উদরপন্থা: যে কথা হয়নি বলা
একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধানের জবানবন্দী অনুযায়ী খোদ তাঁর পক্ষ থেকে মিলিটারীর খুনী অফিসার জিয়ার প্রমোশনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিরুদ্ধাচারণ স্বত্তেও মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড আওমী পান্ডাদের হুমকির মুখে নিজেদের চাকুরী বাঁচাতে কিংবা প্রমোশন নিশ্চিত করতে জিয়ার প্রমোশনের অনুমোদন দিয়েছিলো। এটা যদি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা না হয় তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা কোনটা? যাদেরকে দেশের মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রশিক্ষিত করলো, অস্ত্রশস্ত্র কিনে দিলো, এমনকি সেই অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের নীতি পর্যন্ত তাদের জন্য শিথিল করে দিলো এই উদ্দেশ্যে যে তারা যেনো দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু ভারতকে পরাস্ত করে দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পারে, তারা ভারত দুর থাক ভারতের এদেশীয় কিছু চ্যালাচামুন্ডার হুমকিতেই কাইত হয়ে গেলো। তাও একজন নয়, দুজন নয়। পুরো একটা মিলিটারী প্রমোশন বোর্ড! অথচ এখনও পর্যন্ত বলা হচ্ছে যে এদের পেছনে আরও বেশী খরচ করলে নাকি এরা ভারতকে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। অনেক ঢিশুম ঢিশুম করবে। কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর আমরা পাইনি তা হলো এই যে ভারত যদি এতোই খারাপ হয়ে থাকে তাহলে একাত্তুরে তাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা হলো কেনো? দুদিন বাদে আম্রিকার সঙ্গ নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে কিংবা চীনের সঙ্গ নিয়ে তুর্কীদের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র ধারণ করা হবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? একটা সময় ছিলো যখন ২৫শে মার্চের "কালো রাতের" গাল গপ্পো শুনিয়ে ইপিআরের বিদ্রোহ-কে জায়েজ করে ফেলা হতো। কিন্তু এখন তো বেরিয়ে এসেছে যে পঁচিশে মার্চ যাদেরকে "মুক্তিযোদ্ধা" বানিয়ে দিয়েছিলো বলে দাবী করা হয়েছিলো তারা বাহাত্তুরে এসে নিজেদের দায়মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ৩রা মার্চ থেকে! তার মানে বোঝা যাচ্ছে যে ২৫শে মার্চ কোন ক্রিয়া নয় প্রতিক্রিয়া মাত্র। পাঠক আমরা বলতে চাচ্ছি এই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া উভয়েই "উদরপন্থা" এর বহি:প্রকাশ। যার ধারাবাহিকতা আমরা দেখেছি মিলিটারী বোর্ড কর্তৃক একজন খুনীর প্রমোশনে। সুতরাং সাতচল্লিশ পরবর্তী সময়ের মতো এখনও যে আবার নানা কাবিল তাদের তন্ত্রমন্ত্র, অমুকবাদ-তমুকবাদ নিয়ে হাজির হচ্ছে ওগুলোও "উদরপন্থা" বইতো কিছু নয়! কেনোনা এরা যে যাই বলুক এদের সবার আঙ্গুল কিন্তু জামাতের পাছার ভেতরে ঢুকানো। তারা শুধু কিছুক্ষণ পর পর আঙ্গুল বের করে নিজেই গন্ধ শুঁকে তা-ই নয় বরং পাবলিকের নাকের কাছেও আঙ্গুল তুলে ধরে। ওফ আপা, গন্ধে! কাজেই হাবুনগরী আর চদুপুরীদের দোয়া নিয়ে যে মদনেরা মদিনার সনদ বাস্তবায়ন করতে এসেছে তাদের প্রথম কাজ হচ্ছে "ইসলামী ব্যাংক" ধ্বংস করে দেয়া যেনো আবারও পিয়নের পোলারা মাহাজন হয়ে উঠবার দুর্বার সুযোগ পায়। আর তাদের কাছে জান্নাতের টিকিট বিলানোর জন্য এক শ্রেনীর হুজুর নারায়ণেরা তো সবসময়ই প্রস্তুত। শুধু হযরত মাহাজনের সুদি কোটর থেকে "আল্লাহর রাস্তায়" একটু দিলেই হলো। আল্লা-মাশাল্লা-ছুবানাল্লাহ। ভাই সকল, আসুন! আমরা কথা না বলি। খুব ফযীলত হবে। মুসলমান কেনো কথা