Posts

জুলাই কাহা-নি

জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পর অর্ধ-বৎসর পার হতে চললো। বহু ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে ঈমান এবং কুফর এর লড়াই, এই ব-দ্বীপের ইসলাম প্রিয় জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও স্বাধীকার আদায়ের লড়াই প্রকট হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে যা প্রকাশ পেয়েছে মজলুম জননেতা এটিএম আজহারের মুক্তির আন্দোলনে। এর ফলাফলের ওপর জুলাইয়ের পট-পরিবর্তনের যথার্থতা নির্ধারিত হবে। ছায়ারাষ্ট্র্যের স্বার্থান্ধ, খোদাদ্রোহী, বিভ্রান্ত, ও কপট কারিগরদের ক্ষমতার গভীরতাও বোধ করি এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে। যদিও এটিম আজহারের মুক্তি এবং বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের জনগণ বিশেষ করে মুসলিমদের কল্যাণকামী একমাত্র পরীক্ষিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়া নিকট ভবিষ্যতের জটিল সংগ্রামের একটা দিক মাত্র। কেননা এই সংগ্রামে ময়দানের লড়াইয়ের সাথে চিন্তার লড়াইয়ের মেল বন্ধন করানোটা অতীব জরুরী। বাঙ্গালীর দুর্বল আকলজ্ঞান এই মেল বন্ধনের পথে প্রধান বাধা হলেও এর ক্ষেত্র তৈরী করেছে আন্দোলনের সুবিশাল জনগোষ্ঠী যারা তাদের লক্ষ্যের প্রতি একনিষ্ঠ হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে দলীয় কর্ম ও চিন্তা পদ্ধতিকে পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। এই বিষয়টা মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব উপলব্ধি করেছ...

ওফফফ ... গনধে- আপা-

Image
বাংলাদেশের এক রান্নার অনুষ্ঠানে এক সহ-উপস্থাপিকা রান্নার শেষে প্রায় বলতেন, ওফফফ ... গনধে- আপা- । এটা আমাদের জন্য এক বিরাট বিনোদনের উৎসে পরিণত হয়েছিলো। আমরা সে অনুষ্ঠানে এই ডায়ালগ শোনার অপেক্ষায় থাকতাম। খুব সম্ভবত সেই সহ-উপস্থাপিকা বিষয়টি উপলব্ধি করে পরের দিকে এটা আর বলতেন না। কথা হলো গন্ধ যেমন বাস ছড়ানো বোঝায় ঘ্রাণও তেমনি। যদিও সুঘ্রাণ এর বিপরীত দুর্গন্ধ। তথাপি সুবাস অর্থেও গন্ধ ব্যবহৃত হয়। যেমন, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই। গোলটা এখানেই। ওফফফ ... গনধে- আপা- তবে বাঙ্গালীর গন্ধ-বাসের অনুভূতি কম বলেই মনে হয়। আপনি যদি ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে যান দেখবেন আলীশান লেক সাইড এপার্টমেন্ট। লেক মানে বুঝছেন তো? নর্দমা। তার দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা দায়। এই জিনিসও কোটি দরে বিকোয়। আবার পুরনো ঢাকার "ঐতিহ্যবাহী" রেস্টুরেন্ট গুলোতে যান। দেখবেন মুরগী, গরু, খাসীর বিরানির ডেকচির পাশে উঁচু করে রাখা পাঁচ-মিশালী কালো ময়লার স্তুপ। বোধকরি শাহজাহানের মতো সৌখিন বাদশাহ যদি এখন মোরগটুলি যেতেন মুরগী হয়ে যেতেন। কিংবা মনে করেন আপনার ভিনদেশী কোন পরিচিত, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় এসেছে। আপনি খুব আত্মবিশ্বাস...

