উদরপন্থা

যারা বলছেন হাদীকে ভারত হত্যা করেছে তাদের হিসাব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। ভারতই যদি হাদিকে হত্যা করতো তাহলে তার প্রধানতম কারন হতো হাদিকে ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করা। হাদি অন্তত সেই পর্যায়ের নেতা ছিলোনা। সেই হিসেব করলে হাদির আগে জামাত-শিবিরের কমসেকম হাজার খানেক নেতার নাম চলে আসে বলে আমার ধারণা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে হাদিকে সেই কারনেই ভারত হত্যা করেছে তাহলে তার জন্য দুইটা পথ ছিলো। এক হত্যার পরপরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তার দায় নিয়ে দেশের মানুষের ভেতর ভীতিরসঞ্চার করা। দুই হত্যার মধ্য দিয়ে নীরবে তাদের পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়া। কিংবা বড়জোর সেই হত্যার সূত্রে দেশের অভ্যন্তরেই তাদের শত্রুদের অর্থাৎ জামাতের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। এখন আমাকে বলেন ভারত হাদীকে "মেটিকিউলাস ডিজাইন" করে হত্যা করবার পরও হত্যাকারী বিজেপির প্রতিপক্ষ মমতার প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়ে গেলো এবং এরপর বিজেপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হলো - এটা কি হিসেবে মেলে? একমাত্র তখনই এটা গ্রহণ করা যায় যদি ধরে নেই যে এটি খাশোগজি হত্যার মতো একটি আনাড়ি পরিকল্পনা। আমার দৃঢ় ধারণা হাদীর প্রধান হত্যাকারী '৭১ এ "মুক্তিযুদ্ধ"-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত এই জনদ্রোহী খুনী রাষ্ট্র্য। আমি পূর্বেও বলেছি হাদী যেদিন সোনাপট্টির দেয়াল থেকে একটা করে ইট খুলে নেবার কথা বলেছিলো সেদিনই আমার মনে ডাক দিয়েছিলো যে মনে হয় হাদীর মৃত্যু পরয়োনা জারী হয়ে গিয়েছে। যেই মূহুর্তে আমার নজরে তার ঐ ক্লিপ এসেছে খুব সম্ভবত সেই মূহুর্তেই আমি টুইটারে তাকে সতর্ক করবার চেষ্টা করেছিলাম। তার রাজনৈতিক ব্লান্ডারের পরিণতি লাঘব করতে চেয়েছিলাম। যে দেশের বাহিনীর পাঁচ পাঁচজন "জেনারেল" (তার মধ্যে একজন আবার শুনলাম সোর্ড প্রাপ্ত) অসামরিক আদালতের মামলা খেয়ে পালিয়ে যেতে পারে, যে দেশের প্রাক্তন বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের অফিসারগণ অবলীলায় বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে, তদুপরি সেই বাহিনীর প্রতি শুধু এক শ্রেনীর সাধারণ জনগণ-ই নয় বরং অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের সন্তানের মতো স্বনামধন্য অফিসারও অযৌক্তিত অন্ধবিশ্বাস থেকে উদগত নিষ্কলুষতা আরোপ করতে পারেন - সেই দেশকে করায়ত্ব করবার জন্য হাদীকে হত্যার প্রয়োজন ভারতের হওয়ার কথা নয়। আমার বরাবরই ধারণা যে হাদী হত্যার সাথে জড়িত সেনাবাহিনীর ভারত+আওমী পন্থী অংশটি কিংবা আওমীলিগের লোকজন। এবং এর সাথে পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকতে পারে তারা হাদীর রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো অর্থাৎ বিএনপি। কিন্তু যে পক্ষই এটা করুক আমার মতে এটা কোনভাবেই "মেটিকিউলাস ডিজাইনের" অংশ নয়। আর যদি সত্যিই এটাই "মেটিকিউলাস ডিজাইন" হয়ে থাকে তাহলে তো তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য শাপে বর। কারন এমন আনাড়ি শত্রুকে পরাজিত করতে আপনাদেশ ইনশাল্লাহ তেমন বেগ পেতে হবে না। এই সূত্রে এই কথা বলে রাখি যে আপনারা যে খুব অমুকপন্থা-তমুকপন্থা বলে বুদ্ধি কেলাতে চেষ্টা করেন বিষয়টা এমন কিছু নয়। কেবলমাত্র "ইসলামপন্থা" ছাড়া আর বাদ বাকী সব পন্থাই "উদরপন্থা" বিশেষ। এমনকি দেওবন্দী পট্টির যে ফাটকাবাজী তাও তার ধর্মব্যবসা বা উদরপন্থারই অংশ। আপনাদের বুঝতে হবে যে কওমীতে কিংবা মোটাদাগে মাদ্রাসায় আল্লাহর দ্বীন-কে ভালোবেসে খুম কম লোকই পড়তে যায়। অধিকাংশ তাতে শামিল হয় উপায়ন্তর না দেখে। এদেশের দরিদ্র পরিবারের পিতামাতারা স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে সন্তানদের পড়ালেখার মাধ্যমে হিসেবে কওমী শিক্ষাব্যবস্থাকে গ্রহণ করে। পক্ষান্তরে আমার স্বল্প দিনের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে শিবিরে বাংলাদেশের ধনী-মধ্যবিত্ত-দরিদ্র নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের আনাগোনা। কিন্তুু তাদের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মের প্রতি, ইসলামের প্রতি একধরনের টান। সন্দেহ নেই অনেক চোৎমারানিও এতে আছে। বুঝতে হবে যে এটা বাংলাদেশ। জামাত-শিবিরেও আসমান থেকে নেতা-কর্মী নাজিল হয়না। দিন শেষে এরাও আমার-আপনার মতোই বানলাই বটে! তথাপি এই সমস্ত সমস্যা স্বত্বেও ইসলামের প্রতি যে তাদের সরিষা পরিমাণ হলেও একটা দায়, একটা টান কাজ করে এটা অনস্বীকার্য। তদ্রুপ এই যে লন্ডনী মুফতি চীন-পাকিস্তানের ল্যাওড়া চোষার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং বিপরীত পক্ষে তারাও উদগ্রীব হয়ে তাদের ল্যাওড়া বের করে বসে আছেন এতে "ইসলামপন্থা", "পাকিস্তানপন্থা" কিংবা "বাংলাদেশপন্থা" কোনটাই নেই। বরং এতে "উদরপন্থা"-ই প্রধান। সুতরাং আপনাদেরকে ল্যাওড়া চুষতে দেবার নামে বিভিন্ন পক্ষ যে শুধু তাদের টেন পার্সেন বাগিয়ে নেবে তা-ই নয় বরং এও হতে পারে যে বাংলাদেশকে তারা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্রেফ একটা বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করবে। অথচ বিগত ছাপ্পান্ন বৎসর যাবৎ ধর্মহীন-বস্তিপট্টির লোকদের দ্বারা রাষ্ট্র্য নির্মাণের পরিণতিতে এই দেশের আর সেই অবস্থাও নেই যে সে তার অস্তিত্বমূলক লড়াইটাও মোক্ষমভাবে চালিয়ে যেতে সক্ষম। তাহলে এদেশকে ভারত-পাকিস্তান কিংবা চীন-ভারতের মধ্যকার লড়াইয়ের কুরুক্ষেত্র বানানো কি কোন আকলমানের কাজ হতে পারে? ঘটনা হলো বিগত নির্বাচনে যে প্রায় তিন-চার কোটি লোক জামাতকে ভোট দিলো এরফলে বাঙ্গালীর প্রতি আমার