বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ


ঋণ খেলাপীর অভিযোগের প্রতি-উত্তরে কৈফয়ত হিসেবে মান্না সাহেবের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো:

১। উনি জীবনে ব্যবসা করেন নাই। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন!
২। উনি জীবনে ১০ টা টাকা চুরি করেন নাই। তবে ওনার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যেটা কিনা ৩৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপী!
৩। যেহেতু ৭০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপীদের দায় ও দরদের বন্দোবস্ত জারী আছে সেই হিসেবে ৩৮ কোটি টাকা কোন টাকা না!
৩। উনি নিজে খুব ভালো মানুষ। কিন্তু ওনার পার্টনাররা আওমী ঋণখেলাপী লীগের সদস্য!
৪। উনি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৃত্য বরণ করতে চান না। এজন্য আমাদের সবার উচিত ওনার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপীর মামলা তুলে নিয়ে বরং সেই ঋণ রিসিডিউল করে দেয়া। তাহলে উনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং বিএনপির সাথে আঁতাত করে নির্বাচনের ফল বাগিয়ে এমপি-মন্ত্রী হবার পর সব ঋণ পরিশোধ করে দেবেন!
৫। উনি ওনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মনগড়া কথা বলতে পারবেন, কিন্তু ওনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত তথ্যভিত্তিক-বাস্তবসম্মত অভিযোগেরও বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না!
৬। ওনার সততার ছাট্টিফিকেট হচ্ছে এই যে বিগত আওমী আমলে ওনার বিরুদ্ধে কেউ কোন দুর্নীতির অভিযোগ আনে নাই!

এখন কথা হলো, যখন ওনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছিলো তখনও আসলে আমি তা বিশ্বাস করতে পারি নাই। আমি ধরে নিয়েছিলাম উনি আওয়ামী-বামাতি ঘরানার লোক হওয়ায় হয়তো সম্পর্কের খাতিরে কোন আওমী পান্ডা তার নামে ব্যবসা খুলে তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ওনার কৈফিয়তে ওনার দায়ভারের বিষয়টি সুস্পষ্ট হলো। কারন যিনি দেশের অনাচার, দুর্নীতির কথা বলে ফাটিয়ে ফেলতে পারেন, নিজের নামে করা প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপীর কায়কারবারে যদি তাঁর দায় না থাকতো তাহলে অন্তত সেই বিষয়ে ইশারা ঈঙ্গিতে হলেও জনগণের কাছে কিছু জানিয়ে রাখা ওনার কর্তব্য ছিলো। এখন তো আমার সন্দেহ হচ্ছে যে ঐ যে বাজেটের সাত লক্ষ কোটি টাকা থেকে এক লক্ষ কোটি টাকা দরিদ্র মানুষদের জন্য বরাদ্দ দেয়ার একটা আলাপ উনি তুলেছিলেন তাতে তার নিজের ব্যবসার বন্দোবস্তেরও দুরভীসন্ধি ছিলো কিনা।

ফুলার রোডের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী পাট্টি অফিস কাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক আবুল বাড়া যখন ইসলামী ব্যাংক-কে লক্ষ্য করে "মৌলবাদের অর্থনীতি" কপচাচ্ছিলেন তখন ওনার মতো সুশীলেরা কেনো তার অসারতা, ফাতরামি নিয়ে কোন আলাপ দেয় নাই তা পরবর্তী কালে আওমীদের ইসলামী ব্যাংক দখল এবং মান্নার মতো ধূর্ত লোকদের সেই ব্যাংক থেকে ঋণ বাগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। ভদ্রতার ভেকধারী এই লোকের এহেন প্রতারণার প্রেক্ষাপটে আমার সেই হাদীসের কথাই মনে পড়ছে যেখানে শেষ জমানায় সুভাষী কিন্তু কুটিল স্বভাবের মানুষের আধিক্যের ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিলো। মূলত কুফরী-তাগুতি শক্তিবর্গের মূল পূঁজি হলো আদম সন্তানের বিশ্বাস প্রবণতা, সরলতা।

এহেন মিথ্যাচার, প্রতারণা, চৌর্যবৃত্তি-দস্যুবৃত্তি-ই বামাতি রাজনীতির মূল ভিত্তি। এদের রাজনীতি, রাষ্ট্র্য বিনির্মাণের লক্ষ্যই হলো দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। '৪৭ ও '৭১ এর পর এসবই পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হয়ে আসছে। সেকুলারিজমের নামে এমন সব কালা-কানুন, বন্দোবস্ত তৈরী করা হয়েছে যে সাধারণ মানুষ চাইলেও হালাল, সৎ, নিয়মানুবর্তী জীবন যাপন করতে না পারে। এটাই জনসাধারণ-কে প্রজাসাধারণে পরিণত করবার পদ্ধতি। কেননা তখন এই দুর্নীতিবাদী রাষ্ট্র্য ব্যবস্থার মোড়লদের চেপে ধরলে তারা উল্টো জনসাধারণ-কে হাইকোর্ট দেখাতে পারে।

লক্ষ্য করলে দেখবেন যে বাংলাদেশে কোন বাম এই কথা বলেনা যে কমিউনিস্ট মতবাদ একটা খোদাদ্রোহী বস্তুসর্বস্ব মতবাদ। বরং খুব সম্ভবত প্রিন্স না কি যেনো নাম ঐ ধুরন্ধরকে তো উল্টো এক জায়গায় বলতে দেখলাম যে কমিউনিস্ট মতবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে নয়! যেখানে উনবিংশ শতকের দজ্জাল কার্ল-মার্কসের দর্শন-ই ছিলো বস্তুবাদ সর্বস্ব, যে বস্তুর উর্ধ্বে কিছু নাই, খোদা নাই, রুহ নাই, ফেরেশতা নাই, হাশর-নশর নাই, সেখানে কমিউনিজম যে ইসলাম বিরুদ্ধ নয় এটা প্রচার করাটাও দজ্জালী প্রতারণা।

এটাই বামাতি রাজনীতি। এই বামাতি রাজনীতির হাত ধরেই ভাদা ভাই সহ ভাসানী, মুজিব হয়ে সিরাজ সিকদার নিয়ে ফরহাদ মজহার-পিনাকীর সর্বশেষ সংস্করণ মাস্টার্ডমাইন্ড। এটাই দায় ও দরদের আসল বন্দোবস্ত। এটাই মুক্তিযুদ্ধ ও বাহাত্তরের সংবিধানের উদ্দিষ্টকল্প। এটাই সেকুলারিজমের প্রকৃত রুপকল্প। এই যে বামাতি মিথ্যাচারের অপরাজনীতি, লোক ভোলানোর অপরাজনীতি, চৌর্যবৃত্তির অপরাজনীতি - এটাই কালক্রমে বিএনপির রাজনীতির ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলো বলে এখন আমার মনে হচ্ছে। আর তারেক রহমান সাহেব যে এই ধরনের চোরচাপ্টা, বামাতি ভামদের দিয়ে ওনার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছেন তাতেও আর সন্দেহের অবকাশ নাই।

মান্না সাহেবের সন্তানের বয়সী হয়েও ওনার প্রতি একটা পরামর্শ থাকবে। সাংবাদিক ইলিয়াসের রিপোর্টের পর যেভাবে ওনার দলের কাবেল-টা একদম চুপ মেরে গিয়েছিলো ওনারও উচিত হবে সেভাবে ডুব দেয়া। কারন ওনাদের ভেসে উঠতে সময় লাগবে না। তারেক রহমান সাহেব আছেন। দেশের মিডিয়া পট্টিগুলো আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, নেতা আসছে!

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন