ডাল মে কুছ কালা হ্যায়
বিগত নির্বাচনের ক্ষণিক পূর্বেই যখন হুজুরপট্টির ধান্ধাবাজগুলো কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধ করবার সমাবেশ আয়োজন করলো তখনই মন বলছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। পিলখানা বিদ্রোহের পর কয়েক বছর পর্যন্ত সারা দেশের রাজনৈতিক ময়দানে একটা গুমোট ভাব বিরাজ করছিলো। জামায়াতের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সময় রাজনৈতিক কার্যক্রমও প্রায় সীমিত হয়ে গিয়েছিলো। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে খুব সম্ভবত খতমে নবুওয়্যতের ব্যানারে কোন একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে সমাবেশের আয়োজন করে। তখনও আমার মনে ডাক দিয়েছিলো, 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'। জুলাই'২৪ পরবর্তীতে স্বঘোষিত ঘেরান মুফতি গাবগাছি পীর নিজেই ঐ কার্যক্রমের কৃতিত্ব দাবী করেছিলো। সুতরাং আমি চাচ্ছিলাম না যে হুজুরপট্টির এইসব বাটপারদের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে জামায়াত যোগদান করুক। কেননা কাদিয়ানী ইস্যুতে নেতৃত্বের প্রধান হকদার জামায়াতে ইসলামী। এই ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে লিখিত কিতাব, 'কাদিয়ানিকি মাসলাহা' রচনা ও তৎপরবর্তী জনবিক্ষোভের সময়ে সৃষ্ট সহিংসতার দায়ে ফাঁসিয়ে আইয়্যুবের সময় আল-উস্তাদ আল-ইমাম সাইয়্যেদ আবুল আ'লা-কে ফাঁসী দেবার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত হয়েছিলো। কাজেই এই ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বড়জোর অন্য কারো আন্দোলনের প্রতি সংহতি জ্ঞাপনপূর্বক উপযুক্ত সময়ে এই ইস্যু নিয়ে কাজ করবার সংকল্প ব্যক্ত করাই যথেষ্ট ছিলো। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার স্বল্প জ্ঞানে আমি মনে করি যে আইয়্যুব সরকারের সময়ও ঐ ইস্যু নিয়ে জামায়াতের মাতামাতি করা সঠিক ছিলোনা। অধুনা প্রতিষ্ঠিত একটি মুসলিম রাষ্ট্র্য যাকে গিলে খাওয়ার জন্য একটি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র্য হাঁ করে বসে আছে, যার নিজের সামাজিক ও রাষ্ট্র্যীয় কাঠামোগুলো তখনও পোক্ত হয়ে ওঠেনি সেই সময় কাদিয়ানী এমন কোন অস্তিত্বমূলক সংকট ছিলোনা যার জন্য প্রাণপাত করতে হবে। সে যাই হোক। দিল্লী চাটা হুজুর পট্টির বেয়াদব গুলো জামায়াতের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ত্যাগী নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সাথে কি ব্যবহার করেছে তাতো সবাই দেখেছে। কথায় আছে, প্যাঁচা রাষ্ট্র্য করে দেয় পেলে কোনো ছুতা, জানোনা আমার সঙ্গে সূর্যের শত্রুতা? এটাতো নিশ্চিত যে চদুপুরীরা খান সাহেবের সাথে দুর্ব্যবহার না করলেও কাদিয়ানী ইস্যুতে জামায়াতের ঘোষনার কোন পরিবর্তন হতো না। কিন্তু জাতীয় বাটপার দলের উর্দুভাষী নেতাকে এতো চেটেও কি তারা কিছু আদায় করতে পেরেছ? আর বিশেষ পরিস্থিতির সরকারের কাছে তারা এই নিয়ে দাবী জানাতে পারলেও, তাদেরই সমর্থিত বর্তমান সরকারের কাছে এই দাবী এখনও পর্যন্ত জানাচ্ছেনা কেনো? নাকি দিল্লী থেকে "নারায়ণে তকবীর! জয় বাংলা!!" বলে গাঞ্জা-এ-হিন্দ এর পক্ষে তেব্রো আন্দুলোন গড়ে তুলবার কোন সিগনাল এখনো আসে নাই?