সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন

।। ১।।

----------------------------------------------------------

তারেক রহমান সাহেবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

----------------------------------------------------------

 

 

আমার দেশের নিউজ ক্লিপে বলা হলো তারেক রহমান সাহেব নাকি বলেছেন যে "বিভিন্ন" আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা ষঢ়যন্ত্রে লিপ্ত। এতোদিন জানতাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আধিপত্যবাদী শক্তি বলতে কেবল ভারতকেই বোঝানো হয়। কিন্তু আজ শিখলাম দেশে আধিপত্যবাদী শক্তি নাকি আরও আছে। কিছুদিন আগে নিজ মায়ের মৃত্যু সংকটের সময়ও তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে জামাতী বটর শক্তি খুব ল্যাদাইসিলো। তার বিপরীতে বিএনপির ছাপড়িগুলো এমআইটির আততায়ীদের দ্বারা তারেক রহমানের জীবন বিপন্ন করে তুলবার টানটান উত্তেজনাপূর্ণ গপসপ হাজির করেছিলো। পাবলিক এতো সাসপেন্স নিতে পারতেছিলো না। দরে রাকতে পারলাম না, সেরে দিলাম - টাইপ অবস্থা। এর সাথে ফিঙ্গার সাখাওয়াতের 7.62mm বুলেটের ষঢ়যন্ত্র তত্ত্ব মিশিয়ে একটা থকথকে নিরাপত্তা কলাম পয়দা করে ফেলা যায়। বিএনপির অস্ট্রেলিয়ান জামাই বাবু চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ইতিপূর্বে "দিল্লী না ঢাকা"-এর সাথে "পিন্ডী না ঢাকা" জুড়ে দিয়ে তারেক রহমান সাহেব স্পষ্টত পাকিস্তানকে আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। গতকালকের বক্তব্য এটারও ঈঙ্গিত হতে পারে। সত্যি বলতে তারেক রহমান সাহেবের কোন বক্তব্য-ই বলতে গেলে আমার শোনা হয় নাই। প্রয়োজন বোধ করি না। এটা আমি তাঁকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবার জন্য বলছি না। আমি তাঁকে তুচ্ছ-ই জ্ঞান করি। বিশেষ করে জুলাই'২৪ উত্তর জামাতের পোঁদে আঙ্গুল দেয়ার অপরাজনীতির প্রবণতা তাঁর ও তাঁর দল সম্পর্কে মনকে একেবারে বিষিয়ে দিয়েছে। তবে এও সত্য যে জুলাই'২৪ উত্তর প্রেক্ষাপটে এর দায়ভার যতোটা না তাঁর তার চাইতে বেশী জামাতের বটর শক্তির। জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী হিসাবে আমি বলতে পারি যে জুলাই'২৪ উত্তর যেচে পড়ে বিএনপির পিছে লাগতে যাবার এই প্রবণতা আমার মতো তাঁদের শুভাকাঙ্খী অনেককেই বিস্মিত করেছে বলে আমার ধারণা। তবে খুব সম্ভবত জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক ও শিবিরের সাবেক ডাক সাইটে নেতা মতিউর রহমান আকন্দ ভাই যখন বললেন যে বিএনপির সাথে জোট না করবার ব্যাপারে সংগঠনের সকলে একমত তখন তো আর আমাদের বলবার কিছু থাকে না। এই যে জামাতের বিএনপি বিরোধীতা তাও যে এক পাক্ষিক ছিলো তা কিন্তু নয়। তারা বিএনপির বিরুদ্ধে যে বানিয়ে মিথ্যা প্রচার করেছে তাও নয়। তারা জুলাই'২৪ উত্তর বিএনপির সর্বভূক নেতা-কর্মীদের ভয়াবহ ফৌজদারী অপরাধ প্রবণতার সচেতনতা-টা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। এবং সেটা করতে যেয়ে বাংলাদেশ-কে বিরাজনীতিকরণের যে দেশ বিরোধী প্রকল্প সেই ফাঁদে নিজের অজান্তেই পা দিয়ে বসেছে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ চোষা আওমী পরিবার থেকে আসা জামাইত্তা গুলো কিংবা এক্স শিবির নামক বটরগুলো আরও যেটা করেছে তাকে বলে পলিটিস। অর্থাৎ বামাতি কায়দায় বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতা করেছে। দেশের এই নাজুক মুহুর্তে যেটা নিয়ে ইস্যু বানাবার কোন যৌক্তিকতা নাই সেটাকেও ইস্যু বানাবার অপরাজনীতি করেছে। ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমান সাহেবের মধ্যে যে পরিবর্তন-টা আমার কাছে লক্ষ্যনীয় মনে হয়েছে তা হলো তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। জোট সরকারের আমলে তাঁর দেয়া খুব সম্ভবত একমাত্র সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে অসহ্যকর ও পীড়াদায়ক ব্যাপারটি ছিলো উপস্থাপক-কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য জ্ঞান করে নিজেকে সবজান্তা শমসের হিসেবে উপস্থাপনের মিলিটারী কায়দার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। সেনাপট্টির অধিকাংশ রদ্দিমালের মধ্যে আমি এর উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। আমি যে বারংবার বলি উপনিবেশবাদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে তার অন্যতম কারন-ও এটা। যে বান্দীর পোলাটা একসময় পায়খানা করে পানি ঢালতে জানতো না ভাটিয়ারী-তে এক টার্ম কাটিয়ে আসার পর দেখা যায় দেমাগের চোটে তার মুখ দিয়ে কথা বেরুয় না। কারন সে এখন আড়ড়মির লুক। এই হামবড়া ভাব ইসলাম বিরুদ্ধ। এতোটাই যে জিহাদের ময়দানে এক সাহাবী যখন বুক চেতিয়ে দ্বৈত যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন এতদ দর্শনে নবীজি সা: মন্তব্য করেছিলেন যে যদি ইহা জিহাদের ময়দান না হইতো তবে মহান আল্লাহ কিছুতেই এই অহম বরদাশত করিতেন না। সুতরাং তারেক রহমান সাহেবের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের এই পরিবর্তন অনেক বড়ো ঘটনা বটে। রচনা দীর্ঘ হয়ে যাবার আশংকা স্বত্তেও এই সুযোগে এটা উল্লেখ করতে চাই যে জোট সরকারের আমলের সেই সাক্ষাৎকারে উনি বলেছিলেন যে ব্যবসায়ীরা যেহেতু সফলভাবে প্রতিষ্ঠানের নির্মাতা তাই তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ-কে তিনি ইতিবাচক মনে করেন। তখন তাঁর এই কথাটা আমার বেশ যৌক্তিক মনে হয়েছিলো। কিন্তু কালক্রমে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমার মধ্যে সচেতনতা তৈরী হয়। তারেক রহমান সাহেব ক্ষমতার বলয় ও রাজনৈতিক পরিবেশে বড়ো হয়েও যে এহেন চিন্তা পোষণ করতেন ঠিক এই কারনেই আমি তাঁর রাজনৈতিক ধীশক্তির ওপর পরবর্তীতে ক্রমাণ্বয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। গতকাল উনি বলেছেন, তাঁর একটি প্ল্যান আছে। এটা ভালো কথা। এবং এটা বিশ্বাসযোগ্য। কেননা এটা তাঁর পিতার সিলসিলা। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কোন প্ল্যান নাই। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতিবিদদেরও কোন প্ল্যান থাকে না। থাকে চোপা। বাগাড়ম্বর। সুতরাং তারেক রহমান সাহেবের প্ল্যান থাকার বিষয়টা ইতিবাচক। কিন্তু সেই প্ল্যানে যে জুলাই'২৪ ছিলো না এইটাতো স্পষ্ট? সুতরাং বুঝ কইরা ওস্তাদ! জুলাই'২৪ এর বরাতে আসমানে উঠেছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে মাটিতে নামেন। বাপের মতো সাতাত্তুর মার্কা আর মায়ের মতো মাগুরা মার্কা নির্বাচং এর পরিকল্পনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন। আপনি হাদীর উল্লেখ করে বলেছেন যে হাদী গনতন্ত্র ও নির্বাচন চেয়েছিলো। কিন্তু হাদী এলেকশন এনজিনিয়ারিং এর ওপর-ও যে বিশদ আলাপ দিয়েছিলো তা হয়তো আপনার চোখে পড়ে নাই। আর যেসব রদ্দিমাল আশেপাশে জোগাড় করেছেন তা দিয়ে বাহাত্তুরের সংবিধান দুর কি বাত আম্রিকান ডিরিম-ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

 

 

বরং এহেন লোকেরাই আপনার মাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছিলো বলে আমাদের ধারণা। যার বিরোধীতায় উনি হয়ে উঠেছিলেন দাম্ভিক। তার মূল্য তাঁকে চুকাতে হয়েছে নির্মমভাবে। তারেক জিয়া যদি একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেন তবে তা বংশীয় বিকার হিসেবেই ভবিষ্যতে মূল্যায়িত হবে।

 

।। ২।। 

---------------------

বটর বাহিনী

---------------------

 

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ-টি বর্তমানে সবচাইতে বেশী প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তা হলো রাজনৈতিক অঙ্গনে এর বটর বাহিনীর দূষণ। দূষণ বলতে জামাতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহ খন্ডনের প্রক্রিয়ায় তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় না রাখাকে বোঝায়। এর কয়েকটি দিক আছে। একটা হলো দেশে চর্চিত দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির প্রতিক্রিয়া। জামাতের আধুনিক প্রজন্ম দেখেছে যে তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের বিস্ময়কর বোজর্গী স্বত্বেও কিভাবে তাদের চরিত্র হরণ করা হয়েছিলো। তারা দেখেছে অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের মতো মহানুভব মানুষের পরিণতি। যিনি বিভৎস রকমের চরিত্র হননের শিকার হওয়া স্বত্বেও রাতারাতি তাঁর আত্ম-জীবনীতে পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি ক্ষমাসূলভ বদান্যতা প্রদর্শন করে গিয়েছেন। কিন্তু তাতে কি পরিশীলিত রাজনীতি চর্চার পথ সুগম হয়েছে? রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতি ঘটেছে? না। বরঞ্চ ফাঁকতালে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী পক্ষ মিথ্যাচার ও নোংরামীর এক অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গিয়ে দিন-কে রাত, রাত-কে দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার সুযোগ পেয়েছে। যার পরিণতিতে জামাতের সর্বস্তরের অসংখ্য নিরীহ নেতা-কর্মী হয়েছেন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র্যীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার। আরেকটি দিক হলো জামাতে অনেক নিষ্ঠাবান কর্মী-সমর্থকের public perception management এর ধারণা না থাকা। মানুষের এই এক বিকার যে সে ভুল প্রমাণিত হতে চায় না। তার ওপর কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সফলতা, চরিত্র, মেধা, গ্রহণযোগ্যতা অনেকের ঈর্ষার কারন হয়ে দাঁড়ায়। আরো এই যে বিরোধী পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ-কেই যখন কুযুক্তির মাধ্যমে খন্ডন, রাতারাতি অস্বীকার, কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবার চেষ্টা করা হয় তখন তা বিরোধ-কে আরও উস্কে দেয়। কিন্তু এই সব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড়ো যেই কারন তা হলো এই যে বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির স্বপক্ষে যে বিরাট জনসমর্থন, জনশক্তি তৈরী হয়েছে, সেই হারে তাকে ধারণ করবার উপযুক্ত জনসমর্থন, জনশক্তি তৈরী হয় নাই। অথচ এই বিপদ আজ থেকে পঁচিশ বছর আগেই টের পেয়ে মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব দলীয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও, সম্পূর্ণ সুস্থ-সবল অবস্থাও এক প্রকার জোর পূর্বক দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এবং তা করবার অন্যতম কারন হিসেবে তিনি এটাই উল্লেখ করেছিলেন। এর সমাধানে তিনি জীবনের শেষ দিকে ইসলামপন্থী জনসাধারনের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মানোন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন। প্রশ্ন হলো এই সমাজ, এই রাষ্ট্র্য কি তা হতে দিয়েছে? না তাতে প্রতিবন্ধতা তৈরী করেছে? যখন উচিত ছিলো রাতারাতি রাষ্ট্র্যের পক্ষ থেকে তাঁর এই কর্মসূচির পক্ষে প্রনোদনা দেয়া তখন উল্টো তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছানো হয়েছে। এখন সামাজিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার চিরাচরিত নিয়ম হিসেবেই তার ফল এই সমাজ, এই রাষ্ট্র্যসহ জামাতের সকল প্রতিপক্ষ ভোগ করছেন। এইটা আপনাদের-ই হাতের কামাই।

