবচাইতে বড়ো প্রমাণ। কারন যদি সত্যই মুক্তিযুদ্ধের পেছনে কোন রাজনৈতিকতা থাকতো তাহলে সবার প্রথমে মিলিটারী বিলাতী কায়দার এই বর্ণপ্রথা তুলে দিতো। কমিশন্ড ও ননকমিশন্ড এর মধ্যে যে নিদারুণ, কুৎসিত বৈষম্যমূলক প্রভেদ তার একটা বাস্তবিক ও যৌক্তিক সমাধানে তারা সচেষ্ট হতো। আর যদি তা হতো তবে তামাম দুনিয়ার ষঢ়যন্ত্র স্বত্বেও ২৮ ফেব্রুয়ারী হতে পারতো না। অথচ আমরা ২৮ ফেব্রুয়ারী উত্তর অফিসার শ্রেনীর হাঁদারামগিরি, উল্লুকি ও আস্ফালন আমরা দেখলাম। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বদলে মিলিটারী কর্তৃক বিডিআরের ওপর প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে দেখলাম। যা পরবর্তীতে খুনি জিয়ার মতো কর্মকতার জন্ম দিয়েছিলো। তবে মিলিটারী প্রধান ভূত হলেও একমাত্র ভূত নয়। এদের সাথে আছে মামদো ভূত, মেছো ভূত, গেছো ভূত, শাঁখচুন্নি, পেত্নী ইত্যাদি। অর্থাৎ আমলান্ত্র, মামলাতন্ত্র, শিক্ষাতন্ত্র, দালালন্ত্র, ধান্ধাবাজতন্ত্র, চান্দাবাজন্ত্র, নারীবাদীতন্ত্র, গাড়ীবাদীতন্ত্র, বুদ্ধিবেচিতন্ত্র, ধর্মবেচিতন্ত্র প্রভৃতি। কিন্তু এরা সব এক জায়গায় এক সূত্রে গাঁথা। আর তা হলো উদরপন্থা। অর্থাৎ স্বার্থান্ধতা। এই কারনেই তথাকথিত পশ্চিম পাকিস্তানী শোষক শ্রেনীকে বিদায় দেবার পর মোজিবরের বাকশাল এসেছিলো। মোজিবর পকাৎ হয়ে যাবার পর জেয়াওরের ছদ্ম মিলিটারী তন্ত্র এসেছিলো। জেয়াওর পকাৎ হয়ে যাবার পর মিলিটারী লুঙ্গি খুলে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নেমে পড়েছিলো। এভাবে এক চদু যায় আরেক চদু আসে। হয়তো লন্ডনী মুফতিও যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে আসবে? যে শাহবাগী-টি এটুব করে বাঙ্গালী মোছলমানের হিন্দু কাম কমুনিশট এমাম হয়ে গিয়েছে সে আসবে? জুলাই'২৪ এর আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যারা মাফিয়াদের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে দস্তখত দিয়ে বসেছিলো তারা আসবে? কারা আসবে? কাদের আসা উচিত? তাদেরই কি আসা উচিত নয় যারা বিগত প্রায় একশ বৎসর যাবৎ নি:স্বার্থপরতার রাজনীতি করেছে এসেছে? কি বলেন আপনারা? নাকি বারংবার স্বার্থান্ধ লোকদের ক্ষমতায় এনে তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে হাপিত্যেশ করাই আপনাদের খাসলত?