Posts

ভাতৃসংঘ থেকে আল-শারা: কিভাবে?

বিপ্লবোত্তর সিরিয়ার রাজনৈতিক ময়দানে মুসলিম ভাতৃসংঘের মতো পুরনো, ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রচ্ছন্ন উপস্থিতির বিষয়টা অনেক দিন ধরেই ভাবাচ্ছিলো। ভাতৃসংঘ বর্তমান ক্রান্তিকালীন বিপ্লবী সরকারেরও অংশ এবং একথা চালু আছে যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা সিরিয়ার ভাতৃসংঘের বৃহত্তর অংশের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক ভাবে সচেষ্ট। প্রশ্ন হলো ভাতৃসংঘের মতো এতো বড়ো দল কি করে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়লো। অবশ্য এই প্রশ্নের যথার্থতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলতে পারেন যারা আহমাদ আল-শারাকে ভাতৃসংঘের বৃহত্তর প্রভাব বলয়ের ফসল হিসেবেই গণ্য করতে চান। কিন্তু এই সব প্রায়োগিক খুঁটিনাটি এড়িয়ে গিয়ে মোটা দাগে এই প্রশ্ন তো করাই যায় যে আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে এই বিজয় ভাতৃসংঘের দাওয়াত ও তরবিয়্যাতের রাজনৈতিক প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম-কে প্রাধান্য দেয়ার মরহুম আইমান আল-জাওয়াহিরির প্রস্তাবনাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। এর বিপরীতে এই পাল্টা যুুক্তিও দেয়া যায় যে আহমাদ আল-শারার সফলতার বীজ বাপিত হয়েছিলো যেদিন তিনি আল-কায়েদার সাথে সমস্ত রকমের সাংগঠনিক সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে সংগ্রামের পথ কখনো এক রৈখিক নয়। বরং...

বাংলাদেশের মূল সংকট

একটা খুব আশ্চর্য বিষয় লক্ষ্য করলাম। এক হেফাজতী মুফতি বলেছেন যে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানীর মালিক বা সিইও কাদিয়ানী হওয়ায় তাদের পন্য বর্জন করা উচিত। এখন এই কথার সত্যতা তো আমার পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে যেটা আমাকে বিস্মিত করেছে তাহলো ঐ মুফতির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমেন্ট বক্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এরকম প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছিলাম এক ছাত্রনেতা কর্তৃক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর। প্রতিক্রিয়ার এইরুপ তীব্রতার সাদৃশ্যে এই দুই পক্ষের মধ্যে একটা যোগসূত্র অনুমান করা যায়। যা এদেশে সামরিক-পূঁজিতন্ত্র ঘনীভূত হবার আশংকাকে প্রকট করে।   তার কিছু লক্ষণ আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি। যেমন খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মতো সহিংস অপরাধমূলক কাজের হার বেড়ে যাওয়া। কেননা সব অপরাধতো আর সহিংস নয়। এরুপ অপরাধ জিয়ার ছদ্মবেশী সমরতন্ত্র ও এরশাদের প্রকাশ্য ও সুদীর্ঘ সমরতন্ত্রের পর প্রকট আকার ধারন করেছিলো। আমার শৈশবের আবছা স্মৃতি মনে আছে। যখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন উত্তর সংকটকালে জামায়াতে ইসলামীর নি:স্বার্থ সমর্থনে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করে। তার পরপরই ঢাকার কোন এক বস্তিতে প্রকাশ্যে এরুপ সহিংস ঘটনা...

The Case for Rohingyas

Ever since the Gaza war I've been asking myself why didn't I raise my voice the same way for the other oppressed Muslims specially for the Rohingyas since ethnically they are Bengalis and live right next to us. While its not an excuse there are convincing reasons worthy of discussion.   First, I'm not an activist per se. I write re-actively most of the time than proactively. This is because my main interest has been in the sciences and engineering as in Computer Science and Engineering, although Gaza war has made some significant changes in me. But at the same time I've always been politically aware. Its hard for me to look away from the injustices happening right before my eyes. So this is a dialectic that I've been pondering upon for a while. You see some of the great minds excelled despite their challenging life. But at the same time, one could argue, that many were lost in the tribulations of life, specially if it is a moral choice at hand. After all how many of...