 

।। ৩।।

----------------------------------------------------------

হাদী একটি পরিচিত বাঙ্গালী ফেনোমেনন

----------------------------------------------------------

 

ওসমান হাদীর অকাল মৃত্যু পরবর্তী সমাজের সকল স্তরে তার জনপ্রিয়তার পরিপ্রেক্ষিতে একটা শোর উঠেছে যে দলীয় রাজনীতির উর্দ্ধে উঠতে পারবার কারনেই এটা সম্ভব হয়েছে। কথা সত্য। আর ঠিক একারনেই আমি ওসমান হাদীর জীবদ্দশায় তাকে তেমন আমলে নেই নাই। একটিভিজম আর রাজনীতি এক নয়। দুইটার ক্ষেত্র ও উদ্দিষ্ট আলাদা। সমস্যাটা হলো এই দেশের মানুষ চায় একটিভিস্টদের দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে। আমার মতে এটা একেবারেই অপরিপক্ক চিন্তা। ওসমান হাদী সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ও রাষ্ট্রীয় তথাকথিত প্রতিষ্ঠান সমূহ কে নিয়ে যে ধরনের সংঘাতমুখী কথা বলেছে এরপর তার নিরাপত্তা নিয়ে সকলের মতো আমিও উদ্বিগ্ন হয়েছিলাম। কিন্তু যখন উপলব্ধি করলাম যে সে খুব সম্ভবত জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক বলয়ের বাইরে থেকেই কাজ করতে চাচ্ছে তখনই মনে হয় অবচেতনে তাকে জনতুষ্টির রাজনীতির আনকোরা খেলায়োড় হিসেবে খরচের খাতায় টুকে রেখেছিলাম। কিন্তু সত্যই যে সে এভাবে তার প্রতিপক্ষের দ্বারা কাপুরুষোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হবে তা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে বৈকি! হাদী মূলত বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার চরম পরাকাষ্ঠা। হাদী আবেগ স্যাঁতস্যাতে বাঙ্গালী মানসের অসচেতন অসততার শিকারও বটে। এই অপরিপক্কতার উদাহরণ হলো হাদীর রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করবার প্রচেষ্টা। এই অসসতার পরাকাষ্ঠা হলো জীবিত হাদীর চাইতে মৃত হাদিকে নিয়ে মাতমের প্রবণতা। তার ওপর হাদীর পরিণতির জন্য জামায়াতে ইসলামী-কেই ঘুরে ফিরে দায়ী করবার অসহ্যকর স্পর্ধা। যে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তারা হাদীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে পারতো কোন যাদুবলে? তবে রাজনীতি-টা হলো এই যে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হওয়া আর স্রেফ একজন একটিভিস্টের, তা সে যতোই জনপ্রিয় হোক না কেন, হত্যার শিকার হওয়া এক-ই গুরুত্ববহন করে না। আর তা করেনা একারনেই যে তিনি নির্দলীয় অবস্থানে থেকে জনতার কাতারে এসে সিক্ত হওয়ায় যতোক্ষণ পর্যন্ত না কোন রাজনৈতিক দল তার হত্যাকান্ডকে নিজেদের প্রতি সংঘটিত অন্যায্যতার হিসাবখাতায় টুকে রাখছে ততোক্ষণ পর্যন্ত জনসাধারনের পক্ষে কেবল মাতম করা ছাড়া আর কিছু করার নাই। এটা আশ্চর্য নয় যে ইতিমধ্যে হাদীর ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী তার অবস্থান দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানান দিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো এর ফলশ্রুতিতে জামায়াতের ওপর যে খড়গহস্ত নেমে আসবে তার মোকাবেলায় আপনারা জামাতের পেছনে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবেন তো? বাংলাদেশের রাজনৈতিক জ্ঞানহীন মুসলমানদের উপলব্ধি করতে হবে যে গাযযার গণহত্যার পর বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় মুসলমানদের নাজুক পরিস্থিতির ব্যাপারে দ্বিধা থাকা বোকামির লক্ষণ। এই সূত্রে জোট সরকারের আমলে জঙ্গীবাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বয়ান তৈরী করা এবং তৎপরবর্তীতে হাসিনার মাফিয়া আমলে জঙ্গীবাদের ধোঁয়া তুলে দেশের ইসলামপ্রিয় জনগোষ্ঠী-কে হত্যাযোগ্য করে তুলতে সহায়তা করা বাকশালী পত্রিকা প্রথম আলোতে প্রকাশিত ওসামা বিন লাদেনের একটি কবিতার উদ্ধৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সেই কবিতা আবার নির্মলেন্দুগুণ নামের এক হিন্দুর অনুবাদ করা। যদিও এর উদ্দিষ্ট ইসলাম বিরুদ্ধ আত্মঘাতী যুদ্ধকৌশল তথাপি গাযযার গণহত্যার প্রেক্ষাপটে একে পাঠ করলে হাদীর হত্যা থেকে মুষঢ়ে পড়বার পরিবর্তে ঝলসে ওঠার প্রেরণা পাওয়া সম্ভব।

 

আমাদের তো অস্ত্র নেই।
মৃত্যু-ই আমাদের অস্ত্র।
আমরা সশস্ত্র হবো অজস্র মৃত্যুতে।

 

 ।। ৪।। 

 ----------------------------------------------------------

ইসলামপন্থীদের নির্বাচনী ঐক্যের ব্যাপারে স্মর্তব্য 

----------------------------------------------------------

 

দেশের জনগণের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার একটি বড়ো অংশের জন্য ইতিহাস বিরুদ্ধতা দায়ী। যে নিজের বাপকে চিনে না তাকে লেজ কাটা শিয়ালের সন্তান বানিয়ে দিলে ল্যাজটাকে তার কাছে বোঝা মনে হয়। নির্বাচন উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামী দলগুলোর মধ্যকার যে ঐক্যের জোয়ার বইছে তাতো নতুন কিছু নয়। এটা আগেও হয়েছিলো। টিকে নাই। স্মর্তব্য-টা সেখানেই।

 


শরীকদের সাথে আসন বন্টনে জামায়াতে ইসলামীর উচিত হবে তাদের একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবার উপযুক্ত সংখ্যক আসন নিশ্চিত করা। কেননা নির্বাচন উত্তর মূল লড়াই-টা করতে হবে তাদেরকেই। এর জন্য বেশী দূর যাবার প্রয়োজন নাই। দশ বছর আগে গেলেই চলবে। দু:সময়ের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের ওপরই তাদের ভর করতে হবে। এই দেশে তাগুতি শক্তির সাথে মূল লড়াই-টাও হবে তাদের। অন্য কারও নয়। আমি বলছি না যে আপনারা অযথা অন্যকে সন্দেহ করুন। আমি বলছিনা অতীত ভুলের জেরবারে বর্তমান ঐক্যের পরিবেশটাকে  বিনষ্ট করুন। আমি বলছি বাস্তবজ্ঞান থেকে কখনোই বিচ্যূত হবেন না। ইসলাম কিংবা রাজনীতি বাংলা সিনেমা নয় যে গরীবের সাথে ধনীর বিয়ে দেবার ফকিন্নি মার্কা চিন্তা করবার ফুরসৎ আছে। বরঞ্চ হানাফী মযহাব বাতলে দিয়েছে কুফূয়ার (compatibility) পদ্ধতি। সেই পদ্ধতি মেনে চলুন। মনে রাখবেন আপনাদের নব্য সঙ্গী-সাথীগন যদি শেষ পর্যন্ত-ও ঐক্যের ব্যাপারে বিশ্বস্ত থাকে তথাপি রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচে কখন যে বেখেয়ালে পিছলে পড়বে নিজেরাও টের পাবেনা। যেখানে আপনাদের মতো এমন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অধিকারী দলও ভ্রান্তিতে (blunder) পড়ে যান বাকীদের কি অবস্থা হতে পারে? নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জড়ো হওয়া আপনাদের নব্য সঙ্গী-সাথীরা যদি সত্য-ই ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে ইসলাম কায়েমের জন্য প্রানপণ করে থাকেন তথাপি তাদেরকে আপনাদের স্তরে নিয়ে আসবার জন্য-ও একটা সময় লাগবে। যেখানে আপনাদের নিজেদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরও ঘাটতি আছে মেলা। আশা করি ঘটনার ব্যাপকতা ও গভীরতা বোঝাতে পেরেছি?


।। ৫।।

-----------------------------------------------

একটি সাম্প্রতিক আত্মোপলব্ধি

-----------------------------------------------

হঠাৎ খেয়াল হলো যে মহান আল্লাহ আমার মধ্যে ইসলামের বিভিন্ন ধারার, মত ও পথের এক মেলবন্ধন ঘটতে দিয়েছেন। মাওলানা মওদূদী রহ: এঁর "ইসলামী" রেনেসাঁ প্রকল্প যখন আমাকে রাজনৈতিক সচেতন করে তুললো ঠিক সেই সময়েই ঈমাম গাজ্জালী রহ: এঁর জীবনী থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি নানা মত ও পথের ইসলামী দল সমূহের খোঁজ-খবর শুরু করি। সেই সূত্রে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের পল্টনের অফিসে গিয়েছি। হিযবুত তাহরীরের এলিফ্যান্ট রোডের অফিসেও গিয়েছি। শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিলো তরিকত পন্থীদের প্রতি আকর্ষণ থেকে। পরিচিত হয়ে খারাপ লাগে নাই। তবে খুব একটা আকৃষ্ট-ও হই নাই। যদ্দুর মনে পড়ে একটা প্রচ্ছন্ন গ্রাম্য ঝাঁঝালো স্বভাব, একধরনের গোঁড়ামী-প্রতিক্রিয়াশীলতার উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম। গোঁড়ামী-প্রতিক্রিয়াশীলতা নিয়ে এদেশে কথা বলা মুশকিল। কারন এই শব্দগুচ্ছ দ্বারা শুধুমাত্র ধর্মানুরাগী শ্রেনীটিকে বোঝানো হয়। অথচ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে জামাত ঘরানার এমনকি ইসলামিক স্টাডিজ কিংবা মাদরাসা পড়ুয়া লোকজনও বেশ উদার মনের হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে আওমী ঘরানার লোক নাস্তিক-হুজুর নির্বিশেষে সবাই প্রচন্ড রকমের গোঁড়া-প্রতিক্রিয়াশীল। কদিন আগে একটা ক্লিপ দেখলাম যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দিলারা জামানের একটি বক্তব্যের কিয়দংশ মানহাজি গং-দের পক্ষে যাওয়ায় তারা সেটা প্রচার করছে। তথাপি ভদ্রমহিলার মুখটা অস্পষ্ট করে দিয়েছে! কি অদ্ভুত মানসিকতা! এরা যখন রাস্তায় চলে তখন কি চোখ বন্ধ করে চলে নাকি গুগল গ্লাস পরে এঁয়াই দিয়ে মুখ ব্লার করে দেয়? শোনেন ইসলামের পর্দার বিধান সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ নিয়ে আমার বিকার নাই। কোন মুসলমানের তা থাকতে পারেনা। আমার আপত্তি নারী সংক্রান্ত অচ্ছুৎমার্গতা নিয়ে। আমার আপত্তি এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রের প্রবিষ্ট নারী বিদ্বেষ (misogyny) নিয়ে। আমার আপত্তি নারীবিদ্বেষের প্রবণতা-কে কেবল ইসলামপন্থীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া নিয়ে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের একটা বড়ো অংশকে আমি দেখেছি ভয়াবহ নারী বিদ্বেষী, গোঁড়া ও প্রতিক্রিয়াশীল। এদের একটা বড়ো অংশ মুক্তিযুদ্ধ চোষা, প্রগতিশীল বলে নিজেদের জাহির করে। ঠিক যেমন বামাতি-আওমীদের একটা বড়ো অংশকে আমি দেখেছি প্রচন্ড রকমের হিন্দু বিদ্বেষী। যেটা আমি কখনোই হুজুরদের মধ্যে দেখি নাই। তো হেযবুতি গুলোর সাথে প্রথম সাক্ষাতেই দেশের উচ্চ-শিক্ষিত কিউট-বিপ্লবী মানসিকতা টের পেয়েছিলাম। কথায় বোঝা যাচ্ছিলো এরা ইংরেজী মিডিয়াম পড়ুয়া। প্রায়শ বাস্তবতার সংশ্রবহীন। না হলে সেনাবাহিনী কেন তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে? পরে শুনলাম এরা নাকি এজেন্সির-ই গুটি। সেটা যৌক্তিক-ও বটে! মানুষের ধর্মীয় সরলতা ও ভাবাবেগের সুযোগ নিয়ে নিজের আখের গোছানোর রীতি-তো এই দেশে বহুল চর্চিত ও পুরানা বিষয়। সে যা-ই হোক এই যে মত ও পথের মেলবন্ধন ঘটা এইটা জরুরী। এটা ব্যক্তিকে ও সমাজকে সমৃদ্ধ করে। তবে তার জন্য চাই সেই সংশ্লেষ ঘটানোর উপযুক্ত মানসিকতা ও যোগ্যতা। না হলে দেখা যায় ঈশপের গল্পের সেই কাউয়ার মতো অবস্থা হয় যে সুন্দরী প্রতিযোগীতায় গিয়ে আর সকল পক্ষীদের ছেঁটে ফেলা পালক কুঁড়িয়ে নিজের সৌন্দর্য বর্ধন করতে গিয়ে একটা কিম্ভূতকিমাকার রুপ ধারণ করে। সেই পরিণতি থেকে মহান আল্লাহ মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুন।

।। ৬।।

-------------------------------------------------------------------

ফ্যাসিবাদের রিসাইক্লিং-এ বামাতি নচ্ছারদের দায়ভার 

-------------------------------------------------------------------

 


বামাতি-আওমী ঘরানার বুদ্ধিজীবি আবুল বারাকাত একসময় তথাকথিত "মৌলবাদের অর্থনীতি" কপচিয়ে বিরাট পন্ডিত সেজেছিলেন। এরপর খোদ তার অধীনস্ত ব্যাংক-টির কি অবস্থা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। আর আজ দেখছি বিএনপির বুদ্ধিজীবি হিসেবে নিজেকে হাজির করা এই বিতর্কিত ব্যক্তি নিজ পছন্দের দলীয় প্রধানের পক্ষে ফ্যাসিজম তৈরীর বয়ান দিচ্ছেন। অথচ এই কদিন আগেও ফিডে দেখলাম "ইসলামী ফ্যাশিজম" নিয়ে এই লোক কি আবোল-তাবোল বকছে তার শিরোনাম। তথাকথিত ডিপস্টেট বা দেশী এস্টাবলিশমেন্ট যদি ২০০৮ এর এলেকশন এনজিনিয়ারিং এর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বিএনপি-কে ক্ষমতায় নিয়ে আসে তাহলে হয়তো আমরা ইনু-মেনন-বারাকাত-কাকের ভাই জাতীয় অসংখ্য বামাতি লোভী জন-সংযোগহীন জাতীয়দের ক্ষমতার নাট্যমঞ্চে পুনরার্বিভাব দেখতে পাবো।

 

।। ৭।। 

 --------------------------

বিএনপির বি-টিম

 --------------------------

 

 

রুমিন ফারহানা জামাতের এ-টিম, বি-টিম নিয়ে নানা সময় নানা কথা বলেছেন। আল্লাহর কি কুদরত! মনোনয়ন না পাওয়ায় এখন হয়তো ওনাকেও বিএনপির বি-টিম হবার খোঁটা শুনতে হবে। তবে উনি খুব সম্ভবত '১৮ এর নির্বাচনও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে করেছিলেন। তখনও সেটা জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছিলো। এবার তার মনোনয়ন না পাওয়া-টা পূর্বের জেরবার কিনা কে জানে?

 

।। ৮।। 

 --------------------------------------------

আমার বাংলাক্রান্ত ইউটিউব ফিড

 --------------------------------------------

জুলাই'২৪ এর আগে আমার ইউটিউব ফিড-টা মোটামুটি ভালোই কিউরেটেড করে নিয়েছিলাম। বস্তিপট্টির এলিট থেকে পাইক-পেয়াদা সব গায়েব হয়ে গিয়েছিলো। আল-হামদুলিল্লাহ ফর এভরিথিং। এখন রাজনীতির খবরা-খবর দেখি। এজন্য নিউজ ফিডের এই দশা। নাউযুবিল্লাহ ফর এনিথিং। মাসুদেরা আর ভালো হলো না।

Popular posts from this blog

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

The Politics of Funeral