গাযযার খলিল হায়া বনাম বাংলার বেহায়া
গত বছরের শেষের দিকে তথাকথিত যুদ্ধ-বিরতি চুক্তির দেন দরবারের সময় খবর রটেছিলো যে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত দৌত্যক টম বারাক হতবাক হয়েছিলেন যখন তিনি দেখলেন যে দেনদরবারের কোন পর্যায়েই হামাসের প্রতিনিধি দলের নেতা খলিল আল-হাইয়া হামাসের যোদ্ধা হিসেবে রাফাহ-তে আটকে পড়া তাঁর একমাত্র জীবিত সন্তানের জীবন রক্ষার ব্যাপারে কোন দাবী-দাওয়া পেশ করছেন না। আজ সেই সন্তানেরও শাহাদতের খবর বের হলো। এই সে-ই হামাস যাদের সম্পর্কে বিগত তিনটি বৎসর যাবৎ আরব শাসকদের ঘেঁটুপুত্রেরা কুৎস রটনা করে যাচ্ছিলো এই বলে যে গাযযায় যখন গণহত্যা চলছে তখন হামাসের নেতৃবৃন্দগণ নাকি তুরস্কের ফাইভ স্টার হোটেলে মৌজ-ফূর্তি করে বেড়াচ্ছেন! এ যেনো আওমী আমলের শুরুর দিকে তুরস্ক ও এরদোগানের বিরুদ্ধে কুৎস রটানোর অপকৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। মরহুম নিজামী সাহেবের বিচারিক হত্যাযজ্ঞের পর যখন মান্যবর প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাঁর স্বভাবসূলভ অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরুপ বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তখন তিনি ভারতীয় হিন্দুদের সেবাদাস, "মুক্তিযুদ্ধের" নেতৃত্বদানকারী আওমীদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। তুরস্ক ও এরদোগানের প্রতি আওমীরা যে থুতু ছিটিয়েছিলো তা পরবর্তীতে আমরা তাদেরকে চেটে খেতে দেখেছি। বিগত নির্বাচনের সময়ও আমরা এই অপরাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখেছিলাম যখন বিএনপির ছাপড়ি গুলো তাদের লন্ডন পলাতক নেতার দেশে ফিরতে না পারবার অক্ষমতা ঢাকবার জন্য তুর্কী গোয়েন্দা বাহিনী নিয়ে সস্তা গল্প ফেঁদেছিলো। আওমীদের নিজের থুতু চেটে খেতে নিদেনপক্ষে কয়েক বছর তো লেগেছিলোই। বিশেষ করে কেবলমাত্র দাদাবাবুদের ধুতির তলে থেকে বাংলাদেশকে শোষণ করবার দিবাস্বপ্ন যখন দু:স্বপ্নে পরিণত হচ্ছিলো তখন মার্কিন থেকে শুরু করে তুরস্ক এমনকি তলে তলে পাকিস্তান চাটার প্রচেষ্টাও বাদ যায়নি। কিন্তু লন্ডনী মুফতীর নেতৃত্বে বিএনপি মাস না ঘুরতেই পল্টি নিয়েছে। মহান আল্লাহর কি কুদরত! খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে নাকি তারা নিজেদের মিথ্যাবাদীতার, প্রতারণার, বিশ্বাসঘাতকতার আত্ম-স্বীকৃতি দিয়েছে। সেনাপট্টি থেকে গজিয়ে ওঠা দলের থেকে এর চাইতে ভালো কিছু আশা করা আহমকি বৈকি! স্মরণ করুন যে পাকিস্তান ভাঙ্গার অন্যতম কুশীলব জিয়া ভুয়া নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন যে তিনি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে তুলবেন। এরকম অরাজনৈতিক কথা বিলাতী কুফরী ধারায় গড়ে তোলা সেনাপট্টির ঘেঁটুদের পক্ষেই বলা সম্ভব। এদের কাছে জাতির সাথে প্রকাশ্যেকৃত ওয়াদার বরখেলাফ করাটাই "রাজনৈতিক কৌশল"। ঐযে