জুলাই কাহা-নি

জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পর অর্ধ-বৎসর পার হতে চললো। বহু ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে ঈমান এবং কুফর এর লড়াই, এই ব-দ্বীপের ইসলাম প্রিয় জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও স্বাধীকার আদায়ের লড়াই প্রকট হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে যা প্রকাশ পেয়েছে মজলুম জননেতা এটিএম আজহারের মুক্তির আন্দোলনে। এর ফলাফলের ওপর জুলাইয়ের পট-পরিবর্তনের যথার্থতা নির্ধারিত হবে। ছায়ারাষ্ট্র্যের স্বার্থান্ধ, খোদাদ্রোহী, বিভ্রান্ত, ও কপট কারিগরদের ক্ষমতার গভীরতাও বোধ করি এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে। যদিও এটিম আজহারের মুক্তি এবং বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের জনগণ বিশেষ করে মুসলিমদের কল্যাণকামী একমাত্র পরীক্ষিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়া নিকট ভবিষ্যতের জটিল সংগ্রামের একটা দিক মাত্র। কেননা এই সংগ্রামে ময়দানের লড়াইয়ের সাথে চিন্তার লড়াইয়ের মেল বন্ধন করানোটা অতীব জরুরী। বাঙ্গালীর দুর্বল আকলজ্ঞান এই মেল বন্ধনের পথে প্রধান বাধা হলেও এর ক্ষেত্র তৈরী করেছে আন্দোলনের সুবিশাল জনগোষ্ঠী যারা তাদের লক্ষ্যের প্রতি একনিষ্ঠ হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে দলীয় কর্ম ও চিন্তা পদ্ধতিকে পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। এই বিষয়টা মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব উপলব্ধি করেছ...

ওফফফ ... গনধে- আপা-

Image
বাংলাদেশের এক রান্নার অনুষ্ঠানে এক সহ-উপস্থাপিকা রান্নার শেষে প্রায় বলতেন, ওফফফ ... গনধে- আপা- । এটা আমাদের জন্য এক বিরাট বিনোদনের উৎসে পরিণত হয়েছিলো। আমরা সে অনুষ্ঠানে এই ডায়ালগ শোনার অপেক্ষায় থাকতাম। খুব সম্ভবত সেই সহ-উপস্থাপিকা বিষয়টি উপলব্ধি করে পরের দিকে এটা আর বলতেন না। কথা হলো গন্ধ যেমন বাস ছড়ানো বোঝায় ঘ্রাণও তেমনি। যদিও সুঘ্রাণ এর বিপরীত দুর্গন্ধ। তথাপি সুবাস অর্থেও গন্ধ ব্যবহৃত হয়। যেমন, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই। গোলটা এখানেই। ওফফফ ... গনধে- আপা- তবে বাঙ্গালীর গন্ধ-বাসের অনুভূতি কম বলেই মনে হয়। আপনি যদি ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে যান দেখবেন আলীশান লেক সাইড এপার্টমেন্ট। লেক মানে বুঝছেন তো? নর্দমা। তার দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা দায়। এই জিনিসও কোটি দরে বিকোয়। আবার পুরনো ঢাকার "ঐতিহ্যবাহী" রেস্টুরেন্ট গুলোতে যান। দেখবেন মুরগী, গরু, খাসীর বিরানির ডেকচির পাশে উঁচু করে রাখা পাঁচ-মিশালী কালো ময়লার স্তুপ। বোধকরি শাহজাহানের মতো সৌখিন বাদশাহ যদি এখন মোরগটুলি যেতেন মুরগী হয়ে যেতেন। কিংবা মনে করেন আপনার ভিনদেশী কোন পরিচিত, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় এসেছে। আপনি খুব আত্মবিশ্বাস...