অত্রাঞ্চলে আমি-ই রাষ্ট্র্য, আমি-ই তার পতি

যে সময় সামরিকতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ – এর কিম্মুতকিমাকার সংমিশ্রণের রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একে একে বিনাশ হচ্ছে সেই সময় এই পোড়ার দেশে সেই রাজনীতি নতুন করে যেনো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। গাদ্দাফী, সাদ্দাম, বাশার এর মতো কুলাঙ্গারদের পরিণতি বরণ করাই যার চূড়ান্ত গন্তব্য। মিশর ও পাকিস্তান, উপনিবেশোত্তর সোনাপট্টির এই স্বার্থান্ধ রাজনীতির সর্বশেষ দুর্গ। যদিও পাকিস্তানের বিষয়টি অনন্য। তাদের বাহিনীসমূহের এ যাবৎকৃত সমস্ত অপকর্ম স্বত্তেও সামরিক খাতে তাদের এমন কিছু অর্জন আছে যা তাদের বিরুদ্ধাচারণে মুসলিম চিন্তাশীলদেরকে দ্বিন্ধাণ্বিত করে তোলে। মুসলিম বিশ্বে তারাই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর। তারা এভিয়েশন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করে কুফরী ও তাগুতি শক্তির বিরাগভাজন হয়েছে। তবে সে সকল অর্জনের শেকড় সন্ধান করলে তাতে ঘুরে ফিরে আব্দুল কাদির খানদের মতো ইসলামপন্থীদের পরিচয় মেলে। তুরস্কের বিষয়টিও পাকিস্তানের মতো ব্যতিক্রমী ঘটনা। যদিও তার কারন ভিন্ন। যেহেতু তুরস্ক কখনোই সরারসরি উপনিবেশবাদের কবলে পড়েনি তাই তাকে আর সকলের সাথে এক করে বুঝবার চেষ্টা করাটা হবে ভ্রান্তিজনক। বাদ থাকে মিশর। যা ...

আজকের গ্যাজানির বিষয়: আওমিলীগের নির্গমন, বোগদাদীর আগমন

একটা মজার ব্যাপার হলো জামাতকে যেমন এই উপমহাদেশে ছুপা শিয়া বলে প্রচার করা হয়, তেমনি ইখওয়ানুল মুসলিমীনকেও আরবে ইরানের দালাল বলে প্রচার করা হয়। এটা কারা করে এবং কেন করে তা পরিষ্কার মাথার লোকদের বুঝতে বেগ পেতে হয় না। তবে মানুষের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের মাথা গোবরভর্তি। সমস্যা এখানেই। যখন প্রেসিডেন্ট মুরসি ইরান গেলেন, উনি ইরানি শিয়াদের সামনে সাহাবাদের রা: মর্যাদা তুলে ধরলেন। মুরসি ও আহমেদিনেজাদ এর যৌথ প্রযোজনায় মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন মেরুকরনের সম্ভাবনা দেখে তাগুতী শক্তি ঘাবড়ে গিয়েছিলো। ইসরায়েল গাজ্জায় হামলা করা শুরু করলো। মুরসির এক ফোনে সেই হামলা বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু আরবের নতুন প্রজন্মের কাবিলগুলোর এতো স্ট্রাটেজির পরও ইসরায়েলের যুদ্ধ আজ অবধি থামানো যাচ্ছে না। যারা ইখওয়ানকে শিয়াদের সহযোগী বলে গালাগাল করেছে, ইখওয়ানের বোকামীতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ছে বলে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে, আজ তাদের এতো কূটনীতি ও স্ট্র্যাটেজিক ম্যানুভারের পরও গাজ্জার যুদ্ধে অন্যতম সুফল ভোগী ইরান। একই ঘটনা এই উপমহাদেশেও। মাওলানা মওদুদী কে শিয়া প্রভাবিত বলে বহু প্রচার প্রপাগান্ডা করা হয়েছে। অথচ বলা হয়ে থাকে যে ওনার লেখনী...

হক কথা: জালিমের দাওয়াই

Image
এই সূত্রে মনে পড়ে গেলো বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় গুন্ডা বাহিনী ও বালুর ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলার প্রেক্ষিতে উনি বাড়ির ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ভাষণ দেন। এটা ছিলো মূলত পুরো জাতির গলায় ছুরি ধরার মতো ঘটনা। যা বাংলাদেশ পন্থী ও ইসলাম পন্থীদের একটা বিরাট পরাজয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এবং মরহুম সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো ত্যাছড়া লোকদের হত্যার ধারাবাহিকতা। যার দায়ভার জিয়াও এড়াতে পারেন না। কিন্তু কথা হলো সে সময় জিয়ার বক্তব্য চলাকালে আশেপাশের পুলিশলীগের প্ররোচনায় উনি বক্তব্যের খেই হারিয়ে ফেলেন। ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে থাকেন: গোপালি পুলিশ! কথা সত্য কিন্তু মোক্ষম নয়। মোক্ষম কথা থেকে তাঁর দৃষ্টি ফেরাতেই এই কুকর্ম।   বক্তব্য কি ছিলো আমার সঠিক মনে নাই। কিন্তু এই বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন শিবিরের সূ্ত্রে পরিচিত পাড়ার এক বড়ো ভাই। যে বয়সের পোলাপান আমিশা প্যাটেলের দুই মনি পাছা নিয়ে পড়ে থাকে আমরা সে বয়সে অনেক উচ্চমার্গের বিষয় নিয়ে গ্যাজাতাম। এর মানে এই নয় যে নারীর ব্যাপারে আমরা নিস্পৃহ ছিলাম। বরং আমাদের জীবনে তা মুখ্য হয়ে উঠেনি। মূলত শিবিরের সূ্ত্রে যাদের সাথেই পরিচয় হয়েছে আমি এই বিষয়টা কম-বেশী ...