বলবে? কথা বলবে তাগুতের চ্যালা-চামুন্ডারা। আর মুসলমান সেগুলো হাঁ করে গিলবে। কিন্তু সমস্যা হলো কি, দুষ্টু লোকেরা ইতিমধ্যে অনেক কথা বলে গিয়েছেন। মিশরীয় মিলিটারীর কারাগারে বসে যখন সাইয়্যেদ কুতুবের মতো "দুষ্টু লোক" দেশবাসীর সামনে তাগুতী শক্তির স্বরুপ উন্মোচন করছিলেন, যখন তাদের সতর্ক করছিলেন যে এই বাহিনী কখনোই জায়নবাদীদের ওপর খড়গহস্ত হবেনা - তখন এক শ্রেনীর দুর্মুখ বলা শুরু করলো যে মিলিটারীর মাইর খেয়ে উনি আবোল-তাবোল বকছেন। ইতিপূর্বে জামাল নাসের-সাদ্দাম-আসাদ সহ সবার ব্যাপারেই উম্মতের ধীশক্তির অধিকারী ব্যক্তিগণ সতর্ক করে গিয়েছিলেন। কেউ আমলে নেয় নাই। গাযযার গণহত্যার প্রেক্ষাপটে এখন আবার নতুন করে সেই পুরনো আলাপ সামনে আসছে। ষাটের দশকে মিশরীয় মিলিটারীর লোক ভোলানো নিউক্লিয়ার প্রজেক্টের খোল-নলচে বেরিয়ে আসছে। আরব জাতীয়তাবাদের খল নায়ক যে জামাল নাসেরের হজ্জ পালনের ছবি দেখিয়ে মিশরীয়দের ঘোল খাওয়ানো হতো তার সঙ্গী সাথীরাই এখন "আমার ফাঁসি চাই" জাতীয় বিলাপ শুরু করেছেন। তারা বলছেন তাওয়াফের সময় কিভাবে নাসের অধৈর্য্য হয়ে তার সাথীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন যে এই তামাশা (নাউযুবিল্লাহ) কয় চক্করে শেষ হবে? জেরুজালেম বিজয়ের লক্ষ্যে গঠিত তথাকথিত "প্রতিরোধ শক্তির" বিশিষ্ট আকাবীর আসাদ-ও কম নয়। সৌদি মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে চিপায় পড়ে কিভাবে সে ওমরাহ করেছিলো তার গালগপ্পেও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মশহুর। ঐ যে আসরের অক্তো হয় নাই কিন্তু মালেকের খুনী তোফায়েল হারামী মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে যে নেত্রী এখন আসরের নামায পড়বেন। গাড়ীর কাঁচটা এট্টু নামিয়ে দাওতো বাওয়া। বানগালী তাহাজ্জুদ পড়া দেখে একটু স্বস্তি পাক। হেয়াল্লাহ! সাবকো সুমতি দে বাগওয়ান! আমীন। কিন্তু দোয়াতে কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। বাঙ্গালীর সুমতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জুলাই'২৪ এর পরও বিএনপির মতো একটা চোর-ছ্যাঁচড়ের দল ক্ষমতায় চলে গেলো। বুঝলাম গণনার কারচুপি হয়েছে। কিন্তু ভোট তো পেয়েছে নাকি? চল্লিশ শতাংশ না পাক, তিরিশ শতাংশ তো পেয়েছে নাকি? আচ্ছা ধরেন বিশ শতাংশ-ই নয় পেয়েছে। ভোটার যদি পাঁচ কোটিও ধরি তাহলেও এর বিশ শতাংশ হয় এক কোটি। আচ্ছা ধরেন এগুলো সবই আওমী পান্ডা। কিন্তু ভারতীয় তো না, তাইনা? দেশী পয়দা তো? কিন্তু এদের নজর তো থাকে দাদাবাবুদের ল্যাওড়ার দিকে। মাজাক আতা হে। বহোত বহোত মজাক আতা হে। এখন বলেন এই কোটি খানেক মজাক লেনে অলাদের বন্দোবস্ত কি? আমি জানি এদের বন্দোবস্ত কি। এবং তা আমাদের পছন্দ হোক-না হোক দেশের হাল-হকিকত বলছে যে দেশ সেই বন্দোবস্তের দিকেই যাচ্ছে। প্রকৃত সত্য হলো একাত্তুরেই দেশ কাশ্মীর হয়ে গিয়েছে। আমাদের মতো খোঁজ-খবর রাখনেওয়ালারাও টের পেয়েছি অনেক দেরীতে। দেশবাসী টের পেয়েছে আরও অনেক পরে। জুলাই'২৪ এ। কিন্তু তাতে লাভ কি হলো? এক "উদরপন্থা" থেকে বেরিয়ে আরেক "উদরপন্থা"-র ভোগে চলে গেলো। তাতেও শুভবুদ্ধির উদয় হয় নাই। এখন কেউ বলে চীনের ল্যাওড়া ধরো। কেউ তুর্কীদের ল্যাওড়া ধরো। কেউ আবার তারও বাড়া। যে পাকিস্তানের ল্যাওড়া কামড়ে দিয়েছিলো, আসলে ওটাই আবার ধরা ছাড়া গোলাম হোসেনদের উপায় নাই। আমি বলি মদনা! নিজের টুনটুনি উড়ে গিয়েছে সেই খবর রাখিস? কারন ধর্মদ্রোহী মাত্রই ধ্বজভঙ্গ। ধ্বজ হয় মুসলমানের। মেরুদন্ডও থাকে মুসলমানের। কারন সে ভাবে কলব দিয়ে। উদর দিয়ে নয়। কাজেই তার আস্থাও ইসলামপন্থায়। উদরপন্থায় নয়।