অত্রাঞ্চলে আমি-ই রাষ্ট্র্য, আমি-ই তার পতি

যে সময় সামরিকতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ – এর কিম্মুতকিমাকার সংমিশ্রণের রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একে একে বিনাশ হচ্ছে সেই সময় এই পোড়ার দেশে সেই রাজনীতি নতুন করে যেনো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। গাদ্দাফী, সাদ্দাম, বাশার এর মতো কুলাঙ্গারদের পরিণতি বরণ করাই যার চূড়ান্ত গন্তব্য। মিশর ও পাকিস্তান, উপনিবেশোত্তর সোনাপট্টির এই স্বার্থান্ধ রাজনীতির সর্বশেষ দুর্গ। যদিও পাকিস্তানের বিষয়টি অনন্য। তাদের বাহিনীসমূহের এ যাবৎকৃত সমস্ত অপকর্ম স্বত্তেও সামরিক খাতে তাদের এমন কিছু অর্জন আছে যা তাদের বিরুদ্ধাচারণে মুসলিম চিন্তাশীলদেরকে দ্বিন্ধাণ্বিত করে তোলে। মুসলিম বিশ্বে তারাই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর। তারা এভিয়েশন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করে কুফরী ও তাগুতি শক্তির বিরাগভাজন হয়েছে। তবে সে সকল অর্জনের শেকড় সন্ধান করলে তাতে ঘুরে ফিরে আব্দুল কাদির খানদের মতো ইসলামপন্থীদের পরিচয় মেলে। তুরস্কের বিষয়টিও পাকিস্তানের মতো ব্যতিক্রমী ঘটনা। যদিও তার কারন ভিন্ন। যেহেতু তুরস্ক কখনোই সরারসরি উপনিবেশবাদের কবলে পড়েনি তাই তাকে আর সকলের সাথে এক করে বুঝবার চেষ্টা করাটা হবে ভ্রান্তিজনক। বাদ থাকে মিশর। যা ...

আজকের গ্যাজানির বিষয়: আওমিলীগের নির্গমন, বোগদাদীর আগমন

একটা মজার ব্যাপার হলো জামাতকে যেমন এই উপমহাদেশে ছুপা শিয়া বলে প্রচার করা হয়, তেমনি ইখওয়ানুল মুসলিমীনকেও আরবে ইরানের দালাল বলে প্রচার করা হয়। এটা কারা করে এবং কেন করে তা পরিষ্কার মাথার লোকদের বুঝতে বেগ পেতে হয় না। তবে মানুষের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের মাথা গোবরভর্তি। সমস্যা এখানেই। যখন প্রেসিডেন্ট মুরসি ইরান গেলেন, উনি ইরানি শিয়াদের সামনে সাহাবাদের রা: মর্যাদা তুলে ধরলেন। মুরসি ও আহমেদিনেজাদ এর যৌথ প্রযোজনায় মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন মেরুকরনের সম্ভাবনা দেখে তাগুতী শক্তি ঘাবড়ে গিয়েছিলো। ইসরায়েল গাজ্জায় হামলা করা শুরু করলো। মুরসির এক ফোনে সেই হামলা বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু আরবের নতুন প্রজন্মের কাবিলগুলোর এতো স্ট্রাটেজির পরও ইসরায়েলের যুদ্ধ আজ অবধি থামানো যাচ্ছে না। যারা ইখওয়ানকে শিয়াদের সহযোগী বলে গালাগাল করেছে, ইখওয়ানের বোকামীতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ছে বলে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে, আজ তাদের এতো কূটনীতি ও স্ট্র্যাটেজিক ম্যানুভারের পরও গাজ্জার যুদ্ধে অন্যতম সুফল ভোগী ইরান। একই ঘটনা এই উপমহাদেশেও। মাওলানা মওদুদী কে শিয়া প্রভাবিত বলে বহু প্রচার প্রপাগান্ডা করা হয়েছে। অথচ বলা হয়ে থাকে যে ওনার লেখনী...