আসেন, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গ্যাজাই

Image
এই ম্যার কান্নাকাটি যতোবারই দেখেছি ততোবারই ইসকুল জীবনের এক বড়ো ভাইয়ের কথা মনে পড়েছে। বছর খানেক যাবৎ এনিয়ে লিখবো লিখবো করে লেখা হয়ে ওঠে নাই। তো ঘটনা হইলো হেই শোমো মেট্টিক-ইন্টার পরীক্ষার চাপে পোলাপাইন পাগল হয়ে যাইতো। এটাকে উন্নত শিককা বেবস্তার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হইতো। এটা আমি পরবর্তী জীবনেও দেখেছি। সরকারী বার্চিটির মাস্টরগুলোর একটা কমন আত্মম্ভরিতা ছিলো যে তাদের পরীক্ষাগুলোতে খুব কম শিক্ষার্থী-ই পাস করতে পারে! ওয়াহ! ওয়াহ! আসো তুমরারে ফুলের মালা দিই।  তো আমাদের এক বড়ো ভাই বেশ মেধাবী। কি ভরাট গলা! নজরুলের বিদ্রোহী কোবতে আবৃত্তি করে বিখ্যাত হয়েছিলেন। মেটটিকে খাড়িয়েছিলেন। মানে স্ট্যান্ড করেছিলেন। ইন্টারেও করার কথা ছিলো। কিন্তু stand করার বদলে উনি stun করে গেলেন। পরীক্ষার আগে ওনার সেই কি প্রস্তুতি! প্রথম পরীক্ষা ছিলো পরিসংখ্যান। পরীক্ষাগুলো ওভাবেই সাজানো হতো। সহজ পরীক্ষা দিয়া শুরু করে মইদ্য খানে চৈত মাসের ঠাডা ফেলে এরপর আবার আয় বৃষ্টি ছেপে। মানে এক্কেবারে শ্যাষে সমাজবিজ্ঞান, প্রাকটিক্যাল ইত্যাদি বংসং। কিন্তু দেখা গেলো প্রথম দিন পরীক্ষা দিতে বসে উনি বুঝতে পারলেন যে উনি সব পড়া ভুলে বস...

লে বিরিয়ানি

Image
ধানমন্ডি ও এর আশেপাশে যারা থেকেছে তারা ষ্টার কাবাবে গিয়ে অভ্যস্ত। সারাদিন টোঁ টোঁ করে ঘুরার পর প্রচন্ড ক্ষুধা নিয়ে সেখানে গিয়ে ছাগলের লেগ রোস্ট খেয়ে আমরা অনেকেই ব্যাএএ করে কিছুক্ষন নেতিয়ে পড়েছি। আগে কি শনদর দিন কাটাইতাম! কিন্তু তাদের খাবারের মান যে কমে গিয়েছে এই অভিযোগ মোটামুটি ধারাবাহিক ভাবেই পাচ্ছি। এই ইউটিউবেই বছর খানেক আগে একজনে ভিডিও আপলোড দিলো ধনমন্ডির ব্রাঞ্চে খুব সম্ভবত মোরগ পোলাউয়ের সাথে সাদা সাদা কিড়ার ছবি। সেদৃশ্য দর্শনের পর আর কখনও ওমুখো হইনি। তবে চিন্তা নাই। যে বাঙ্গালী কামরুইল্যার পঁচা গম সাবাড় করে দিয়েছে তাদের পেটে এসব কিড়া নস্যি। ষ্টার কাবাব চিরজীবি হোক! তবে এক্ষেত্রে শুধু ষ্টার কাবাব নয় বাংলাদেশের হোটেলগুলোর হাইজিন কোন কালেই ভালো ছিলো না। হবেও না। এবং এটা বাঙ্গালীর গড়নগত। দেশের যে দুর্নীতি তার একটা বড়ো অংশ যতোটা না লোভ লালসা থেকে তার চেয়ে বেশী কুঁড়েমি থেকে। বাঙ্গালীর শরীরে কুলায় না। বাসা থেকে আপিসে যেতে যেতে ধ্বজভঙ্গ হয়ে পড়ে। অফিসে পৌছে চেয়ারের ওপর ধপাস করে শরীর ফেলে কিছুক্ষণ ঝিমোয়। কিছু চা-নাস্তাপাতি খায়। প্রথম আলু খায়। কলিগদের সাথে পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ, রাজনীতি নিয়ে ...