বামাতি নিরাজ্যবাদের ইউটোপিয়া
প্রাক্তন শাহবাগী ফ্রান্স পলাতক চীনপন্থি-বামাতি পিনাকীর একটি সাম্প্রতিক ভিডিও দেখলাম। তার শিরোনাম 'বাংলাদেশে আরেক বিপ্লব আসন্ন'। শিরোনামের সাথে কোন দ্বিমত নাই। তবে এতে যা বলা হয়েছে তা দুশ্চিন্তার বৈকি!
প্রথমত আমাদের এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করা দরকার যে, কোন ব্যক্তির কর্মের ফয়সালা ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ ব্যতিরেকে অসম্ভব। প্রশ্ন হলো পিনাকীর পরিচয় কি? এই প্রশ্ন আমরা আগেও করেছিলাম। আমরা এটাও দেশের মানুষকে স্মরণ করে দিয়েছিলাম যে পিনাকীর আত্ম-স্বীকৃতি অনুযায়ী তার পপুলিস্ট বাগাড়ম্বর তার বামাতি রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বিশেষ। যা বাস্তবায়নের প্রশ্নে তার পূর্বের বামাতি কমরেডদের সাথে তার বনিবনা না হওয়ায় তিনি তার দল থেকে বেরিয়ে যান।
সেই হিসেবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইসলামী মানসের ধারণ তার বামাতি প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ। গোলটা বেঁধেছে এই খানে যে আবেগি ও সরল প্রকৃতির বাঙ্গালি মুসলমান পিনাকীর এই ধর্মীয় বাগাড়ম্বর-কে ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে বসে আছে। কিন্তু তার বক্তব্য ও মানসে বামাতি চিন্তাধারার বিষ সুস্পষ্ট।
এর মধ্যে সব চাইতে ভয়ংকর নিদর্শন হলো নিরাজ্যবাদী ধ্যানধারণার উপস্থিতি। নিরাজ্যবাদ বামাতি শ্রেনীহীন প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ। বামাতিদের একটি অংশ তথাকথিত 'স্থায়ী বিপ্লব' বা 'চলমান বিপ্লবের' মাধ্যমে 'শ্রেনীহীন সমাজ' বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। যে কারনে তারা যে কোন রাজনৈতিক প্রশ্নে সর্বদা সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়াকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে। পিনাকী বিভিন্ন সময় তার এই সরকার বিরোধী প্রবণতার কথা স্বীকার করেছেন। আলোচ্য ভিডিও-তে পিনাকী বলতে চাচ্ছেন যে বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা নিজেদের ছাড়া কাউকে মানে না। এটাই শ্রেনীহীন-নিরাজ্যবাদ।
অত্র ভিডিও-তে পিনাকী '৫২ থেকে '২৪ এর যেই যোগসূত্র আবিষ্কার করেছেন এটাও যেকোন জনপ্রিয় আন্দোলনে মিশে গিয়ে তার লাগাম নিজেদের হাতে নিয়ে নেবার যে বামাতি খাসলত তারই বহি:প্রকাশ। যেখানে পিনাকী নিজে পাকিস্তান আমলে ভারতপন্থী আওয়ামীলীগ ও বামাতিদের পাকিস্তান বিরোধী মিথ্যাচার ও অপরাজনীতি নিয়ে বহু আলোচনা করেছেন, তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন সেখানে আলোচ্য ভ্লগে সেই সকল আন্দোলনের পক্ষেই বৈধতা উৎপাদন করবার প্রচেষ্টা হয় তার রাজনৈতিক মানসের অস্থিরতার প্রকাশ অথবা তার বামাতি দুরভিসন্ধির পরিচয়।
মূলত '৪৭ এর পরাজিত শক্তিবর্গই '৭১ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গ-কে অস্থিতীশীল করে রেখেছিলো। এটাতো ঐতিহাসিক বাস্তবতা যে '৫২ এর তথাকথিত ভাষা আন্দোলন এ নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল মাত্র একজন ঐ আন্দোলন কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলো, তাও বামাতি। বাদবাকি সবাই সাধারণ মানুষ-পথচারী যারা বামাতি লাশের রাজনীতির নির্মম শিকার। কেননা '৫২ তে শুধু পূর্ব-বঙ্গের প্রশাসনই নয় বরং পুরো পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন একজন বাঙ্গালী।