অশ্রদ্ধাবোধ ও স্বজাতি বিদ্বেষ অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু তথাপি আপনাদের অরাজনৈতিকতা আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। যেদিন জুলাই'২৪ এর দেয়াল লিখনের একটি স্ক্রীণশট দেখলাম যাতে লেখা রয়েছে যে, "এমন একটি দেশ চাই যেখানে একজন রিকশাওয়ালার সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে", সেদিনই আমি দু:খভরাক্রান্ত মনে উপলব্ধ করেছি যে আদপে জুলাই'২৪ ও মুক্তিযুদ্ধ-ই বটে! ঐযে আপনাদের অনেকে এটাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বলেছিলেন না? ঐটাই। দেয়াল লিখন দেখে তৎক্ষণাৎ আমার মৈজার কথা মনে পড়ে গেলো: তাইজু! আমি কিন্তু ফদাংমোনতি হোবো! এই দেশে আমরা সবাই রাজার দেশ। এবং ঠিক এ কারনেই যে আমদের দাসত্বের ইতিহাস সহস্র বৎসর ব্যাপী এইটা আমি উল্লেখ করেছি বহুবার। আমার শৈশব-কৈশর কেটেছে এই বস্তিপট্টির রাজধানীতে। বেগম জিয়া বলেছিলেনা যে এই শহরের কতো বৈচিত্র্য! আকাশছোঁয়া দালানের পাশেই বস্তি। কিন্তু দালানের বাসিন্দা হওয়া স্বত্তেও, মানিক মিঞাঁ এভিনু তে ঘুরে ঘুরে বড়ো হলেও, তার লাল চত্তরে প্রাত:কালীন ব্যায়াম করবার সময়েও একটি বারের জন্যও আমার মনে ঐ দালানের প্রতি কৌতুহল জাগেনি। একটিবারের জন্যও ফদাংমোনতি হবার খাহেশ জাগেনি। কিন্তু এখন এসে মনে হচ্ছে যেনো আমি ছাড়া আর বাদ বাকী সবার ফদাংমোনতি হবার খাহেশ আছে। যে লন্ডনী মুফতি দীর্ঘদিন যাবৎ বলে "জাতীয় সরকারের" কথা বলে আসছিলেন জুলাই'২৪ পরবর্তীতে সেই লন্ডনী মুফতি-ই ফদাংমোনতি হবার খাহেশে, একক কর্তৃত্বের খাহেশে জাতীয় সরকারের সম্ভাবনাকে ভন্ডুল করে দিলেন। '২৬ এর নির্বাচন তার বিশ্বাসঘাতকতা, তার প্রতারণা প্রমান করে দিয়েছে। বাংলাদেশের তিন-চার কোটি মানুষ যারা জামাতকে ভোট দিলো তাদের ব্যতিরেকে কিসের জাতীয় সরকার? জেয়াওরের ব্যাপারে জামাতের একটি ক্ষুদ্র অংশকে সবসময়েই বিলা থাকতে দেখেছি। তখন মনে হতো এটা দলীয় অন্ধত্ব। কিন্তু এখন এসে পূর্বের সব ঘটনার পূনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছি। মনে হচ্ছে গাদ্দারি-আহমাকি এদের বংশগত দোষ। '০৮ এর নির্বাচনে দেশের মানুষ আওমীদের ভোট দিয়ে গু খেয়েছিলো। '২৬ এ বিএনপি-কে ভোট দিয়ে এবার তাদের গুর তলের মাটি খেতে হবে বলে আমার আশংকা। কেননা আওমীলিগের জনদ্রোহীতা (এট্টু চুকে আনগুল দিয়ে বুঝিয়ে বলি? এই এক শব্দের মধ্যেই ধর্মদ্রোহীতা ও দেশদ্রোহীতা চলে আসে কেননা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হিসেবেই বাঁচতে চায়) দিবালোকের মতো স্পষ্ট হবার পরও তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রশ্ন ওঠানো হচ্ছে। প্রধানত বিএনপি-ই কিন্তু এই সুযোগ করে দিচ্ছে। এবং এতে কোন "বাংলাদেশপন্থা" নেই। আছে সেই "উদরপন্থা"। ঠিক এই বিষয়টাই দেশের মানুষ অনুধাবনে অপরাঙ্গম। আমি তাদের ওপর বিলা ঠিক একারনেই। আমি পূর্বে বলেছি এদেশের মানুষেরা