আমেরিকান ট্যাক্স পেয়ার

 

ঠিক যেমন আমেরিকার শেয়ার মার্কেট ব্যবস্থা বাংলাদেশে কাজ করে নাই, তেমনি আমেরিকার ট্যাক্স ব্যবস্থাও শুধু এই দেশেই নয় বরং কোন মুসলিম দেশেই কাজ করবে না। বিশেষ করে যখন আজকে আমেরিকার জনগণ-ই এ ব্যাপারে সচেতন হচ্ছে, আওয়াজ তুলছে। তথাপি আমেরিকা সব সময় এমন ছিলোনা। এখন তাদের পড়তি কাল। ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র্যের সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে ট্যাক্সের একটা বড়ো অংশ ব্যয়িত হয়ে আসছে। আর এর সুফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র্য নয় বরং পুরো বিশ্বই ভোগ করেছে। এই যে ইন্টারনেট এটা ডার্পার প্রজেক্ট। প্রযুক্তির এমন জিনিস আপনি কম-ই পাবেন যেখানে ডার্পার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নাই। সুতরাং ট্যাক্সের সূত্রে মার্কিন বিরোধী আবজাব কথা বলার সুযোগ অন্তত বানলাদের নাই। বানলারা আগামী পাঁচশ বৎসর পর যেই আলাপ দিবে আমেরিকানরা তিনশ বছর আগেই সেই আলাপ তুলে তার একটা দফারফা করে ফেলেছে। তাদের জীবন দর্শন, রাষ্ট্র্য কাঠামোর সাথে এসব শেয়ার মার্কেট, ট্যাক্সিং ব্যবস্থা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যেহেতু তারা ওয়াকিবহাল যে তারা কি করছে তাই এগুলো তাদের ক্ষেত্রে কাজে দেয়। ঠিক একই জিনিস যখন দেশে আমদানী করা হয় তখন তা হয়ে যায় গরীবের সালমান খান। একদিকে সরকারী চাকুরেরা নবাব ধেই ধেই করে নবাব হতে থাকে। অপরিদকে খেটে খাওয়া মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের এই দুর্দশার পেছনে অন্যতম কারন হলো রাশিয়া, পূর্ব-ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসা তালেবরেরা। স্মরণ করুন বিগত তিরিশ বৎসর যাবৎ বাজেট আলোচনায় কোন মৌলিক পার্থক্য দেখেছেন দেখেন নাই। দেখার প্রত্যাশা করাটাও বোকামী। কারন ছাগল দিয়ে হালচাষ হয়না। ধর্মহীন-ইতরের জাত যতো মেধাবী-ই হোক তাদের দিয়েও একটি উন্নত রাষ্ট্র্যের বিনির্মাণ অসম্ভব। আমি মার্কিনীদের সাথে একেবারে তাদের লোকাল কোম্পানীতে কাজ করেছি। আমাকে যদি একটা মার্কিন কোম্পানীর দ্বিগুন বেতন-ও দেয়া হয় তথাপি আমি কোন বানলার সাথে, কোন বানলা কোম্পানীতে যেচে পড়ে আগ্রহ নিয়ে কাজ করবো না। কারন বানলারা ইতর-অসৎ প্রকৃতির। কিন্তু এদের দেমাগটা টনটনে। এদের চাপার জোরে টেকা দায়। অন্যদিকে আমেরিকানরা মোটা দাগে সভ্য ও সৎ। অত্যন্ত পরিশ্রমী। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা উদ্যোগী। আমার জীবনে আমি এমন কোন প্রোডাক্টের কল্পনা করি নাই যা নিয়ে পরবর্তীতে কোন না কোন মার্কিন কোম্পানী-কে কাজ করতে দেখেছি। সন্দেহ নাই যে বর্তমানে তাদের ঘাড়ে জায়নবাদীরা চেপে বসায় তারা উদভ্রান্তের মতো আচরণ শুরু করেছে। তারপরও মার্কিন নেতৃত্বের বিকল্প এখনও তৈরী হয় নাই। চীন তো নয়ই। যে ডীপসিক নিয়ে এতো হৈচৈ তা যে মার্কিনী কোম্পানীগুলো থেকেই চুরি করা এতো এখন স্পষ্ট। সুতরাং চীনা জিনিস কতো সস্তা সেই আলাপ দিয়া লাভ নাই। চুরি করা, নকল করা জিনিস সস্তাই হয়। দেড় টনি চোপার বানলারা যেমন সস্তা। একজনে পরিশ্রম করে একটা জিনিস বানায়, সারা জীবন ধরে রক্ত-পানি করে একটা ব্যবসা দাঁড় করায়। এরপর দশ জনে মিলে আইন আদালত সংবিধান মুক্তিযুদ্ধ করে সেটা খেয়ে দেয়। ইসলামী ব্যাংক ও জামায়াতে ইসলামীর হাতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো। এজন্যই বলি যেভাবে আবার পূর্ণোদ্যমে শাদিন সংগম শুরু হয়েছে তাতে উপরের যোগ ব্যায়াম-টা শিখে রাখতে পারেন। ভবিষ্যতে কাজে দেবে। মনে করেন সিলভা মেথডে মহাজাতকের কোলে উঠে ধ্যান করছেন। কি সুন্দর মনের বাড়ী! মনের ডাইনিং টেবিল! থরে থরে ফলমূল সাজানো। বসে আছেন আলীশান চেয়ারে। ওমা! পাশেই আরেক বানলা বসা। মানুষ ছোট কিন্তু মুখের হাঁ বড়ো। তৎক্ষণাৎ আপনি বুঝে গেলেন এই ব্যাটা টেক্স কালেক্টর। হঠাৎ-ই সে গোগ্রাসে সামনের পাতে রাখা খাবার গিলতে লাগলো। মূহুর্তেই শেষ। এরপর তার নজর গেলো টেবিলে রাখা অন্যান্য পাতে। সেগুলো-ও যখন শেষ তার দৃষ্টি তখন আপনার পাতে। কিন্তু অতোটুকু-তে কি আর তার ক্ষুধা মেটে? তাই সে জোর করে আপনার মুখ হাঁ করে তাতে হাত ঢুকিয়ে দিলো! ভয় পেয়ে এক চিৎকারে আপনার ধ্যান গেলো ভেঙ্গে। আপনি লক্ষ্য করলেন কিভাবে যেনো আপনি থুতনি মাটিতে লাগিয়ে পাছা উৎ করে ঐ ছবির ভঙ্গিতে কসরত করছেন। এটার নামই "আমেরিকান ট্যাক্স পেয়ার"। শিখে রাখুন। ভবিষ্যতে কাজে দেবে।

Popular posts from this blog

The Politics of Funeral

বামাতি রাজনীতি থেকে উৎসারিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরুপ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে প্রলপন