এটাই যদি বাস্তবতা হয় তাহলে ভাষা-কে কেন্দ্র করে দুই পাকিস্তানের মধ্যকার এই বিভাজনের বয়ান তৈরী করা হলো কেনো? 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিবার চায়'- বলে কেনো অতিরঞ্জন ও মিথ্যাচার করা হলো? যে জিন্নাহ '৪৮ সালে মারা গেলেন কেনো তাঁকে '৫২ তে সংঘটিত অনাচারের জন্য দায়ী করা হলো? যে জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিলো গুজরাটি, তাঁকে কেনো উর্দু প্রেমী দানব হিসেবে উপস্থাপন করা হলো? কেনো '৪৮ সালে প্রদত্ত জিন্নাহর ভাষণ-কে খন্ডিত করে কেবল মাত্র 'উর্দু এবং উর্দু-ই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' - এই বক্তব্য দিয়ে বাংলাভাষী জনগণ-কে ক্ষেপিয়ে তোলা হলো?
একথা আমি অস্বীকার করছি না যে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বাক্যটি জিন্নাহর একটি বড়ো রাজনৈতিক ভুল (political blunder) ছিলো। যদিও পুরো বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে শুধু বাঙ্গালী কেনো কারও মুখের ভাষা-ই কেড়ে নেয়ার কথা হচ্ছে না। বরং পুরো পাকিস্তান জুড়ে যে অসংখ্য নৃতাত্তিক ও বহুভাষী জনগোষ্ঠীর বসবাস তাদের সকলকে একটি রাষ্ট্রীয় সংগঠনের অধিনে পরিচালিত করবার জন্য একটা রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রয়োজন যা মোটা দাগে সকলের নিকট বোধগম্য (lingua franca)।
এখন আমাকে বলেন উর্দু ছাড়া আর কোন ভাষা বিদ্যমান ছিলো কিনা যা ইতোপূর্বেও রাজ্য পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়ে এসেছে এবং যা কমবেশী সাধারণের নিকট বোধগম্য? এমনকি ফার্সী ভাষা ইসলাম ধর্মে শিক্ষিত শ্রেনী যারা আলেম-ওলামা হিসেবে সমাজে পরিচিত তাদের বোধগম্য হলেও অধিকাংশ মানুষই সে ভাষা বুঝতো না। উর্দু-ই ছিলো একমাত্র ভাষা যার শব্দ গুলোর সাথে উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষ-ই কমবেশী পরিচিত। কেননা এই ভাষার উৎপত্তি-ই হয়েছিলো দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে। বহুজাতীয় শাসক শ্রেনীর সাথে বহুজাতীয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভাষার মেলবন্ধনেই উর্দু ভাষার জন্ম।
এতদস্বত্তেও এই যে উর্দু-কে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্থানের মধ্যকার একটা জাতিগত বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে তৈরী করা হয়েছিলো এর মূলে ছিলো বামাতি শয়তানি। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সংগঠন তমুদ্দুন মজলিশের হাশিম গং ছিলেন পুরোপুরি বামাতি চিন্তায় আসক্ত। পাঠক, সেই তমুদ্দুন মজলিশ কর্তৃক খেলাফতের পক্ষে পুস্তিকা তৈরী আর পিনাকীর দ্বারা ইসলামী মানসের ভেক ধারণ বামাতি অপকৌশলের একই রুপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বামাতিগুলোর যে ফিলিস্তিনপন্থী এক্টিভিজম এগুলো-ও সেই একই প্রকার।
মুসলিম ঘরে জন্ম নেয়া আমেরিকান নিবাসী এক বলশেভিক মেয়েকে দেখলাম তার টুইটার প্রোফাইলে রীতিমতো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'- লিখে রেখেছে। এখন কলেমার এই প্রথম অর্ধমাংশ দেখেই সরলপ্রাণ মুসলিমদের একাংশ কাইত হয়ে যায়। সে এটা উপলব্ধি করেনা যে এর মধ্য দিয়ে 'মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ' কে গায়েব করে দেয়া হয়েছে। যেনো সময় মতো তদস্থলে মার্কস খলিফাতুজ দজ্জাল কে বসিয়ে দেয়া যায়।
হয়তো কায়েদে আযমের উচিত ছিলো পাকিস্তানে অবস্থিত সকল জাতিভাষীর পন্ডিত ও নেতৃস্থানীয়দের সমন্নয়ে একটি রাষ্ট্র ভাষা নির্ধারনী কাউন্সিল করা। কিন্তু তাতেও যে দুষ্ট লোকদের (bad actors) খারাবী থেকে মুক্তি মিলতো তা তো নয়। মোজিবরের মতো নীচু জাতের ক্ষমতা লোভীরা যেখানেই থাক তাতে শান্তিপূর্ণ-বুদ্ধিবৃত্তিক-পদ্ধতিগত সমাধানের প্রত্যাশা করা আত্ম-প্রতারণা বৈকি!
আলোচ্য ভিডিওর পুরোটিতে বামাতি দ্রোহের একটা প্রচ্ছন্ন কিন্তু ভয়ংকর উপস্থিতি টের পাই। যার ফল হবে এই যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনমানুষের সমর্থন নিয়ে কোন ইসলামী সরকার যদি প্রতিষ্ঠা পায় তার বিরুদ্ধে নেয়ে খেয়ে সাধারণ জনতাকে লেলিয়ে দেয়া হবে। কেবল মাত্র সরকার বিরোধী এই উদ্ভট বামাতি স্পৃহায় তাড়িত হয়ে এবং অলীক-অসার আর্দশে মদমত্ত হয়ে।
এই যে '৬৯ এর তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান-কে তরুণদের প্রজন্মান্তরে দ্রোহেসিক্ত হবার প্রশিক্ষণক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হলো এটাই বামাতি নিরাজ্যবাদী বিকারের লক্ষণ। কেননা ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গে যে দক্ষেরযজ্ঞ শুরু হয়েছিলো তার জুড়ি '৭১ পূর্ববর্তী ২৪ বছর ও তৎপরবর্তী ৫৪ বৎসরে মেলা ভার। বরং সেই আমলের অর্জনকে পরবর্তী-তে জেয়াওর সহ অন্যান্যারা ছিনতাই করে নিজের শাসনের পক্ষে বৈধতা তৈরীর অপতৎপরতা চালিয়েছিলো।
এক্ষেত্রে সমস্যা হলো জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রকল্পের একজন গুণগ্রাহী হিসেবে ষাটের দশকে পূর্ব-পাকিস্তানের ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলা-টা আমার জন্য বিব্রতকর বটে! কেননা এটা আইয়্যুব খানের আমল। এই সেই মিলিটারী শাসক যে কাদিয়ানী নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনে অন্তর্ঘাত (sabotage) চালিয়ে তার দায়ভার আল-ইমাম আল-উস্তাদ সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী রহ: এঁর ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলো। এবং শুধু চাপিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয় নাই বরং উস্তাদের ফাঁসির আয়োজন চূড়ান্ত করেছিলো।
তথাপি কোরআন নির্দেশ দিচ্ছেন যে সত্য কথা বলো যদি তা নিজের বিরুদ্ধেও হয়। তাই আইয়্যুবের কাজের সত্যনিষ্ঠ পর্যালোচনা জরুরী। তবে তা সম্ভব নয় যাবৎ পিনাকীর মতো ব্যক্তি আইয়্যুবেরও পরিচয় চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর তার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো তার জীবদ্দশায় তারই পৃষ্ঠপোষকতায় লেখা কিতাব 'প্রভু নয় বন্ধু' (Friends not Masters)। এবং সেই সাথে Craig Baxter এর অনূদিত আইয়্যুব খানের ডাইরী যার বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপার আমার কোন ধারণা নাই।
দুটার কোনটাই আমি পড়িনি। তবে পড়বার ইরাদা রাখি। কিন্তু এর কিছু উদ্ধৃতাংশ (excerpts) পড়ে আমি বিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম। কেননা বাঙ্গালী সম্পর্কে আই্য়্যুবের যে অভিজ্ঞতা-উপলব্ধি তা আমার সাথে অনেকাংশেই মিলে যায়। এক্ষেত্রে পার্থক্য-টা হলো আইয়্যুব বাঙ্গালী ছিলেন না। আমি বাঙ্গালী। আইয়্যুবের কিতাবের সার নির্যাস ( ফুটনোট ১ ও ২ দ্রষ্টব্য) থেকে এটা স্পষ্ট যে তিনি বিজ্ঞানবাদ তথা ডারউইনীয় বাঁদরবাদে মানসিকভাবে ক্লিষ্ট ছিলেন। মোটা দাগে Martial Races নামক এই মানস তিনি মিলিটারীর উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন এনরেজদের থেকে। কিন্তু বাঙ্গালীর যে দীর্ঘদিনের দাসত্বের ইতিহাস, তার বাহ্যিক মুসলিম বেশভূষার অভ্যন্তরে যে প্রবল হিন্দুয়ানী মানস, তার চরিত্রহীনতা, সন্দেহপ্রবণতা, কূপমন্ডুকতা, তার প্রকৃতিজাত অস্থিরচিত্ত, আলস্য, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞার সংকট - এসবই আমার যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ। সুতরাং প্রায় আর্ধ-শতকের বেশী সময়েরও আগে একজন অবাঙ্গালীর অনুরুপ অভিজ্ঞতা আমাকে বিস্মিত করেছে বৈকি!
তো মূল কথা ছিলো যে আইয়্যুবের আমলের এই বিপুর কর্মযজ্ঞের উপস্থিতিতে '৬৯ এর তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করার যৌক্তিকতা কতোটুকু? সুতরাং আজ যখন পাকিস্তান আমলের এই বিপুল অর্জনের বিষয়টি (ফুটনোট ৩ দ্রষ্টব্য) আবারও সামনে আসছে তাতো আশ্চর্যের নয়। এমনকি পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা, রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পের সাইট জরিপের মূল কাজও পাকিস্তান আমলে হওয়া। তাহলে '৭১ পরবর্তীতে বিগত ৫৬ বৎসরে "গরীবের ঘরের মেধাবীদের" জাতে তোলা ছাড়া আর আমরা ঠিক করতে পেরেছি?
সে প্রসঙ্গ থাক। বলছিলাম পিনাকীর সূত্রে নিরাজ্যবাদের কথা। এই কথা আমি বহু বৎসর যাবৎ বলে আসছি। তবে ভূলবশত: Anarchism এর বাংলা করেছিলাম নৈরাজ্যবাদ। যার সঠিক অনুবাদ হবে নিরাজ্যবাদ। এটা আমার বহুদিনের উপলব্ধি যে আরবে লা-মাজহাবি নজদীবাদ নিরাজ্যবাদেরই আরেক প্রকার। যদিও তা বামাতি চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত নয়। তার প্রেক্ষাপট ও বিকাশ ভিন্ন। কিন্তু ঘটনা (phenomenon) একই।
নিরাজ্যবাদের অসম্ভব্যতা নজদিবাদের মাধ্যমে প্রমাণিত বলে মনে করি। আমার ধারণা হলো পেট্রোডলারের আধিপত্য ছাড়া নজদিবাদ টিকবে না। কারন মাজহাব সমূহের গোড়াপত্তনের একটা অর্থনৈতিক কার্যকারণ আছে বলে মনে করি। নিরাজ্যবাদ যেমন প্রত্যাশা করে যে সবাই বিরাট কুতুব হয়ে এক পর্যায়ে কৈবল্য অর্জন করবে তার জন্য সম্পদের সহজলভ্যতা পূর্বশর্ত। এই পেট্রোডলারের জেরেই অধুনা মধ্যপ্রাচ্যে আমরা এতো বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় পন্ডিত শ্রেনীর উত্থান দেখতে পাই। কাজেই এটা আশ্চর্য নয় যে মধ্যপ্রাচ্যের অখ্যাত কোন মসজিদেও এমন স্তরের মুহাদ্দিস-ফকীহ পাওয়া যায় যাঁরা ব্যক্তি বিশেষের সমস্যার আলোকে ধর্মীয় সমাধান মাসলাহা প্রদানে সক্ষম। এখন আমাকে বলেন বাংলাদেশে এমন জ্ঞানী লোকের সংখ্যা-ই বা কেমন আর এহেন সময় সাপেক্ষ কাজে লিপ্ত হবার অর্থনৈতিক সুযোগটাই বা আছে কজনার?
পিনাকীর পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরেকটি বড়ো সমস্যা হলো বাঙ্গালীর উদভ্রান্ত মানস। জামাতের গর্ভজাত হয়েও জামাত বিচ্যূত যে কাবিল-টি পিনাকীর মতোই মাও যে দং এর ল্যাওড়া চুষে সুখ পায় তার দাবী হলো পিনাকী র এর ডাবল এজেন্ট। '২৬ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে একটা প্রোফাইল নজরে আসে। নিজেকে আল-বদর, আল-শামস, প্রভৃতি দাবী করা ব্যক্তিটি-ই আবার দেখলাম সিরাজ শিকদারের "শাহাদৎ" নিয়া খুব মাতম করতো। তখন আমার এই বোধদয় হলো যে সত্যিই যদি আল-বদর, আল-শামস নামক প্রভৃতি প্যারা-মিলিটারী বাহিনী সমূহ '৭১ এ তৈরী হয়ে থাকে হয়তোবা তা বামাতিদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দেরই ফসল। অর্থাৎ চীন পন্থি কমুনিশট আল্লাহুয়াকবার বলে কোপাইছে রুশ পন্থী কমিনিশট-রে আর দুর্নাম হইছে ইসলামের, ইসলামিস্টদের।
পাঠক আমি পূর্বেও বলেছি '৪৭, '৭১, আর '২৪ কে এক সুতোয় গাঁথবার কোন সুযোগ নাই। বরং এই যে '৪৭ পূর্ব হিন্দু চাটা মাদানী গং উপায় না পেয়ে ইদানীং ধূতির তল থেকে বেরিয়ে এসে ন্যাকা কান্না জুড়ে দিয়েছে এটাই প্রমাণ করে যে '৪৭ এর পরাজিত শক্তিবর্গই জামাত বিদ্বেষ লালন করে। যাদের আকাবীরেরা হিন্দু-মুসলমান এক জাতি এই কুফরী বিশ্বাস লালন করতো তাদের জন্য জামাতের আকীদা নিয়ে খড়গহস্ত হওয়াটাই ছিলো আবশ্যক। তা না হলে তো বহু আগেই তারা দিগম্বর হয়ে যেতো। যেভাবে কদিন আগে পাকিস্তানে মুক্তিযুদ্ধ করতে যাওয়া কংগ্রেসী হিন্দুদের দলদাস আতাউল্লা বোখারীর চ্যালা-চামুন্ডাগুলো নাঙ্গু হয়েছিলো।
পিনাকী ভিডিওতে বলেছেন যে জুলাই'২৪ কারও একক নেতৃত্বে হয় নাই। এটা সত্য। কিন্তু পিনাকী এটা বলেন নাই যে জুলাই'২৪ এ মাঠের মূল নিয়ামক শক্তি ছিলো জামাত-শিবির। পিনাকী এটা বলেন নাই যে জুলাই'২৪ বেচে খাওয়া মাস্টার্ডমাইন্ডেরা যখন মাফিয়াদের কাছে আত্মসমর্পনের দলিলে দস্তখত দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়েছিলো, তখন সাদিক-ফরহাদ সহ শিবিরের বাচ্চা বাচ্চা ছেলে পেলেরাই জানের ঝুঁকি নিয়ে হাসিনা পতনের এক দফা দাবী তুলেছিলো। মূলত এটাই ছিলো আওয়ামী মাফিয়া শাসনে পিষ্ট আম-জনতার একমাত্র চাওয়া। এ কারনেই যখন জালিমশাহী রাষ্ট্রযন্ত্রের যৌথ সশস্ত্র বাহিনীর গুলি ও আক্রমণ উপেক্ষা করে জামাত-শিবিরের জনশক্তি সিনা টান করে দাঁড়ালো তখণ জনতার ভয়ও কেটে গেলো। আপামর জনতা নেমে এসে হাসিনার তখতে তাউস উল্টে দিলো।
আর যদি তা-ই হয় তবে আগামীর বিপ্লব হবে ইসলামী বিপ্লব। মহান আল্লাহ চাহেন তো সেই বিপ্লবের হাল ধরবে জামায়াতে ইসলামী। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠী তাদের পিছনে সিনা টান করে দাঁড়াবে। যদি তা না হয় তবে আমরা হয়তো "লাল" মুক্তিযুদ্ধ কিংবা "লাল" জুলাইয়ের মতোই অন্য কোন প্রহেলিকায় পড়ে যাবো। অন্য কোন ধান্ধাবাজ গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে যাবো। হোক তা ধর্মীয়, হোক অধর্মীয়।
সর্বশেষ একটি বিষয়ের প্রতি দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। পিনাকী তার প্রতিটি ভিডিও শেষ করেন লাল পর্দা দিয়ে। এই লাল যে রক্ত খেকো বামাতিদেরই লাল আজই প্রথম তা মন হয়ে এমন ভীতির সঞ্চার করলো যে এক রকমের শিহরণ যেনো শিরদাঁড়া বেয়ে গেলো। বামাতি অভিশাপের ইতিহাস সম্পর্কে অধিকাংশ বাঙ্গালি-ই এখনও অজ্ঞাত। বিংশ শতকের অধিকাংশ স্বৈরাচারী জানোয়ারগুলো ছিলো বামাতি। বাদবাকীগুলো কোন না কোন ভাবে ডারউইনবাদী। পলপট, স্টালিন, মাও - এদের প্রত্যেকের গৃহীত শস্যনীতির ফলে অগুণিত আদম সন্তান প্রাণ হারিয়েছিলেন। বাংলাদশে মোজিবরের শাসনামলের দুর্ভিক্ষ তার এক শিশুসূলভ ক্ষুদ্র সংস্করণ।
এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের। আপনারা কি নানা কাবিলের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হয়ে দেশ-জান-সম্পদ হারাবেন, না জামায়াতে ইসলামীর যে বহুল চর্চিত, পরীক্ষিত, সুসংগত, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রকল্প তাতে স্থিত হয়ে দৃঢ় ও দ্রুত গতিতে জাতীয় সমৃদ্ধি ঘটাবেন সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে আগামীর বিপ্লবের সাফল্য।
১) https://www.jamhoor.org/read/the-caricatured-bengali-amp-the-pakistan-army [নোট: এটা বামাতি পত্রিকা। নামটা দিয়েছে খুব কাশ্মীরি-এছলামিক। আল-হামদুলিল্লাহ ফর এভেরিথিং। নিজেদের পরিচয় কিভাবে দিচ্ছে দেখুন বিডু-ফমান সহ। এ কি বললো! এ কি হলো! নেডে সেরে দিলাম।
]
২) https://paulstaniland.com/2017/04/24/ayub-khan-and-the-bengali-question/
৩) ভারতীয় ‘প্রো'পা'গা'ণ্ডা’য়' আড়াল পাকিস্তানের ‘উন্নয়ন’ | Bangla Edition
৪) মাস খানেক আগে Islam and Anarchism: Relationships and Resonances by Mohamed Abdou শীর্ষক বইয়ের খবর পেলাম। ২০২০-২১ এর দিকে লেখা। আশ্চ্যর্যের বিষয় হলো নজবীবাদ-ও যে এক প্রকারের নিরাজ্যবাদ তা আমার ঐ সময়টাতেই উপলব্ধি হয়। আজিব দুনিয়া!