রাজনীতি পিড়ীত। কিন্তু রাজনৈতিক নয়। আমেরিকানরা প্রবল ভাবে রাজনৈতিক কিন্তু রাজনীতি পীড়িত নয়। তথাপি শইয়ারের মতো আম্রিকান পর্যন্ত এখন সেখানে গৃহযুদ্ধের আলামত দেখতে পাচ্ছেন। তাহলে প্রশ্ন জাগে যে আওমী প্রশ্নের সমাধানও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়েই হতে যাচ্ছে কিনা। গতকাল দেখলাম শইয়ার বলছেন যে যেসব জাতিগোষ্ঠী সমূহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তারা গৃহযুদ্ধ ব্যতিরেকে দুনিয়ার আর সব কিছুই মেনে নিতে রাজী হয়। কিন্তু গৃহযুদ্ধ তো কখনও পরিকল্পনা করে হয় না। বরং দুর্ভাগ্যজনক হলেও একথা সত্য যে নিরাপত্তার প্রতি জনমানবের যে আকাংক্ষা এবং প্রাণনাশের বিরুদ্ধে তার যে আতংক ঠিক তার ওপর ভর করেই আসাদের মতো স্বৈরাচারীরা জেঁকে বসে। হাসিনার ১৭ বৎসরের শাসনে এই আলামত সুস্পষ্ট যে আসাদ পরিবারের মতো যদি ছয় দশক (ঘুরে ফিরে সেই '৭১ থেকেই তাদেরও যাত্রা শুরু) যাবৎ সে টিকতে পারতো তাহলে বাংলাদেশের পরিণতি সিরিয়ার চেয়ে ভিন্ন কিছু হতোনা। এই পুরোটা সময় হুজুরপট্টির আলেমোলামা নামক আহলে সিন্নি ওয়াল জামাতের বাটপার গুলো যেমন আসাদ চেটেছে তদ্রুপ হাবুনগরীরাও যে দু'শ বৎসর ধরে আওমী চাটতে প্রস্তুত এতো প্রকাশ্যেই খবর রটেছিলো। কিন্তু তারপর-ও যে এই সব লোকেরাই ধর্মে বেশ ধরে বানলাদের ঘোল খাওয়াতে পারে, তাদের সেকুলার কমরেডরা একাত্তুরের জিগীর তুলে মাঠ গরম করতে পারে কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের হারামী গুলো নিজেদের দোষের দায়ভার বরাবর অমুক-তমুক কিংবা ভারতের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে এখানেই বানলাদের অরাজনৈতিকতার চরম পরাকাষ্ঠা। অথছ সিরিয়ার দিকে তাকান। যে মুজাহিদেরা এক যুগেরও বেশী সময় যাবৎ ইরানের শিয়াবাদের আঘাতে জর্জরিত হলো তারা আজ পর্যন্ত ছৈদি কিংবা আম্রিকানদের উস্কানীতে ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি। বরং তরুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা স্পষ্ট করেই বলেছেন যে ইরান যতোদিন সিরিয়াতে ছিলো ততোদিনই তারা ইরান বিরোধী ছিলেন। ইরান যদি ইরানেই থাকে তাতে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু তাই বলে তিনি মোজিবরের মতো "কিভাবে ক্ষমা করতে হয় বানগালী জানে" বলে ভেটকি দিয়ে বসেন নাই। বরং ইরানের কারনে সিরিয়ার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে তাঁরা মামলা-মোকদ্দমার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসল সত্য হলো চাপার জোরে তিন লক্ষ থেকে থিরি মিলিয়ন সেখানে থেকে তিরিশ লকখো বলে ফাল পাড়া যায়। কিন্তু যখনই ইতিহাস নির্মাণের প্রয়োজন হয়, মামলা মোকদ্দমার প্রসঙ্গ আসে তখন জেয়াওর-জলিল গংদের যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। এতো আর চেতনাৎসিদের মহাভারতের গালগপ্পো নয় যে একদল গুলি করে মুক্তিজুদদা হয়ে যাবে আরেক