কিএক্টা উদ্ভট শব্দ ইদানীং চালু হয়েছে বাংলাদের মুখে ... "মাস্টারস্ট্রোক"। LOL। তোরা পারোস-ও বটে। সুতরাং যে তুরস্ক-এরদোগান-কে পরোক্ষভাবে আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করবার আহমকি তারেক জিয়া করেছিলেন, সেই তুরস্কের আনাতোলিয়ার সম্মেলনেই কুঁই কুঁই করে নেজ গুটিয়ে তার দলকে হাজিরা দিতে হয়েছে। তারেক জিয়া ইসলামাবাদে জন্মেছিলেন বলে চাউর আছে। বাংলাদেশকে শুষে ছোবড়া বানিয়েছে যে বিলেত সেই বিলাতে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সময়টাতে সেদেশের নাগরিকত্বও তিনি গ্রহণ করেছিলেন বলেও চাউর আছে। জুলাই'২৪ পরবর্তী ভারত বিরোধী উত্তাল জনরোষের স্লোগান "দিল্লী না ঢাকা" এর বিপরীতে লন্ডনী মুফতি "দিল্লী নয়, পিন্ডী নয়" শ্লোগান জুড়ে দিয়েছিলেন। এখন ঘুরেফিরে আকাশ প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সেই পিন্ডীর সাথেই চুক্তি করতে হচ্ছে। আসলে বাংলা হিসেবে জন্ম নেবার অনেক দায়। একেতো ধর্মহীন, তার ওপর হীনজাত। ফলত: খাল কেটে কুমীর আনবার মতো উল্লুকি-ই এখানে রাজনীতি। যে প্রশিক্ষণ, যে প্রযুক্তি এক পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিনা পয়সায় মিলতো, তা এখন জোগান দিতে হচ্ছে পয়সা দিয়ে, তাও আবার বিদেশীদের ঋণে। এটাই বাংলাদেশ ফার্স্ট। প্রাক্তন শাহবাগী, চীনপন্থী খোদাদ্রোহী কমিউনিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য একথা দাবী করেছিলেন যে তারেক জিয়ার সাথে কথোপকথনে পিনাকীর জেরার মুখে লন্ডনী মুফতি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের বিপরীতে তার অসহায়ত্বের সাফাই গেয়ে বলেছিলেন যে অন্যথা তার মেয়ে দেশে আসতে পারবেনা। এটাই বাংলাদেশ ফার্স্টের মাহাত্ম্য! ভেবেছিলাম এই অভিশপ্ত জনপদ ও তার নচ্ছার অধিবাসীদের নিয়ে আর কোন কথা বলবো না। কিন্তু গাযযার জন্য, আল-আকসার জন্য, ইসলামের জন্য, উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য খলিল আল-হাইয়ার চার চারটি পুত্র সন্তান বিকিয়ে দেবার ঘটনায় হঠাৎ বাংলার বেহায়াদের কথা মনে পড়ে গেলো। এক সুতীব্র ঘৃণাবোধ এই সকল স্বজাতীয়দের প্রতি প্রবল বিবমিষার উদ্রেক করলো। আর কতোকাল এসব ধর্মহীন, হীনজাত ছ্যাঁচড়দের দ্বারা এই জনপদের নিরীহ, সরলপ্রাণ বিশ্বাসীরা প্রতারিত ও উৎপীড়িত হতে থাকবে সেটাই এখন ভাবনার বিষয়। কিন্তু এও সত্য যে মহান আল্লাহ নিকৃষ্ট জাতির ওপর নিকৃষ্টতর শাসক চাপিয়ে দেন। গাযযাবাসীদের দেখুন! আহমেদ ইয়াসীন-ই কি তাঁদের যথোপযুক্ত ইমাম নন? বাংলাদের দেখুন! মুফতি চটি কিংবা হাবু নগরী, চদুপুরী, চর্মনাই কিংবা গাবগাছি পীর ইত্যকার হাফিজাউল্লুক-ই কি তাদের ধর্মাবতার হিসেবে আবির্ভূত হবার কথা নয়? আলাইসাল্লা- হুবি আহকামিল হা-কিমীন! নিশ্চই গাযযাবাসীদের জন্য সিনওয়ার-দেইফের নেতৃত্ব মানানসই। তুর্কীদের জন্য এরদোগান মানাসই। আর বাংলাদের জন্য মুজিবর-জিয়াউর।