'২৬ এর নির্বাচনের অন্য হিসেব
জামায়েতে ইসলামীর তরুন নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন বিএনপির সাথ জোট করে তাদের অপকর্মের দায়ভার নিতে জামায়াত আর ইচ্ছুক নয়। অতীতের দিনগুলোতে জামায়াত বিএনপি-কে বিজয়ী করে আসলেও এখন আর সেই পুরনো বন্দোবস্তে তাদের কোন আগ্রহ নাই। মাসুদ ভাইয়ের এই আলাপে আমার উপলব্ধি হলো যে, '২৬ এর নির্বাচন-কে এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেও পুনর্মূল্যায়ন করবার যথেষ্ঠ সুযোগ আছে। বিগত দশকের শুরুতে আওয়ামী প্রতাপ-প্রতিপত্তির সময়টাতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের নির্বাচনে কার্চুপির পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ মানুষ ইসলামপন্থী বা জামায়াতে ইসলামের সমর্থক। সেই হিসেবে একথা বলবার সুযোগ আছে যে বাংলাদেশে দুইটা প্রধান রাজনৈতিক ধারা। একটা মুক্তিযুদ্ধ পন্থী, আরেকটা ইসলামপন্থী। একটা সংকীর্ণ বাঙ্গালী নৃতাত্তিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আরেকটা বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভাতৃত্ববোধের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথম ধারার রাজনীতির আতুড়ঘর হলো হিন্দুত্ববাদী বামপন্থা। তার বিকাশ ও সফল পরিণতি হয়েছে আওয়ামীলিগের দ্বারা। দ্বিতীয় ধারার রাজনীতির প্রস্তাবক ও সংগঠক উভয়ই জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এখানে মৌসুমী আগুন্তক মাত্র। সুযোগ বুঝে চিপা দিয়ে ফুড়ুৎ করে ঢুকে পড়া ধান্ধাবাজ। কাজেই কমসেকম ২৫ শতাংশ এই আদমশুমারীর এই হিস্যা পুরানা। একাত্তুর পরবর্তীতে ইসলামপন্থার পীড়নে আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান সাহেবের ধূর্ততা ও ছলাকলায় ঐ ২৫ শতাংশের একটা বড়ো অংশ বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে। বিএনপির প্রতি এই সহানুভূতি কিংবা ভক্তি পরবর্তীতে জোট রাজীনতির মাধ্যমে আরও বিকাশ লাভ করলে ভোটের হিসাবে জামায়াতের শতাংশ হার মার খেয়ে যায়। তবে ইসলামপন্থার অংশটা কখনই কমেনি বরং বেড়েছে। আর তার হার বৃদ্ধি পেয়েছে বিগত আওমী মাফিয়া আমলের দমন-পীড়নে। কাজেই এবারে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি মানুষ যে ভোট জামায়াত-কে দিয়েছে তা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের ভোট-ই। এই ভোটের জোরেই বিএনপি এতোদিন রাজনীতির মাথায় নূন থুয়ে বরই খেয়েছে। এ কারনেই এবার আওয়ামীলীগের ভোট একত্র করেও এমনকি ঢাকা শহরের আসনগুলোতেও গণনার কারচুপি করতে হয়েছে। তাও রাজনীতিতে নবাগতদের বিপরীতে। ডা. খালিদ সাহেবের বিপরীতে লন্ডনী মুফতি-কে যে এনজিনিয়ারিং করে জেতানো হয়েছে এইটা আমার বদ্ধমূল ধারণা। সুতরাং এই নির্বাচনে জামায়াতের উত্থানের আলাপ দিয়া কাম নাই। '২৫ এর শেষেও তো বামাতি কথকগুলো জামায়াত-কে ৩ শতাংশের বেশী ভোট দিতে রাজী ছিলো না। এই স্তরের বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়েও তো শুনলাম অনেকে ফদাংমোনতির উপদেষ্টা পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। হোক, সেটা বিএনপির ব্যাপার। ভ্যাগার লাই ভ্যাগী, চ্যাগার লাই চ্যাগী, রাজার লাই, মহাদেবী। দেখার বিষয় হলো আওমী ভোটে পার পাওয়া বিএনপি ভ্যাগী আর চ্যাগীদের নিয়ে তার সংসার কতোদিন টেকাতে পারে।