দল পাল্টা গুলি করে হয়ে যাবে জুদদোপরাদি। ২০১৫ এর দিকেই যখন "জোলানী" আল-কায়েদার সাথে ঘোষণা দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তখনই মন বলছিলো যে এই ছেলেকে দিয়ে হবে। কেননা আম্রিকানদের সীমাহীন চাপে পড়ে সে তার মাতৃ সংগঠন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হলেও তার চোখ মুখের অভিব্যক্তিতে আল-কায়েদার প্রতি বিশেষত জাওয়াহীরির প্রতি তার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাবোধ ফুটে উঠেছিলো। অর্থাৎ সে যে কোন সুযোগসন্ধনী-পল্টিবাজ-গাদ্দার নয় বরং অত্যন্ত বাস্তবজ্ঞান সম্পন্ন এটাই আমার মনে হয়েছিলো। পরবর্তীতে ২০১৮-২০ এর দিকে লক্ষ্য করলাম আস্তে আস্তে সে তার নেতৃত্ব সুসংহত করছে। কখনও পারস্পরিক শলা পরামর্শে ভিত্তিতে, কখনো বা জোর পূর্বক অন্যান্য ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী সমূহকে তার দলে ভেড়াচ্ছে। অর্থাৎ কেবল বালোবাসা দিয়ে কিংবা শুনদর চরিত্র, শুনদর আকিদা দেখিয়ে সবার মন জয় করে ফেলবার হাঁদরামি তার মধ্যে ছিলোনা। কেননা অপদার্থ-উজবোকদের ঘাড় ধরে বশ মানানোই অবশ্য ও একমাত্র কর্তব্য। এবং সর্বপোরি সিরিয়ান বিদ্রোহীদের এক অংশে যেমন বেকুবের মতো তুরস্ক ও এরদোগান বিরোধীতা দেখতাম (এরদোগান র এজেম, মোছাদ এজেম, ঘনতনত্র হারাম! কি আম্রিকা আব্বু মাইন করবে?) তার বদলে তুরস্কের সাথে "জোলানীর" বোঝাপড়া (collaboration or mutual understanding) করে চলবার প্রবণতা দেখে সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তার প্রতি আস্থাও গিয়েছিলো বেড়ে। জুলাই'২৪ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সৌদি আলিম মুহাইসিনি আহমাদ আল-শারার ব্যাপারে তার মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে একটা কথা আমার মনে গেঁথে যায়। তিনি কোন এক পর্যায়ে শারাকে বলেছিলেন যে, আপনার কাজ কারবার ধরাতো মুশকিল। কখনও মনে হয় আপনি জিহাদি-কায়েদা। কখনও মনে হয় আপনি ইখওয়ানি-পলিটিশিয়ান। কখনও মনে হয় আপনি-তুর্কী বাস্তববাদী (pragmatist)। আপনি আসলে ঠিক কি? শারা নাকি তখন উত্তরে বলেছিলেন যে, দেখেন ভাই বিগত শতকে বহুভাবে আমরা মুসলমানরা চেষ্টা করেছি। অতীতে যেভাবে চেষ্টা করে ধরা খেয়েছি তার পুনরাবৃত্তি করাতো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথ বিনির্মাণ-ই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। এই চিন্তা আমার চিন্তাধারার সাথে হুবহু মিলে যাওয়ায় আমি যারপরনাই উল্লসিত হয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনক হলেও বলতে হচ্ছে যে আমাদের দেশে ইসলামের জন্য ত্যাগ-তীতিক্ষা ও সংগ্রামের এতো ইতিহাস থাকলেও এহেন ধীশক্তি (caliber) কিংবা বিচক্ষণতা (acumen) সম্পন্ন নেতৃত্ব অন্তত: আমার চোখে পড়ছে না। এটা আমকে খুব পীড়া দেয়। অস্থির করে তোলে।

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন